মুক্তিযোদ্ধা সনদ ছিঁড়ে ফেলার কারণ জানালেন গয়েশ্বর

রাজনীতি

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের অপব্যবহার দেখে গভীর ক্ষোভ থেকে নিজের আসল সনদ নিজেই নষ্ট করেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন কোনো ব্যক্তিগত লাভের আশায় নয়, বরং দেশের জন্য দায়িত্ববোধ থেকেই।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ভাষ্যমতে, যুদ্ধ শেষে এমন একটি ঘটনা তাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। তিনি জানান, একসময় একটি মেয়ে মুক্তিযোদ্ধার সনদ ব্যবহার করে কলেজে ভর্তি হতে আসে, অথচ তার পরিবারের অতীত ছিল বিতর্কিত এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বিষয়টি তার কাছে অসহনীয় মনে হয় এবং সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি নিজের সনদ ছিঁড়ে ফেলেন।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের বিনিময়ে কখনো কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশা ছিল না তার। দেশেরস্বাধীনতা অর্জনই ছিল একমাত্র লক্ষ্য।

আলোচনায় নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। বিএনপির সূচনালগ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, দলের প্রতিষ্ঠার সময় তিনি প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং সেই ইতিহাসের একজন জীবিত সাক্ষী হিসেবে নিজেকে দেখেন।

এছাড়া সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনেতিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন স্তরের মানুষ একযোগে অংশ নিয়েছিল। এই আন্দোলন কোনো একক দলের নয়, বরং সাধারণ শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ এবং রাজনৈতিক কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।