আজ থেকে শুরু সিয়াম সাধনা, তারাবির মাধ্যমে বরণ পবিত্র মাহে

রমজান শুরু আজ রাতে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:৪০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ২৩৮ বার পঠিত হয়েছে

মহররম মাসের চাঁদ

বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তারাবির নামাজ আদায়ের মাধ্যমে রমজানকে বরণ করবেন এবং আগামীকাল থেকে শুরু হবে সিয়াম সাধনা।

রমজান ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ রোকন-রোজার মাস। আত্মসংযম, তাকওয়া অর্জন, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির অনন্য সুযোগ এনে দেয় এই মাস। মুসলিম সমাজে রমজানকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকা ও মানবিকতার চর্চায় এ সময়টিকে সর্বোত্তম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইসলামের ইতিহাসে বর্ণিত আছে, শাবান মাসের শেষ প্রান্তে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে একটি দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করেন। সে ভাষণে তিনি রমজানকে মহিমান্বিত ও কল্যাণময় মাস হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ যা মুসলমানদের কাছে শবে কদর নামে পরিচিত।

হাদিসের বর্ণনাকারী হজরত সালমান ফারেসি (র.) জানান, মহানবী (সা.) রোজাকে ফরজ এবং রাতে তারাবির নামাজকে নফল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এ মাসে একটি নেক আমল অন্য সময়ের বহু গুণ বেশি সওয়াবের কারণ হয়। ধৈর্য, সংযম ও সহনশীলতার শিক্ষা রমজানের মূল চেতনা, আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত।

ভাষণে আরও উঠে আসে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও উদারতার বার্তা। রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেন, সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য খাদ্য বা পানীয় দিয়েও ইফতার করালে সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করা যায়। এমনকি এক ঢোক পানি বা একটি খেজুর দিয়েও ইফতার করানোর পুরস্কার থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না। তিনি আরও আশ্বাস দেন, যে ব্যক্তি রোজাদারকে পরিতৃপ্ত করে আহার করাবে, তাকে কিয়ামতের দিন বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে।

রমজানের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের এবং শেষ দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির সময় হিসেবে বিবেচিত। এ সময় দাস-দাসী বা অধীনস্থদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং তাদের কাজের চাপ হালকা করার প্রতিও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়; এটি আত্মগঠন ও সামাজিক সংহতিরও সময়। ব্যক্তিগত পরিশুদ্ধির পাশাপাশি সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার এক অনন্য সুযোগ এনে দেয় এই পবিত্র মাস।

চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া রমজান এবারও মুসলমানদের মাঝে নতুন আশাবাদ, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে। ইবাদত, সংযম ও মানবিকতার চর্চার মাধ্যমে মাসব্যাপী এই সাধনা পরিণতি পাক কল্যাণ ও মুক্তিতে এমন প্রত্যাশাই সবার।

আজ থেকে শুরু সিয়াম সাধনা, তারাবির মাধ্যমে বরণ পবিত্র মাহে

রমজান শুরু আজ রাতে

প্রকাশ: ০৯:৪০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তারাবির নামাজ আদায়ের মাধ্যমে রমজানকে বরণ করবেন এবং আগামীকাল থেকে শুরু হবে সিয়াম সাধনা।

রমজান ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ রোকন-রোজার মাস। আত্মসংযম, তাকওয়া অর্জন, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির অনন্য সুযোগ এনে দেয় এই মাস। মুসলিম সমাজে রমজানকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকা ও মানবিকতার চর্চায় এ সময়টিকে সর্বোত্তম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইসলামের ইতিহাসে বর্ণিত আছে, শাবান মাসের শেষ প্রান্তে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে একটি দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করেন। সে ভাষণে তিনি রমজানকে মহিমান্বিত ও কল্যাণময় মাস হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ যা মুসলমানদের কাছে শবে কদর নামে পরিচিত।

হাদিসের বর্ণনাকারী হজরত সালমান ফারেসি (র.) জানান, মহানবী (সা.) রোজাকে ফরজ এবং রাতে তারাবির নামাজকে নফল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এ মাসে একটি নেক আমল অন্য সময়ের বহু গুণ বেশি সওয়াবের কারণ হয়। ধৈর্য, সংযম ও সহনশীলতার শিক্ষা রমজানের মূল চেতনা, আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত।

ভাষণে আরও উঠে আসে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও উদারতার বার্তা। রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেন, সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য খাদ্য বা পানীয় দিয়েও ইফতার করালে সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করা যায়। এমনকি এক ঢোক পানি বা একটি খেজুর দিয়েও ইফতার করানোর পুরস্কার থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না। তিনি আরও আশ্বাস দেন, যে ব্যক্তি রোজাদারকে পরিতৃপ্ত করে আহার করাবে, তাকে কিয়ামতের দিন বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে।

রমজানের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের এবং শেষ দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির সময় হিসেবে বিবেচিত। এ সময় দাস-দাসী বা অধীনস্থদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং তাদের কাজের চাপ হালকা করার প্রতিও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়; এটি আত্মগঠন ও সামাজিক সংহতিরও সময়। ব্যক্তিগত পরিশুদ্ধির পাশাপাশি সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার এক অনন্য সুযোগ এনে দেয় এই পবিত্র মাস।

চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া রমজান এবারও মুসলমানদের মাঝে নতুন আশাবাদ, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে। ইবাদত, সংযম ও মানবিকতার চর্চার মাধ্যমে মাসব্যাপী এই সাধনা পরিণতি পাক কল্যাণ ও মুক্তিতে এমন প্রত্যাশাই সবার।