হাদির নাম মুছে আগের নামেই ফিরছে ঢাবির ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:২৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত হয়েছে

আজ বুধবার দুপুরে শেখ মুজিবুর রহমান হলের মূল ফটকে থাকা ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি মুছে ফেলার কাজ শুরু হতে দেখা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) মো. মুসলিমুর রহমান।

মো. মুসলিমুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নাম পরিবর্তনের দাবি জানাই। তখন প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে হাদি ভাইয়ের হত্যার পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর নাম লেখার দাবি আসে।’

হলের নামকরণ নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান সম্পর্কে মুসলিমুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো ফ্যাসিবাদের নামে হলের নামকরণের পক্ষে নই। এ বিষয়ে আমরা উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলব এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলাম। এ কারণে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবগত নই। তবে বিষয়টি জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সেখানে (হল গেটে) এখনো নতুন কোনো নাম লেখা হয়নি। বর্তমানে হলে পরিচ্ছন্নতার কাজ, দোকানের সামনের ঢালাই ও অন্যান্য সংস্কারকাজ চলছে। এসব কাজের অংশ হিসেবেই সেখানে কিছু পরিবর্তন করা হচ্ছে কি না, সেটিও আমি বিস্তারিতভাবে জেনে দেখছি।’

নামফলক থেকে নাম মোছার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন গণমাধ্যমকে বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হল নামটি শিক্ষার্থীরা লিখেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নামের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাই হল প্রশাসন আগের নামটিই প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে হলটির নাম পরিবর্তনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রথমে ‘কাজী নজরুল ইসলাম হল’ লেখা একটি ব্যানার টাঙানো হয়। পরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর তাঁর নামে হলটির নামকরণের দাবি ওঠে।

এরপর হল সংসদের পক্ষ থেকে হলটির নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় হলের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরও সংগ্রহ করা হয়।

নাম পরিবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্য পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও সিনেটের প্রক্রিয়ায় যায়। গত ২৯ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা কয়েকটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিষয়টি আবার সিন্ডিকেটে পাঠানোর কথা জানানো হয়।

এর প্রতিবাদে ওই সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর পাঁচ সদস্য—ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মাহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ ও সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।

এদিকে আজ হলের ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি মুছে আবার ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম লেখার কাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন ইউনিভার্সিটি অব মালয়ার ব্রাইট স্কলারশিপ ২০২৭-এ। পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণার জন্য এই বৃত্তি দেওয়া হবে। মালয়েশিয়ার নাগরিকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এতে আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) হোস্টেল রয়েছে পাঁচটি। এসব হোস্টেলের আয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ করা হয়নি স্টক রেজিস্টার, বিল-ভাউচার। গত পাঁচ অর্থবছরে (২০২১–২২ থেকে ২০২৫–২৬) আয়ের ৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে গড় পাসের হার ৪৪ দশমিক ২৭ শতাংশ।

জনপ্রিয় টার্গেট

বগুড়ার শেরপুর: হাজারো মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে চক্র

হাদির নাম মুছে আগের নামেই ফিরছে ঢাবির ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’

প্রকাশ: ১২:২৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

আজ বুধবার দুপুরে শেখ মুজিবুর রহমান হলের মূল ফটকে থাকা ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি মুছে ফেলার কাজ শুরু হতে দেখা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) মো. মুসলিমুর রহমান।

মো. মুসলিমুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নাম পরিবর্তনের দাবি জানাই। তখন প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে হাদি ভাইয়ের হত্যার পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর নাম লেখার দাবি আসে।’

হলের নামকরণ নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান সম্পর্কে মুসলিমুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো ফ্যাসিবাদের নামে হলের নামকরণের পক্ষে নই। এ বিষয়ে আমরা উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলব এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলাম। এ কারণে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবগত নই। তবে বিষয়টি জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সেখানে (হল গেটে) এখনো নতুন কোনো নাম লেখা হয়নি। বর্তমানে হলে পরিচ্ছন্নতার কাজ, দোকানের সামনের ঢালাই ও অন্যান্য সংস্কারকাজ চলছে। এসব কাজের অংশ হিসেবেই সেখানে কিছু পরিবর্তন করা হচ্ছে কি না, সেটিও আমি বিস্তারিতভাবে জেনে দেখছি।’

নামফলক থেকে নাম মোছার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন গণমাধ্যমকে বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হল নামটি শিক্ষার্থীরা লিখেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নামের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাই হল প্রশাসন আগের নামটিই প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে হলটির নাম পরিবর্তনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রথমে ‘কাজী নজরুল ইসলাম হল’ লেখা একটি ব্যানার টাঙানো হয়। পরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর তাঁর নামে হলটির নামকরণের দাবি ওঠে।

এরপর হল সংসদের পক্ষ থেকে হলটির নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় হলের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরও সংগ্রহ করা হয়।

নাম পরিবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্য পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও সিনেটের প্রক্রিয়ায় যায়। গত ২৯ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা কয়েকটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিষয়টি আবার সিন্ডিকেটে পাঠানোর কথা জানানো হয়।

এর প্রতিবাদে ওই সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর পাঁচ সদস্য—ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মাহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ ও সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।

এদিকে আজ হলের ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি মুছে আবার ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম লেখার কাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন ইউনিভার্সিটি অব মালয়ার ব্রাইট স্কলারশিপ ২০২৭-এ। পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণার জন্য এই বৃত্তি দেওয়া হবে। মালয়েশিয়ার নাগরিকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এতে আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) হোস্টেল রয়েছে পাঁচটি। এসব হোস্টেলের আয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ করা হয়নি স্টক রেজিস্টার, বিল-ভাউচার। গত পাঁচ অর্থবছরে (২০২১–২২ থেকে ২০২৫–২৬) আয়ের ৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে গড় পাসের হার ৪৪ দশমিক ২৭ শতাংশ।