দৈনিক টার্গেট

দেশের চেতনায়

যুদ্ধবিরতি নাকচ, স্থায়ী সমাধান চায় ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে প্রস্তাবিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, স্বল্পমেয়াদি বিরতি পরিস্থিতির প্রকৃত সমাধান নয়; বরং এটি প্রতিপক্ষকে পুনরায় সংগঠিত হয়ে শক্তি বাড়ানোর সুযোগ করে দিতে পারে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন-ইরান কোনো অস্থায়ী সমঝোতায় আগ্রহী নয়। তাদের লক্ষ্য একেবারে স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটানো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “সাময়িক যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনে না, বরং অনিশ্চয়তাকে দীর্ঘায়িত করে।”

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক কিছু মধ্যস্থতাকারী একটি ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। প্রস্তাবটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্থায়ী শান্তির দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানা যায়। তবে এই উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি তেহরান।

এদিকে ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো একাধিক শর্তের প্রস্তাব তারা পর্যালোচনা করেছে। প্রায় ১৫ দফা শর্তসম্বলিত সেই প্রস্তাবকে ‘অতিরিক্ত কঠোর’ এবং ‘বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন ইসমাইল বাঘেই। তার দাবি, এসব শর্ত ইরানের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং এগুলো আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতীতের আলোচনার অভিজ্ঞতাও সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাঘেই বলেন, পূর্ববর্তী সংলাপগুলোতে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়নি, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দেওয়ায় আলোচনার পথ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।