মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।
সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদকে কেন্দ্র করেই দেশের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। তাঁর মতে, সংসদে গিয়ে বিরোধী দল কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা শিক্ষামূলক আলোচনা করতে যায়নি; বরং দেশের সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের সমস্যা তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, ১৮৮৬ সালের শিকাগো শ্রম আন্দোলনের পর প্রায় দেড় শতাব্দী পার হলেও বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দল ও নেতারা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার খুব কমই বাস্তবায়ন হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শ্রমিকদের নিয়ে প্রতি বছর ১ মে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বছরের বাকি সময় তাদের কথা অনেকেই ভুলে যায়—এমন অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর মতে, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না।
সমাবেশে তিনি বিরোধী দলের ভূমিকার কথা তুলেধরে বলেন, শ্রমিকদের অধিকারের প্রশ্নে সংসদ ও রাজপথ উভয় জায়গাতেই তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবে, যতক্ষণ না ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
বাম রাজনৈতিক ধারার সমালোচনা
বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি বাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন শুরু হলেও এর ফল সাধারণ শ্রমিকদের ভাগ্যে খুব কমই পড়ে। বরং অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলনের পরিণতিতে শ্রমিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন, অথচ নেতৃত্ব পর্যায়ের কিছু ব্যক্তি সুবিধা নিয়ে নেন।
তিনি আরও বলেন, মালিক ও শ্রমিককে শত্রু হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার রাজনীতি তিনি সমর্থন করেননা। তাঁর মতে, উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে মালিক ও শ্রমিক উভয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সম্পর্ক থাকা উচিত।
প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান
প্রবাসী বাংলাদেশিদের “রেমিট্যান্স যোদ্ধা” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কঠোর পরিশ্রম করে দেশে অর্থ পাঠালেও অনেক সময় যথাযথ সম্মান ও সেবা পান না। বিদেশে থাকা দূতাবাস ও মিশনগুলো প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন এবং তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বদিয়ে সমাধানের আহ্বান জানান।
শ্রমনীতি নিয়ে মতামত
সমাবেশে দলের অন্য নেতারাও বক্তব্য দেন। সেখানে বলা হয়, বর্তমান শ্রমনীতি শ্রমিকদের পূর্ণ অধিকারনিশ্চিত করতে সক্ষম নয়। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান নিশ্চিত করার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত বলে মত প্রকাশ করা হয়।
সমাবেশ শেষে নেতারা বলেন, ভবিষ্যতেও শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
দৈনিক টার্গেট 


























