বাসর রাতে নামাজ পড়া কি জরুরি?

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৬:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ৩৬ বার পঠিত হয়েছে

বিয়ের প্রথম রাতে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করার রীতি মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। অনেক পরিবারে এটি নিয়মিতভাবে পালন করা হলেও এ নিয়ে নানা প্রশ্নও রয়েছে।

কেউ এটিকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নত মনে করেন, আবার কেউ বিদআত বলে মন্তব্য করেন। প্রকৃতপক্ষে কোরআন, হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের আমলের আলোকে বিষয়টির শরয়ি অবস্থান কী তা জানা জরুরি।

ইসলামী গবেষকদের মতে, সহিহ ও নির্ভরযোগ্য হাদিসে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বাসর রাতে বিশেষভাবে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেছেন বা সাহাবিদের এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই এ আমলকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ বা বাধ্যতামূলক ইবাদত হিসেবে মনে করার সুযোগ নেই।

তবে এ বিষয়ে একজন বিশিষ্ট সাহাবি, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ইসলামী গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

বর্ণনায় এসেছে, এক ব্যক্তি তার কাছে জানালেন যে তিনি সদ্য বিয়ে করেছেন এবং আশঙ্কা করছেন, তার স্ত্রী হয়তো তাকে অপছন্দ করতে পারেন। জবাবে ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ভালোবাসা ও সম্প্রীতি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, আর পারস্পরিক বিদ্বেষ ও বিচ্ছিন্নতা শয়তানের প্ররোচনার ফল। এরপর তিনি পরামর্শ দেন, স্ত্রী প্রথমবার ঘরে এলে দুজনে একসঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে এবং আল্লাহর কাছে দাম্পত্য জীবনের বরকত কামনা করতে।

তিনি নামাজ শেষে নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়ারও পরামর্শ দেন-

اللَّهُمَّ بَارِكْ لِي فِي أَهْلِي، وَبَارِكْ لَهُمْ فِيَّ، وَارْزُقْنِي مِنْهُمْ، وَارْزُقْهُمْ مِنِّي، اللَّهُمَّ اجْمَعْ بَيْنَنَا مَا جَمَعْتَ إِلَى خَيْرٍ، وَفَرِّقْ بَيْنَنَا إِذَا فَرَّقْتَ إِلَى خَيْرٍ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লি ফি আহলি, ওয়া বারিক লাহুম ফিয়্যা, ওয়ারযুকনি মিনহুম, ওয়ারযুকহুম মিন্নি। আল্লাহুম্মাজমা‘ বাইনানা মা জামা‘তা ইলা খাইর, ওয়া ফাররিক বাইনানা ইযা ফাররাকতা ইলা খাইর।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার স্ত্রীর মধ্যে আমার জন্য বরকত দান করুন এবং আমার মধ্যে তার জন্য বরকত দান করুন। আমাকে তার পক্ষ থেকে কল্যাণ ও রিজিক দান করুন এবং তাকেও আমার পক্ষ থেকে রিজিক দান করুন। হে আল্লাহ! যতদিন আমাদের একত্রে রাখবেন, কল্যাণের ওপর একত্রে রাখুন। আর যখন আমাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাবেন, তখন তা যেন কল্যাণের সঙ্গেই হয়।

এই বর্ণনাটি মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক (হাদিস: ১০৪৬০) এবং আল-মু’জামুল কাবীর-এ উল্লেখ রয়েছে।

ফকিহ ও ইসলামী আইনজ্ঞদের একটি বড় অংশ এই বর্ণনার ভিত্তিতে মত দিয়েছেন, বাসর রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব বা প্রশংসনীয় আমল। অর্থাৎ, এটি পালন করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াবের আশা করা যায়।

তবে আলেমরা একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, এ নামাজকে ফরজ, ওয়াজিব বা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ মনে করা ঠিক নয়। কারণ এ বিষয়ে সহিহ হাদিসে সরাসরি কোনো নির্দেশ নেই। তাই কেউ এ আমল না করলে তার ওপর কোনো গুনাহ বর্তাবে না।

ইসলামের শিক্ষা হলো যে আমল দলিল দ্বারা মুস্তাহাব হিসেবে প্রমাণিত, তাকে বিদআত বলা যেমন উচিত নয়, তেমনি সেটিকে বাধ্যতামূলক ইবাদত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও সঠিক নয়। তাই বাসর রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে চাইলে তা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দাম্পত্য জীবনে বরকত কামনার নিয়তে করা যেতে পারে। আর কেউ তা না করলেও ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে তিনি গুনাহগার হবেন না।

বাসর রাতে নামাজ পড়া কি জরুরি?

প্রকাশ: ০৬:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

বিয়ের প্রথম রাতে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করার রীতি মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। অনেক পরিবারে এটি নিয়মিতভাবে পালন করা হলেও এ নিয়ে নানা প্রশ্নও রয়েছে।

কেউ এটিকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নত মনে করেন, আবার কেউ বিদআত বলে মন্তব্য করেন। প্রকৃতপক্ষে কোরআন, হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের আমলের আলোকে বিষয়টির শরয়ি অবস্থান কী তা জানা জরুরি।

ইসলামী গবেষকদের মতে, সহিহ ও নির্ভরযোগ্য হাদিসে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বাসর রাতে বিশেষভাবে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেছেন বা সাহাবিদের এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই এ আমলকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ বা বাধ্যতামূলক ইবাদত হিসেবে মনে করার সুযোগ নেই।

তবে এ বিষয়ে একজন বিশিষ্ট সাহাবি, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ইসলামী গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

বর্ণনায় এসেছে, এক ব্যক্তি তার কাছে জানালেন যে তিনি সদ্য বিয়ে করেছেন এবং আশঙ্কা করছেন, তার স্ত্রী হয়তো তাকে অপছন্দ করতে পারেন। জবাবে ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ভালোবাসা ও সম্প্রীতি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, আর পারস্পরিক বিদ্বেষ ও বিচ্ছিন্নতা শয়তানের প্ররোচনার ফল। এরপর তিনি পরামর্শ দেন, স্ত্রী প্রথমবার ঘরে এলে দুজনে একসঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে এবং আল্লাহর কাছে দাম্পত্য জীবনের বরকত কামনা করতে।

তিনি নামাজ শেষে নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়ারও পরামর্শ দেন-

اللَّهُمَّ بَارِكْ لِي فِي أَهْلِي، وَبَارِكْ لَهُمْ فِيَّ، وَارْزُقْنِي مِنْهُمْ، وَارْزُقْهُمْ مِنِّي، اللَّهُمَّ اجْمَعْ بَيْنَنَا مَا جَمَعْتَ إِلَى خَيْرٍ، وَفَرِّقْ بَيْنَنَا إِذَا فَرَّقْتَ إِلَى خَيْرٍ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লি ফি আহলি, ওয়া বারিক লাহুম ফিয়্যা, ওয়ারযুকনি মিনহুম, ওয়ারযুকহুম মিন্নি। আল্লাহুম্মাজমা‘ বাইনানা মা জামা‘তা ইলা খাইর, ওয়া ফাররিক বাইনানা ইযা ফাররাকতা ইলা খাইর।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার স্ত্রীর মধ্যে আমার জন্য বরকত দান করুন এবং আমার মধ্যে তার জন্য বরকত দান করুন। আমাকে তার পক্ষ থেকে কল্যাণ ও রিজিক দান করুন এবং তাকেও আমার পক্ষ থেকে রিজিক দান করুন। হে আল্লাহ! যতদিন আমাদের একত্রে রাখবেন, কল্যাণের ওপর একত্রে রাখুন। আর যখন আমাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাবেন, তখন তা যেন কল্যাণের সঙ্গেই হয়।

এই বর্ণনাটি মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক (হাদিস: ১০৪৬০) এবং আল-মু’জামুল কাবীর-এ উল্লেখ রয়েছে।

ফকিহ ও ইসলামী আইনজ্ঞদের একটি বড় অংশ এই বর্ণনার ভিত্তিতে মত দিয়েছেন, বাসর রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব বা প্রশংসনীয় আমল। অর্থাৎ, এটি পালন করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াবের আশা করা যায়।

তবে আলেমরা একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, এ নামাজকে ফরজ, ওয়াজিব বা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ মনে করা ঠিক নয়। কারণ এ বিষয়ে সহিহ হাদিসে সরাসরি কোনো নির্দেশ নেই। তাই কেউ এ আমল না করলে তার ওপর কোনো গুনাহ বর্তাবে না।

ইসলামের শিক্ষা হলো যে আমল দলিল দ্বারা মুস্তাহাব হিসেবে প্রমাণিত, তাকে বিদআত বলা যেমন উচিত নয়, তেমনি সেটিকে বাধ্যতামূলক ইবাদত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও সঠিক নয়। তাই বাসর রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে চাইলে তা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দাম্পত্য জীবনে বরকত কামনার নিয়তে করা যেতে পারে। আর কেউ তা না করলেও ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে তিনি গুনাহগার হবেন না।