গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা দিলেন স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের এক জীবন্ত দলিল হয়ে থাকবে। মঙ্গলবার জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এখানে বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের নানা স্মৃতি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
স্পিকার জানান, জাদুঘরের প্রতিটি প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের আবেগাপ্লুত করবে। বিশেষ করে আন্দোলনে নিহত ছাত্র-যুবকদের ব্যক্তিগত স্মারক, শেষ চিঠি, আলোকচিত্র ও পরিবারের স্মৃতিচিহ্ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রের দাবিতে রাজপথে নেমে জীবন দিয়েছেন, তাদের সাহস ও আত্মত্যাগ দেশের মানুষের মনে দীর্ঘদিন প্রেরণা জোগাবে।
তিনি আরও বলেন, জাদুঘরে গণআন্দোলনের সময়কার বিভিন্ন দৃশ্য, শহীদ মিনারে জনসমুদ্র এবং আন্দোলনের নানা মুহূর্ত অত্যন্ত বাস্তবভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও দমন-পীড়নের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণও সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এসব উপস্থাপনা দেশের মানুষকে অতীতের ঘটনাগুলো নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করবে এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াবে।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বারবার ফিরে এসেছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম যে সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক পরিসরেও উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই জাদুঘর শুধু ইতিহাস সংরক্ষণই করবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতন করবে।
বর্তমান সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও আন্দোলনের নানা অধ্যায়কে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষায় নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন।
