দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য; দেশে ফিরলে ঝুঁকি থাকতে পারে উল্লেখ করে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও অস্বীকার করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশে ফিরতেই হবে: শেখ হাসিনা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
  • ৩৯ বার পঠিত হয়েছে

শেখ হাসিনা

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফিরে আসতে চান। দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, দেশে ফেরা তার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ প্রকাশ করতে চান না। তবে তিনি দাবি করেন, উপযুক্ত সময়েই তিনি দেশে ফিরবেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) ভারতের রাজধানী দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও সংযোগের মাধ্যমে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালে ক্ষমতা হারানোর পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি। বক্তব্যের পর তিনি সাংবাদিকদের কয়েকটি প্রশ্নেরও উত্তর দেন।

শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আনা অভিযোগগুলো পুনরায় অস্বীকার করেন এবং এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশে ফিরলে নানা ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারেন, তবুও একসময় তাকে ফিরতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তবে তার এসব বক্তব্যের বিপরীতে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে ওই সময়ের সহিংসতা নিয়ে ভিন্ন পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে প্রাণহানির জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ওই সহিংসতায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রসিকিউশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল একটি অডিও রেকর্ডিং, যেখানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা শোনা যায় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে যান। পরবর্তীতে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে এবং সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি। অন্যদিকে দলের নেতারা অভিযোগ করছেন, তাদের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। তবে সরকার পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলে তা দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর কারণে দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য; দেশে ফিরলে ঝুঁকি থাকতে পারে উল্লেখ করে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও অস্বীকার করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশে ফিরতেই হবে: শেখ হাসিনা

প্রকাশ: ০৩:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফিরে আসতে চান। দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, দেশে ফেরা তার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ প্রকাশ করতে চান না। তবে তিনি দাবি করেন, উপযুক্ত সময়েই তিনি দেশে ফিরবেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) ভারতের রাজধানী দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও সংযোগের মাধ্যমে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালে ক্ষমতা হারানোর পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি। বক্তব্যের পর তিনি সাংবাদিকদের কয়েকটি প্রশ্নেরও উত্তর দেন।

শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আনা অভিযোগগুলো পুনরায় অস্বীকার করেন এবং এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশে ফিরলে নানা ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারেন, তবুও একসময় তাকে ফিরতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তবে তার এসব বক্তব্যের বিপরীতে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে ওই সময়ের সহিংসতা নিয়ে ভিন্ন পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে প্রাণহানির জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ওই সহিংসতায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রসিকিউশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল একটি অডিও রেকর্ডিং, যেখানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা শোনা যায় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে যান। পরবর্তীতে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে এবং সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি। অন্যদিকে দলের নেতারা অভিযোগ করছেন, তাদের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। তবে সরকার পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলে তা দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর কারণে দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।