ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: প্রথম দফায় পিছিয়ে থেকেও চতুর্থবারের মতো জিতলেন লুলা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:০০:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত হয়েছে

এই বিস্ময়কর ফলাফল বুথফেরত জরিপ, পূর্ববর্তী রেকর্ড এবং বিশ্বজুড়ে বিদায়ী সরকারের বিরুদ্ধে জনমতের প্রভাবকে পাশ কাটিয়ে পুরো লাতিন আমেরিকাজুড়ে ডানপন্থীদের জয়ের ধারাকে থামিয়ে দিয়েছে।

দুর্নীতি কেলেঙ্কারি এবং নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে বছরের পর বছর ধরে ভোটাররা লুলার নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টির ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। ফলে একসময় লুলার পুনঃনির্বাচন অনেকটাই অনিশ্চিত মনে হচ্ছিল। এ ছাড়া অ্যাপভিত্তিক আধুনিক অর্থনীতি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ক্রমবর্ধমান কর্মীদের কাছে সাবেক এই মেটালওয়ার্কার ও শ্রমিক নেতা কিছুটা বেমানান বা যুগের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়েছিলেন।

লুলার এই জয় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি বড় ধরনের প্রত্যাবর্তন। ৮০ বছর বয়সী এই নেতা ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগে কারাবাস ভোগ করেন। পরবর্তীতে সেই অভিযোগ বাতিল হয়ে গেলে ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি জাইর বলসোনারোকে পরাজিত করার সুযোগ পান।

ভোট গণনার সময় সাও পাওলোতে লুলার সাথে থাকা বামপন্থী আইনপ্রণেতা এরিকা হিলটন রয়টার্সকে বলেন, ‘তিনি একজন রাষ্ট্রনায়ক, একজন মহামানব।’

জরিপকারীরা জানান, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভোটারদের উপস্থিতি লুলাকে এই জয় এনে দিয়েছে। থিঙ্ক পলিসি নামক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিওনার্দো বারেতো বলেন, ভোটাররা বলসোনারোর নতুনত্ব বা অনিশ্চয়তার চেয়ে লুলার চেনা ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্বকে বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন কিছুটা উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের দিকে যাওয়া এবং চেনা পথে হাঁটার মধ্যে একটিকে বেছে নিচ্ছে, যা তাদের নির্দিষ্ট কিছু অধিকার নিশ্চিত করে।’

প্রচারণার সময় লুলা তাঁর শাসনামলে দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাসের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাঁর তৃতীয় মেয়াদের সময় বেকারত্ব, নিরক্ষরতা এবং বন উজাড়ের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রচারণার শেষ দিকে তিনি দেশজুড়ে বিনামূল্যে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গণপরিবহন সেবা (যা কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করতে হবে) থেকে শুরু করে তাঁর স্বপ্নের সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচির তহবিল ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার মতো প্রতিশ্রুতি দেন, যা ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া লুলা একটি সাংবিধানিক সংশোধনীর পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন, যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শ্রম সংস্কার হিসেবে কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থনে পাস হয়।

তা সত্ত্বেও, লুলার এই চতুর্থ মেয়াদটি সবচেয়ে কঠিন হতে পারে, কারণ দেশটিতে ১৯৮০-এর দশকে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর সবচেয়ে রক্ষণশীল কংগ্রেস (সংসদ) নির্বাচিত হয়েছে। বলসোনারোর লিবারেল পার্টি (পিএল) এবং তাদের মিত্র দলগুলো যৌথভাবে নিম্নকক্ষে ২৮০ টিরও বেশি আসন এবং সেনেটে ৫০টি পর্যন্ত আসন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা উভয় কক্ষে তাদের সুবিধাজনক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেবে।

লুলাকে পেছনে ফেললেন ফ্লাভিও বলসোনারো, ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়াল দ্বিতীয় দফায়

লুলাকে পেছনে ফেললেন ফ্লাভিও বলসোনারো, ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়াল দ্বিতীয় দফায়

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেছেন ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভাকে পেছনে ফেলেছেন। ফলে চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার ভোটে লুলার মুখোমুখি হবেন তিনি।

ব্রাজিলে ফের ডানপন্থার উত্থান, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় পিছিয়ে বামপন্থীরা

ব্রাজিলে ফের ডানপন্থার উত্থান, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় পিছিয়ে বামপন্থীরা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় জয় পেয়েছেন ডানপন্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে পরাজিত করেছেন। তবে সরাসরি নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট তিনি পাননি। ফ্লাভিও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর পুত্র।

টুনা মাছের রাজধানীতে মাদকযুদ্ধ—টার্গেটে জেলেরা

টুনা মাছের রাজধানীতে মাদকযুদ্ধ—টার্গেটে জেলেরা

ইকুয়েডরের বন্দরনগরী মান্তা বিশ্বজুড়ে ‘টুনা মাছের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানকার মানুষ প্রশান্ত মহাসাগরের সমৃদ্ধ জলরাশিতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু দারিদ্র্য, সীমিত কর্মসংস্থান এবং বিপুল অর্থের হাতছানিতে মান্তার কিছু জেলে এখন জড়িয়ে পড়ছেন কোকেন পাচারের সঙ্গে।

জনপ্রিয় টার্গেট

জরিমানা ছাড়া মোটরযানের কাগজ হালনাগাদের সময় শেষ ২৯ অক্টোবর

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: প্রথম দফায় পিছিয়ে থেকেও চতুর্থবারের মতো জিতলেন লুলা

প্রকাশ: ০৯:০০:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

এই বিস্ময়কর ফলাফল বুথফেরত জরিপ, পূর্ববর্তী রেকর্ড এবং বিশ্বজুড়ে বিদায়ী সরকারের বিরুদ্ধে জনমতের প্রভাবকে পাশ কাটিয়ে পুরো লাতিন আমেরিকাজুড়ে ডানপন্থীদের জয়ের ধারাকে থামিয়ে দিয়েছে।

দুর্নীতি কেলেঙ্কারি এবং নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে বছরের পর বছর ধরে ভোটাররা লুলার নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টির ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। ফলে একসময় লুলার পুনঃনির্বাচন অনেকটাই অনিশ্চিত মনে হচ্ছিল। এ ছাড়া অ্যাপভিত্তিক আধুনিক অর্থনীতি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ক্রমবর্ধমান কর্মীদের কাছে সাবেক এই মেটালওয়ার্কার ও শ্রমিক নেতা কিছুটা বেমানান বা যুগের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়েছিলেন।

লুলার এই জয় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি বড় ধরনের প্রত্যাবর্তন। ৮০ বছর বয়সী এই নেতা ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগে কারাবাস ভোগ করেন। পরবর্তীতে সেই অভিযোগ বাতিল হয়ে গেলে ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি জাইর বলসোনারোকে পরাজিত করার সুযোগ পান।

ভোট গণনার সময় সাও পাওলোতে লুলার সাথে থাকা বামপন্থী আইনপ্রণেতা এরিকা হিলটন রয়টার্সকে বলেন, ‘তিনি একজন রাষ্ট্রনায়ক, একজন মহামানব।’

জরিপকারীরা জানান, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভোটারদের উপস্থিতি লুলাকে এই জয় এনে দিয়েছে। থিঙ্ক পলিসি নামক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিওনার্দো বারেতো বলেন, ভোটাররা বলসোনারোর নতুনত্ব বা অনিশ্চয়তার চেয়ে লুলার চেনা ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্বকে বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন কিছুটা উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের দিকে যাওয়া এবং চেনা পথে হাঁটার মধ্যে একটিকে বেছে নিচ্ছে, যা তাদের নির্দিষ্ট কিছু অধিকার নিশ্চিত করে।’

প্রচারণার সময় লুলা তাঁর শাসনামলে দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাসের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাঁর তৃতীয় মেয়াদের সময় বেকারত্ব, নিরক্ষরতা এবং বন উজাড়ের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রচারণার শেষ দিকে তিনি দেশজুড়ে বিনামূল্যে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গণপরিবহন সেবা (যা কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করতে হবে) থেকে শুরু করে তাঁর স্বপ্নের সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচির তহবিল ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার মতো প্রতিশ্রুতি দেন, যা ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া লুলা একটি সাংবিধানিক সংশোধনীর পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন, যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শ্রম সংস্কার হিসেবে কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থনে পাস হয়।

তা সত্ত্বেও, লুলার এই চতুর্থ মেয়াদটি সবচেয়ে কঠিন হতে পারে, কারণ দেশটিতে ১৯৮০-এর দশকে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর সবচেয়ে রক্ষণশীল কংগ্রেস (সংসদ) নির্বাচিত হয়েছে। বলসোনারোর লিবারেল পার্টি (পিএল) এবং তাদের মিত্র দলগুলো যৌথভাবে নিম্নকক্ষে ২৮০ টিরও বেশি আসন এবং সেনেটে ৫০টি পর্যন্ত আসন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা উভয় কক্ষে তাদের সুবিধাজনক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেবে।

লুলাকে পেছনে ফেললেন ফ্লাভিও বলসোনারো, ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়াল দ্বিতীয় দফায়

লুলাকে পেছনে ফেললেন ফ্লাভিও বলসোনারো, ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়াল দ্বিতীয় দফায়

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেছেন ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভাকে পেছনে ফেলেছেন। ফলে চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার ভোটে লুলার মুখোমুখি হবেন তিনি।

ব্রাজিলে ফের ডানপন্থার উত্থান, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় পিছিয়ে বামপন্থীরা

ব্রাজিলে ফের ডানপন্থার উত্থান, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় পিছিয়ে বামপন্থীরা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় জয় পেয়েছেন ডানপন্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে পরাজিত করেছেন। তবে সরাসরি নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট তিনি পাননি। ফ্লাভিও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর পুত্র।

টুনা মাছের রাজধানীতে মাদকযুদ্ধ—টার্গেটে জেলেরা

টুনা মাছের রাজধানীতে মাদকযুদ্ধ—টার্গেটে জেলেরা

ইকুয়েডরের বন্দরনগরী মান্তা বিশ্বজুড়ে ‘টুনা মাছের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানকার মানুষ প্রশান্ত মহাসাগরের সমৃদ্ধ জলরাশিতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু দারিদ্র্য, সীমিত কর্মসংস্থান এবং বিপুল অর্থের হাতছানিতে মান্তার কিছু জেলে এখন জড়িয়ে পড়ছেন কোকেন পাচারের সঙ্গে।