শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা নিয়ে ইসলামের বিধান কী

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:২১:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত হয়েছে

উত্তর: বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়ির সেবাযত্ন করা নিয়ে আমাদের সমাজে বহু পরিবারে নানা ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। সাধারণ প্রথার কারণে অনেক সময় পুত্রবধূর ওপর তাঁদের সেবাশুশ্রূষা, রান্নাবান্না ও গৃহস্থালির যাবতীয় কাজের বাধ্যতামূলক প্রত্যাশা করা হয়। এ বিষয়ে ইসলামের প্রকৃত বিধান কী এবং একটি সুন্দর ও শান্তিময় পরিবার গঠনে স্বামী-স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির পারস্পরিক করণীয়ই-বা কী, তা পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্বামীদের উদ্দেশে ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।’ (সুরা নিসা: ১৯)। এই আয়াতে স্ত্রীদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পারিবারিক সৌহার্দ্য ও উত্তম আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিনদের মধ্যে ইমানের দিক দিয়ে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর এবং যে তার পরিবারের (স্ত্রীর) কাছে সবচেয়ে বেশি উত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৬১২)

ইসলামের মূল শিক্ষা হলো—দাম্পত্য ও পারিবারিক সম্পর্ক কোনো বলপ্রয়োগ বা নিয়মের বেড়াজালে নয়, বরং পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।

উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘জামিয়া উলুমিল ইসলামিয়া বানুরি টাউন’-এর দারুল ইফতা থেকে এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। ফতোয়ায় বলা হয়েছে, পুত্রবধূর ওপর শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বাধ্যতামূলক বা ওয়াজিব নয়।

তবে স্বামীর মা-বাবাকে নিজের মা-বাবার স্থানে বিবেচনা করে তাঁদের সেবা করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। যদি কড়া আইনি বা অধিকারের হিসাব কষা হয়, তবে এমন বহু বিষয় রয়েছে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে স্বামীর ওপরও সরাসরি আবশ্যক নয়, কিন্তু তবু তিনি স্ত্রীকে ভালোবেসে সেসব অধিকার বা সুযোগ দিয়ে থাকেন। তাই দাম্পত্যজীবন শুধু কঠোর আইন বা শরিয়তের ফরজ-ওয়াজিবের মাপকাঠিতে পরিচালিত না হয়ে বরং পারস্পরিক আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার হাত ধরে চলা উচিত। (ফতোয়া নং: ১৪৪৫১১১০২০৯৬)

শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণ ও তাঁদের মৌলিক সেবাযত্ন করার মূল দায়িত্বটি মূলত তাঁদের নিজেদের সন্তানের (ছেলের)। তাই পুত্রবধূকে জোরপূর্বক সেবায় বাধ্য করা বা এই নিয়ে তাঁর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।

একইভাবে শ্বশুর-শাশুড়িরও উচিত পুত্রবধূকে নিজের ঘরের একজন পরবাসী বা সেবক না ভেবে নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করা, তাঁর ছোটখাটো সীমাবদ্ধতাগুলোকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা এবং সম্মান দেওয়া।

সংক্ষেপে বলা যায়, শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা শরিয়তের কোনো বাধ্যতামূলক বাধ্যবাধকতা বা ফরজ দায়িত্ব নয়। তবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, নৈতিকতা এবং স্বামীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সামর্থ্য অনুযায়ী হাসিমুখে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো উত্তম চরিত্রের পরিচায়ক। পারস্পরিক সম্মান, ছাড় দেওয়ার মানসিকতা এবং আন্তরিক সহযোগিতাই একটি পরিবারে স্থায়ী শান্তি ও সুখ এনে দিতে পারে।

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি খালিদ কাসেমি, ইসলামবিষয়ক গবেষক

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩০ অক্টোবর ২০২৬

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩০ অক্টোবর ২০২৬

নামাজ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।

সুরা ইয়াসিন সম্পর্কে যা জানা জরুরি

সুরা ইয়াসিন সম্পর্কে যা জানা জরুরি

সুরা ইয়াসিন পবিত্র কোরআনের ৩৬তম সুরা। এই সুরাকে পবিত্র কোরআনের হৃৎপিণ্ড বলা হয়। ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসসমূহ, যেমন তাওহিদ, রিসালাত এবং পরকাল সম্পর্কে এই সুরায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও ছন্দময় ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে। মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরাটির আয়াত সংখ্যা ৮৩ এবং রুকু সংখ্যা ৫।

সুরা রহমানের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব

সুরা রহমানের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব

সুরা রহমানে আল্লাহর অসীম রহমত, সৃষ্টির বিস্ময়কর মহিমা এবং মানুষ ও জিন জাতির প্রতি তাঁর অগণিত নেয়ামতের কথা অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছে। সুরাটির বারবার পুনরাবৃত্ত আয়াত ‘ফাবিআইয়ি আলাই রাব্বিকুমা তুকাজজিবান’ (অতএব তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?) মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি…

জনপ্রিয় টার্গেট

রাজধানীর রামপুরা ব্রিজে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় চাপা পড়ে পথচারীর মৃত্যু

শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা নিয়ে ইসলামের বিধান কী

প্রকাশ: ০৮:২১:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

উত্তর: বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়ির সেবাযত্ন করা নিয়ে আমাদের সমাজে বহু পরিবারে নানা ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। সাধারণ প্রথার কারণে অনেক সময় পুত্রবধূর ওপর তাঁদের সেবাশুশ্রূষা, রান্নাবান্না ও গৃহস্থালির যাবতীয় কাজের বাধ্যতামূলক প্রত্যাশা করা হয়। এ বিষয়ে ইসলামের প্রকৃত বিধান কী এবং একটি সুন্দর ও শান্তিময় পরিবার গঠনে স্বামী-স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির পারস্পরিক করণীয়ই-বা কী, তা পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্বামীদের উদ্দেশে ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।’ (সুরা নিসা: ১৯)। এই আয়াতে স্ত্রীদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পারিবারিক সৌহার্দ্য ও উত্তম আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিনদের মধ্যে ইমানের দিক দিয়ে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর এবং যে তার পরিবারের (স্ত্রীর) কাছে সবচেয়ে বেশি উত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৬১২)

ইসলামের মূল শিক্ষা হলো—দাম্পত্য ও পারিবারিক সম্পর্ক কোনো বলপ্রয়োগ বা নিয়মের বেড়াজালে নয়, বরং পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।

উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘জামিয়া উলুমিল ইসলামিয়া বানুরি টাউন’-এর দারুল ইফতা থেকে এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। ফতোয়ায় বলা হয়েছে, পুত্রবধূর ওপর শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বাধ্যতামূলক বা ওয়াজিব নয়।

তবে স্বামীর মা-বাবাকে নিজের মা-বাবার স্থানে বিবেচনা করে তাঁদের সেবা করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। যদি কড়া আইনি বা অধিকারের হিসাব কষা হয়, তবে এমন বহু বিষয় রয়েছে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে স্বামীর ওপরও সরাসরি আবশ্যক নয়, কিন্তু তবু তিনি স্ত্রীকে ভালোবেসে সেসব অধিকার বা সুযোগ দিয়ে থাকেন। তাই দাম্পত্যজীবন শুধু কঠোর আইন বা শরিয়তের ফরজ-ওয়াজিবের মাপকাঠিতে পরিচালিত না হয়ে বরং পারস্পরিক আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার হাত ধরে চলা উচিত। (ফতোয়া নং: ১৪৪৫১১১০২০৯৬)

শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণ ও তাঁদের মৌলিক সেবাযত্ন করার মূল দায়িত্বটি মূলত তাঁদের নিজেদের সন্তানের (ছেলের)। তাই পুত্রবধূকে জোরপূর্বক সেবায় বাধ্য করা বা এই নিয়ে তাঁর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।

একইভাবে শ্বশুর-শাশুড়িরও উচিত পুত্রবধূকে নিজের ঘরের একজন পরবাসী বা সেবক না ভেবে নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করা, তাঁর ছোটখাটো সীমাবদ্ধতাগুলোকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা এবং সম্মান দেওয়া।

সংক্ষেপে বলা যায়, শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা শরিয়তের কোনো বাধ্যতামূলক বাধ্যবাধকতা বা ফরজ দায়িত্ব নয়। তবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, নৈতিকতা এবং স্বামীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সামর্থ্য অনুযায়ী হাসিমুখে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো উত্তম চরিত্রের পরিচায়ক। পারস্পরিক সম্মান, ছাড় দেওয়ার মানসিকতা এবং আন্তরিক সহযোগিতাই একটি পরিবারে স্থায়ী শান্তি ও সুখ এনে দিতে পারে।

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি খালিদ কাসেমি, ইসলামবিষয়ক গবেষক

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩০ অক্টোবর ২০২৬

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩০ অক্টোবর ২০২৬

নামাজ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।

সুরা ইয়াসিন সম্পর্কে যা জানা জরুরি

সুরা ইয়াসিন সম্পর্কে যা জানা জরুরি

সুরা ইয়াসিন পবিত্র কোরআনের ৩৬তম সুরা। এই সুরাকে পবিত্র কোরআনের হৃৎপিণ্ড বলা হয়। ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসসমূহ, যেমন তাওহিদ, রিসালাত এবং পরকাল সম্পর্কে এই সুরায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও ছন্দময় ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে। মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরাটির আয়াত সংখ্যা ৮৩ এবং রুকু সংখ্যা ৫।

সুরা রহমানের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব

সুরা রহমানের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব

সুরা রহমানে আল্লাহর অসীম রহমত, সৃষ্টির বিস্ময়কর মহিমা এবং মানুষ ও জিন জাতির প্রতি তাঁর অগণিত নেয়ামতের কথা অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছে। সুরাটির বারবার পুনরাবৃত্ত আয়াত ‘ফাবিআইয়ি আলাই রাব্বিকুমা তুকাজজিবান’ (অতএব তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?) মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি…