বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ যখন পাকিস্তানের পাশে, তখন রাশিয়া ভারতের পাশে ছিল: জয়শঙ্কর

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত হয়েছে

আজ রোববার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স’-এ বক্তৃতাকালে জয়শঙ্কর এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ঐতিহাসিকভাবেই ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং ইতিহাস থেকে অর্জিত সেই অভিজ্ঞতাই বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ককে পরিচালিত করছে।

জয়শঙ্কর বলেন, ‘মানুষ কখনো ভালো ইতিহাস বা খারাপ ইতিহাস ভুলে যায় না।’ তিনি গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, এমন এক সময়ে রাশিয়া ভারতের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছিল, যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পাকিস্তানের সামরিক শাসনকে সমর্থন জোগাচ্ছিল।

জয়শঙ্কর মূলত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের জন্য বঙ্গোপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর পাঠানোর প্রেক্ষাপট এবং ভারতের পক্ষে সোভিয়েত ইউনিয়নের ঐতিহাসিক সমর্থনের বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে এসব কথা বলেন।

মস্কোর সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার নিরিখেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মূল্যায়ন করে। যেভাবে ইউরোপ ভারতের দৃষ্টিতে রাশিয়াকে দেখতে বাধ্য নয়, তেমনি ভারতের সিদ্ধান্তগুলোও রাশিয়ার সঙ্গে তার ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে ক্রমাগত অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনার মুখেই জয়শঙ্করের এই মন্তব্য এল। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সমালোচনাকে ‘অযৌক্তিক ও অন্যায্য’ বলে অভিহিত করে জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে শুরুতেই ওয়াশিংটন ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য উৎসাহিত করেছিল।

ইউক্রেন সংকট প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর আবারও সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত কেবল শান্তির কথা বলেই থেমে থাকেনি; বরং রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশের সঙ্গেই সরাসরি আলোচনা করেছে। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল, খাদ্যশস্য আমদানি, জ্বালানি রপ্তানি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা ঠেকানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

জয়শঙ্কর স্মরণ করিয়ে দেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২২ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেছিলেন—‘আজকের যুগ যুদ্ধের যুগ নয়।’ পাশাপাশি সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জয়শঙ্কর মোদীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, ‘অনন্তকালের এই যুদ্ধকে থামিয়ে এখন শান্তির পথ নিশ্চিত করতে হবে।’

জায়নবাদকে (Zionism) বর্ণবাদ হিসেবে অভিহিত করে একটি বিতর্কিত প্রস্তাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টি। রোববার (৪ অক্টোবর) দলের সম্মেলনে অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন ১ হাজার ২২ জন সদস্য এবং বিপক্ষে ভোট দেন ৮১৩ জন।

আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে ৭০ মিটার গভীর একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে গিয়েছিল পাঁচ বছরের শিশু জইনুল্লাহ। সরু, অন্ধকার ও পানিতে ভেজা কূপটির নিচে আটকে থাকা শিশুটিকে উদ্ধার করতে গিয়ে একের পর এক চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছিল।

মলদোভায় বিধ্বস্ত হওয়া ‘গেরান’ নামে রাশিয়ার একটি জেটচালিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে পশ্চিমা গোয়েন্দা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত দ্রুতগতির এই কামিকাজে ড্রোনের প্রযুক্তিগত রহস্য উদ্ঘাটন করে তা প্রতিরোধের কার্যকর উপায় খুঁজছেন তারা।

জনপ্রিয় টার্গেট

ফুটপাত ও সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না: সিডিএ চেয়ারম্যান

বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ যখন পাকিস্তানের পাশে, তখন রাশিয়া ভারতের পাশে ছিল: জয়শঙ্কর

প্রকাশ: ১২:০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

আজ রোববার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স’-এ বক্তৃতাকালে জয়শঙ্কর এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ঐতিহাসিকভাবেই ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং ইতিহাস থেকে অর্জিত সেই অভিজ্ঞতাই বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ককে পরিচালিত করছে।

জয়শঙ্কর বলেন, ‘মানুষ কখনো ভালো ইতিহাস বা খারাপ ইতিহাস ভুলে যায় না।’ তিনি গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, এমন এক সময়ে রাশিয়া ভারতের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছিল, যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পাকিস্তানের সামরিক শাসনকে সমর্থন জোগাচ্ছিল।

জয়শঙ্কর মূলত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের জন্য বঙ্গোপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর পাঠানোর প্রেক্ষাপট এবং ভারতের পক্ষে সোভিয়েত ইউনিয়নের ঐতিহাসিক সমর্থনের বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে এসব কথা বলেন।

মস্কোর সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার নিরিখেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মূল্যায়ন করে। যেভাবে ইউরোপ ভারতের দৃষ্টিতে রাশিয়াকে দেখতে বাধ্য নয়, তেমনি ভারতের সিদ্ধান্তগুলোও রাশিয়ার সঙ্গে তার ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে ক্রমাগত অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনার মুখেই জয়শঙ্করের এই মন্তব্য এল। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সমালোচনাকে ‘অযৌক্তিক ও অন্যায্য’ বলে অভিহিত করে জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে শুরুতেই ওয়াশিংটন ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য উৎসাহিত করেছিল।

ইউক্রেন সংকট প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর আবারও সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত কেবল শান্তির কথা বলেই থেমে থাকেনি; বরং রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশের সঙ্গেই সরাসরি আলোচনা করেছে। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল, খাদ্যশস্য আমদানি, জ্বালানি রপ্তানি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা ঠেকানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

জয়শঙ্কর স্মরণ করিয়ে দেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২২ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেছিলেন—‘আজকের যুগ যুদ্ধের যুগ নয়।’ পাশাপাশি সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জয়শঙ্কর মোদীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, ‘অনন্তকালের এই যুদ্ধকে থামিয়ে এখন শান্তির পথ নিশ্চিত করতে হবে।’

জায়নবাদকে (Zionism) বর্ণবাদ হিসেবে অভিহিত করে একটি বিতর্কিত প্রস্তাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টি। রোববার (৪ অক্টোবর) দলের সম্মেলনে অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন ১ হাজার ২২ জন সদস্য এবং বিপক্ষে ভোট দেন ৮১৩ জন।

আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে ৭০ মিটার গভীর একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে গিয়েছিল পাঁচ বছরের শিশু জইনুল্লাহ। সরু, অন্ধকার ও পানিতে ভেজা কূপটির নিচে আটকে থাকা শিশুটিকে উদ্ধার করতে গিয়ে একের পর এক চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছিল।

মলদোভায় বিধ্বস্ত হওয়া ‘গেরান’ নামে রাশিয়ার একটি জেটচালিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে পশ্চিমা গোয়েন্দা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত দ্রুতগতির এই কামিকাজে ড্রোনের প্রযুক্তিগত রহস্য উদ্ঘাটন করে তা প্রতিরোধের কার্যকর উপায় খুঁজছেন তারা।