জুলাই বিপ্লব: স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের দুই বছর

  • মোঃ আবু সাঈদ
  • প্রকাশ: ০৪:১০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৩৯ বার পঠিত হয়েছে

বাংলাদেশ

আজ ঐতিহ্যবাহী ৫ই আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব ও মহাকাব্যিক মোড় পরিবর্তনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি।

২০২৪ সালের এই রক্তস্নাত দিনে ছাত্র-জনতার অদম্য প্রতিরোধ, নজিরবিহীন আত্মত্যাগ ও হিমালয়সম ঐক্যের মুখে ধসে পড়েছিল সুদীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, ফ্যাসিবাদ ও নিরঙ্কুশ স্বৈরাচারের লৌহকপাট। দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রক্তের সাগরে সাঁতার কেটে অর্জিত সেই ঐতিহাসিক দ্বিতীয় স্বাধীনতা আজ দুই বছর পূর্ণ করল। বিগত এই দুই বছরে বাংলাদেশ এক একদিকে যেমন বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত বাতাসের নতুন সূর্যোদয় দেখেছে, অন্যদিকে মুখোমুখি হয়েছে ধ্বংসস্তূপ থেকে রাষ্ট্রযন্ত্র পুনর্গঠনের এক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং বাস্তবতার।

রক্তভেজা রাজপথ: কোটা আন্দোলন থেকে এক দফার মহাজাগরণ

২০২৪ সালের জুলাইয়ের প্রারম্ভে সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা, তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর তীব্র অহংকার, অসংবেদনশীল মন্তব্য ও চরম দমন-পীড়নের কারণে তা মুহূর্তেই এক দাবানলে রূপ নেয়। আন্দোলনের প্রথম প্রহরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের বুক পেতে গুলির সামনে দাঁড়িয়ে যাওয়ার দৃশ্য এবং ঢাকার রাজপথে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পানি বিতরণের পর বুলেটের আঘাতে লুটিয়ে পড়ার ঘটনা পুরো বাংলাদেশের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র অঙ্গসংগঠনগুলোর যৌথ তাণ্ডবে যখন দেশের রাজপথ রক্তাক্ত হতে শুরু করে, তখন আন্দোলন আর কেবল কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ থাকেনি। শিশু, কিশোর, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রিকশাচালক, পোশাক শ্রমিক থেকে শুরু করে গৃহিণী ও সাধারণ অভিভাবকেরা রাজপথে নেমে আসেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ে গঠিত ‘এক দফা’ অর্থাৎ ফ্যাসিবাদের পতনের দাবি রূপ নেয় এক সর্বজনীন মহাজাগরণে।

৫ই আগস্টের মহাকাব্য: ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ ও স্বৈরাচারের পতন

আগস্টের প্রথম দিন থেকেই পরিস্থিতি শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে। চারদিকে কারফিউ, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও দমন-পীড়ন চালিয়েও দমানো যায়নি কোটি মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ। ৩ ও ৪ আগস্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে বুলেটের মুখে শত শত প্রাণহানির পর আন্দোলনকারীরা ৫ই আগস্ট ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ডাক দেন।

৫ই আগস্ট সকালে যখন তৎকালীন সরকারের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী দিয়েও লাখ লাখ জনতার ঢাকা অভিমুখে পদযাত্রা থামানো অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন দুপুরের দিকে চিত্র দ্রুত বদলে যায়। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ সম্মতি ও সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা রাজপথ দখল করে গণভব অভিমুখে রওয়ানা হলে পদত্যাগ করে সামরিক বিমানে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বিকেলে তৎকালীন সেনাপ্রধানের বক্তব্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত হয় এবং ঢাকার রাজপথে নেমে আসে লক্ষ মানুষের বিজয় উল্লাস।

আত্মত্যাগের পরিসংখ্যান ও মানবিক ট্র্যাজেডি

এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের মূল্য দিতে হয়েছিল অত্যন্ত চড়া দামে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, স্বাধিকার রক্ষা কমিটি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, জুলাই-আগস্টের ওই ৩৬ দিনের আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৫০০ মানুষ, যার একটি বড় অংশই ছিল শিক্ষার্থী ও খেটে খাওয়া তরুণ সমাজ। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ২৫ হাজারের বেশি মানুষ, আর দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন চিরতরে প্রায় সাত শতাধিক তরুণ।

এই বিশাল মানবিক আত্মত্যাগই পরবর্তীতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার মূল মূলধন হিসেবে কাজ করেছে। শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠা এই ঐক্য ভেঙে ফেলার সব অপচেষ্টা বিগত দুই বছরে এদেশের সচেতন সমাজ নস্যাৎ করে দিয়েছে।

নতুন রাষ্ট্র গঠন ও দুই বছরের সংস্কারের খতিয়ান

স্বৈরাচারের পতনের পর দেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন করে। বিগত দুই বছরে বাংলাদেশের সামাজিক ও প্রশাসনিক দৃশ্যপটে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন:

স্বাধীন বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: গত ১৫ বছর ধরে চেপে বসা ভয়ের অপসংস্কৃতি ও সেলফ-সেন্সরশিপের বলয় ভেঙে গণমাধ্যম এখন স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কার: নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে পেশাদার সংস্থায় রূপান্তরের জন্য গঠিত সংস্কার কমিশনগুলো তাদের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করেছে।

গণহত্যার বিচার ও জবাবদিহিতা: জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িত শীর্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর অধীনে এনে স্বচ্ছ বিচারে বিশ্বমানের নজির স্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

দুই বছরের বিজয়ের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। স্বৈরাচারী আমলে পাচার হওয়া কোটি কোটি ডলার ফেরত আনা, ভেঙে পড়া ব্যাংকিং খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা এখনও বড় পরীক্ষার বিষয়।

এছাড়া দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বহিরাগত ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্ত সামলে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা নতুন বাংলাদেশের জন্য অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

পাঁচই আগস্ট শুধু একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন নয়; এটি মূলত বৈষম্য, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ দেশের আপামর জনতার রুখে দাঁড়ানোর এক চিরন্তন প্রতীক। দুই বছর আগের এই দিনে তরুণ সমাজ যে নতুন ভোর এনে দিয়েছিল, তার আলোর মশাল ধরে রাখাই আজকের মূল অঙ্গীকার। শহীদদের পবিত্র রক্ত আর আহতদের ত্যাগের অমর স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও শোষণহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথেই এগিয়ে যাচ্ছে আজকের বাংলাদেশ।

জুলাই বিপ্লব: স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের দুই বছর

প্রকাশ: ০৪:১০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

আজ ঐতিহ্যবাহী ৫ই আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব ও মহাকাব্যিক মোড় পরিবর্তনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি।

২০২৪ সালের এই রক্তস্নাত দিনে ছাত্র-জনতার অদম্য প্রতিরোধ, নজিরবিহীন আত্মত্যাগ ও হিমালয়সম ঐক্যের মুখে ধসে পড়েছিল সুদীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, ফ্যাসিবাদ ও নিরঙ্কুশ স্বৈরাচারের লৌহকপাট। দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রক্তের সাগরে সাঁতার কেটে অর্জিত সেই ঐতিহাসিক দ্বিতীয় স্বাধীনতা আজ দুই বছর পূর্ণ করল। বিগত এই দুই বছরে বাংলাদেশ এক একদিকে যেমন বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত বাতাসের নতুন সূর্যোদয় দেখেছে, অন্যদিকে মুখোমুখি হয়েছে ধ্বংসস্তূপ থেকে রাষ্ট্রযন্ত্র পুনর্গঠনের এক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং বাস্তবতার।

রক্তভেজা রাজপথ: কোটা আন্দোলন থেকে এক দফার মহাজাগরণ

২০২৪ সালের জুলাইয়ের প্রারম্ভে সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা, তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর তীব্র অহংকার, অসংবেদনশীল মন্তব্য ও চরম দমন-পীড়নের কারণে তা মুহূর্তেই এক দাবানলে রূপ নেয়। আন্দোলনের প্রথম প্রহরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের বুক পেতে গুলির সামনে দাঁড়িয়ে যাওয়ার দৃশ্য এবং ঢাকার রাজপথে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পানি বিতরণের পর বুলেটের আঘাতে লুটিয়ে পড়ার ঘটনা পুরো বাংলাদেশের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র অঙ্গসংগঠনগুলোর যৌথ তাণ্ডবে যখন দেশের রাজপথ রক্তাক্ত হতে শুরু করে, তখন আন্দোলন আর কেবল কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ থাকেনি। শিশু, কিশোর, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রিকশাচালক, পোশাক শ্রমিক থেকে শুরু করে গৃহিণী ও সাধারণ অভিভাবকেরা রাজপথে নেমে আসেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ে গঠিত ‘এক দফা’ অর্থাৎ ফ্যাসিবাদের পতনের দাবি রূপ নেয় এক সর্বজনীন মহাজাগরণে।

৫ই আগস্টের মহাকাব্য: ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ ও স্বৈরাচারের পতন

আগস্টের প্রথম দিন থেকেই পরিস্থিতি শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে। চারদিকে কারফিউ, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও দমন-পীড়ন চালিয়েও দমানো যায়নি কোটি মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ। ৩ ও ৪ আগস্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে বুলেটের মুখে শত শত প্রাণহানির পর আন্দোলনকারীরা ৫ই আগস্ট ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ডাক দেন।

৫ই আগস্ট সকালে যখন তৎকালীন সরকারের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী দিয়েও লাখ লাখ জনতার ঢাকা অভিমুখে পদযাত্রা থামানো অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন দুপুরের দিকে চিত্র দ্রুত বদলে যায়। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ সম্মতি ও সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা রাজপথ দখল করে গণভব অভিমুখে রওয়ানা হলে পদত্যাগ করে সামরিক বিমানে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বিকেলে তৎকালীন সেনাপ্রধানের বক্তব্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত হয় এবং ঢাকার রাজপথে নেমে আসে লক্ষ মানুষের বিজয় উল্লাস।

আত্মত্যাগের পরিসংখ্যান ও মানবিক ট্র্যাজেডি

এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের মূল্য দিতে হয়েছিল অত্যন্ত চড়া দামে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, স্বাধিকার রক্ষা কমিটি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, জুলাই-আগস্টের ওই ৩৬ দিনের আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৫০০ মানুষ, যার একটি বড় অংশই ছিল শিক্ষার্থী ও খেটে খাওয়া তরুণ সমাজ। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ২৫ হাজারের বেশি মানুষ, আর দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন চিরতরে প্রায় সাত শতাধিক তরুণ।

এই বিশাল মানবিক আত্মত্যাগই পরবর্তীতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার মূল মূলধন হিসেবে কাজ করেছে। শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠা এই ঐক্য ভেঙে ফেলার সব অপচেষ্টা বিগত দুই বছরে এদেশের সচেতন সমাজ নস্যাৎ করে দিয়েছে।

নতুন রাষ্ট্র গঠন ও দুই বছরের সংস্কারের খতিয়ান

স্বৈরাচারের পতনের পর দেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন করে। বিগত দুই বছরে বাংলাদেশের সামাজিক ও প্রশাসনিক দৃশ্যপটে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন:

স্বাধীন বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: গত ১৫ বছর ধরে চেপে বসা ভয়ের অপসংস্কৃতি ও সেলফ-সেন্সরশিপের বলয় ভেঙে গণমাধ্যম এখন স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কার: নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে পেশাদার সংস্থায় রূপান্তরের জন্য গঠিত সংস্কার কমিশনগুলো তাদের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করেছে।

গণহত্যার বিচার ও জবাবদিহিতা: জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িত শীর্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর অধীনে এনে স্বচ্ছ বিচারে বিশ্বমানের নজির স্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

দুই বছরের বিজয়ের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। স্বৈরাচারী আমলে পাচার হওয়া কোটি কোটি ডলার ফেরত আনা, ভেঙে পড়া ব্যাংকিং খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা এখনও বড় পরীক্ষার বিষয়।

এছাড়া দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বহিরাগত ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্ত সামলে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা নতুন বাংলাদেশের জন্য অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

পাঁচই আগস্ট শুধু একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন নয়; এটি মূলত বৈষম্য, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ দেশের আপামর জনতার রুখে দাঁড়ানোর এক চিরন্তন প্রতীক। দুই বছর আগের এই দিনে তরুণ সমাজ যে নতুন ভোর এনে দিয়েছিল, তার আলোর মশাল ধরে রাখাই আজকের মূল অঙ্গীকার। শহীদদের পবিত্র রক্ত আর আহতদের ত্যাগের অমর স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও শোষণহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথেই এগিয়ে যাচ্ছে আজকের বাংলাদেশ।