আজ শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর বরখাস্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে আনা ‘পলায়ন’ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে হারুন-অর-রশিদ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ওই তারিখ থেকেই তাঁর চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হবে। এত দিন তিনি সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন।
এ ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। এমনকি জবাব দেওয়ার জন্য সময়ও চাননি।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২২ জুন একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। গত ৬ আগস্ট জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (গ) বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর ২০ আগস্ট তাঁকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সেটিরও কোনো জবাব দেননি হারুন-অর-রশিদ।
হারুন-অর রশিদসকে চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চায় সরকার। গত ১ অক্টোবর কমিশন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সুপারিশ করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিভাগীয় মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন ও পিএসসির মতামত পর্যালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন।
এদিকে হারুন-অর-রশিদের মতো কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে আরও ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী, লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান সরকার এবং ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার ফারহানা তাসকিন।
প্রজ্ঞাপনে চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, অসদাচরণ এবং দেশের বাইরে গিয়ে আর কর্মস্থলে ফিরে না আসার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার কাজী মিজানুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে এটিকে অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দৈনিক টার্গেট 



























