বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রতিবেশী দেশ ভারতে কোনো ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে দমন-পীড়ন না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পৃথিবীর যেকোনো স্থানে নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন হলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মানবিক দায়িত্ব।
শনিবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জাপান ও থাইল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরে সফরের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যা করণীয়, তা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় সেখানে সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তার ভাষ্য, অপরাধীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাকযুদ্ধের পরিবর্তে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নওগাঁ ও চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলীয় চিন্তার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে।
থাইল্যান্ড সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, সেখানে চিকিৎসাধীন ৬৪ জন ‘জুলাই যোদ্ধা’র সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করেছেন। আহতদের অনেকেই গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন; কেউ চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়েছেন, কেউ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার মধ্যে রয়েছেন। তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে জটিল নার্ভজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের সিঙ্গাপুরে পাঠানোর পরামর্শ দেন তিনি।
আহতদের পরিবারের মানসিক পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারগুলোর জন্য কাউন্সেলিং ও সাইকোথেরাপির ব্যবস্থাও প্রয়োজন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, গণভোটের রায় ও ‘জুলাই সনদ’ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দাবি বিভিন্ন মহল থেকে জোরালোভাবে উঠে এসেছে। তার দাবি, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কোনো ধরনের অসম্পূর্ণতা বা প্রতীকী বাস্তবায়ন গ্রহণযোগ্য হবে না।
জাপান সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাপানের বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি নিজেই পাইকারি ও খুচরা বাজার পরিদর্শন করবেন। প্রয়োজনে উৎপাদন পর্যায়েও গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করবেন বলে জানান।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম
দৈনিক টার্গেট 


























