বন্দরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাডার সোহেল গ্রেফতার
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও জমি দখলের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসা শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল ওরফে “ক্যাডার সোহেল”কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। শুক্রবার দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মদনপুর এলাকার আন্দিরপাড়ে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত সোহেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে।
র্যাব-১১ সূত্রে জানা গেছে, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ও আশপাশের এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করে আসছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার নেতৃত্বে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, জমি দখল এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তারের ঘটনা নিয়মিত ঘটত। বিশেষ করে নতুন কোনো ভবন বা স্থাপনা নির্মাণের সময় তার বাহিনীর সদস্যরা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করত। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাজ বন্ধ করে দেওয়া, হামলা চালানো কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটত।
এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে চলাচলকারী পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও মাসোহারা আদায় করত সোহেলের সহযোগীরা। এলাকাবাসীর দাবি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল এই বাহিনী।
র্যাব আরও জানায়, সোহেলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণেরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার নেতৃত্বে বন্দর ও মদনপুর এলাকায় গড়ে ওঠে একটি বড় মাদক নেটওয়ার্ক। গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের কেনাবেচা তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
শুধু মাদক ও চাঁদাবাজিই নয়, জমি দখল ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনাতেও সোহেলের নাম উঠে এসেছে বহুবার। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানুষের পৈতৃক সম্পত্তি ও ভিটেমাটি জোর করে দখল করে নেওয়া হতো। অনেককে ভয়ভীতি দেখিয়ে কম মূল্যে জমি লিখে দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
র্যাব-১১ জানায়, সম্প্রতি সোহেল ও তার বাহিনীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তাকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
গ্রেফতারকৃত সোহেলের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার মদনপুর এলাকার আন্দিরপাড়ে। তার পিতার নাম আনোয়ার হোসেন। র্যাবের দাবি, তার বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেলের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত সোহেলকে বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তার গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
