সরকারি অফিসে নতুন সময় নির্দেশনা জারি
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নতুন করে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।
এ নির্দেশনার মাধ্যমে সেবাগ্রহণকারী সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা, দাপ্তরিক কাজের গতি বাড়ানো এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোসা. তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। নোটিশে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকা এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হলেও কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন করে নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ যেন অফিস কক্ষ ত্যাগ না করেন এবং কোনো সভা বা দাপ্তরিক কার্যক্রম ওই সময়ে যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।
এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়েও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু রাখা যাবে না।
এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে হবে। কোনো কর্মকর্তা অফিস কক্ষ ত্যাগ করলে সঙ্গে সঙ্গে সব বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।
অফিস সময় শেষে লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানারসহ সব ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করিডোর, সিঁড়ি ও টয়লেট এলাকায় অপ্রয়োজনীয় আলো ব্যবহার বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলা এবং জ্বালানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে অফিস কক্ষ, করিডোর, সিঁড়ি ও অন্যান্য স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
সবশেষে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি দপ্তর, সংস্থা ও কার্যালয়ে একটি করে পর্যবেক্ষণ দল গঠন করতে হবে, যারা নিয়মিত মনিটরিং করবে।
