টেরাকোটার রূপকথা কান্তজিউ মন্দির

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:৩৯:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত হয়েছে

আমরা শহর থেকে অনেকটা ভেতরে দুই ধারে গাছপালাবেষ্টিত সরু রাস্তা পার হয়ে কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গণে এসে উপস্থিত হলাম। নিজেদের ভেতরে অদ্ভুত একটা প্রশান্তি অনুভব করলাম। কান্তনগর নামে পরিচিতি এই এলাকার কোল ঘেঁষে বয়ে গেছে নদী, গাছপালা, সাঁওতাল আর শহুরে মানুষের মিশ্রণে এখানে গড়ে উঠেছে ভিন্নমাত্রার পরিবেশ। কথা হচ্ছিল ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি মলয় সাহার সঙ্গে। তিনি বললেন, মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু করেন মহারাজ প্রাণনাথ রায়, ১৭০৪ সালে; যদিও নির্মাণকাজ শেষ করেন তাঁর পোষ্য পুত্র রামনাথ রায়। টানা ৪৮ বছর কাজ করে চলার পর ১৭৫২ সালে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। শুরুতে মন্দিরের চূড়ার উচ্চতা ছিল ৭০ ফুট। ১৭৫২ সালে মন্দিরটি উৎসর্গ করা হয়। ১৮৯৭ সালে মন্দিরটি ভূমিকম্পের কবলে পড়লে এর চূড়াগুলো ভেঙে যায়। মহারাজা গিরিজানাথ পরে এর ব্যাপক সংস্কার করেন।

পাথরের ভিত্তির ওপর ৫০ ফুট উচ্চতার বর্গাকার এই মন্দিরের নিচতলায় ২১টি, দ্বিতীয় তলায় ২৭টি এবং তৃতীয় তলায় তিনটি দরজা-খিলান রয়েছে। তবে কান্তজিউ মন্দিরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর গায়ে থাকা অপরূপ টেরাকোটার কাজ। পুরো মন্দিরে ১৫ হাজারের মতো পোড়ামাটির ফলক রয়েছে, যেগুলোর একটির সঙ্গে অন্যটির মিল নেই। রামায়ণ, মহাভারত, পৌরাণিক কাহিনি এবং মধ্যযুগের বাংলার সামাজিক জীবনের নানা চিত্র এসব ফলকে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চার দেয়ালের এই টেরাকোটাশিল্প দেখে মনে হয়, এটি যেন চার খণ্ডে শিল্পখচিত এক পৌরাণিক মহাকাব্য। স্থাপত্যশৈলী ও শিল্পচাতুর্যের এমন নয়নাভিরাম নিদর্শন বাংলাদেশে দ্বিতীয়টি নেই।

সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি—চারটি শাস্ত্রীয় যুগের পৌরাণিক কাহিনিগুলো মন্দিরের চার দেয়ালে চিত্রায়িত। তাই বৈদিক চিত্রকাহিনি-সংবলিত টেরাকোটায় আচ্ছাদিত মন্দিরটি দেখলে মনে হবে, এ যেন চার খণ্ডে শিল্পখচিত এক পৌরাণিক মহাকাব্যের দৃশ্যমান উপস্থাপনা। এই মন্দিরের টেরাকোটা আপনাকে কখনো নিয়ে যাবে মধ্যযুগীয় বাংলায়, আবার কখনো উপস্থাপন করবে পৌরাণিক কাহিনি।

একটা স্থাপত্য আপনার ভেতরে কতখানি প্রভাব ফেলতে পারে, তা কান্তজিউ মন্দিরে না গেলে ধারণা করা যাবে না। স্থাপত্যরীতি, গঠনবিন্যাস, শিল্পচাতুর্য মন্দিরটির সামগ্রিক দৃশ্যকে মাধুর্যমণ্ডিত করে তুলেছে। কোনো ছুটিতে যদি উত্তরবঙ্গে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে কান্তজিউ মন্দিরটা দেখে ফেলুন। যতটা সময় আপনি এই মন্দিরে কাটাবেন, তা নিতান্ত বৃথা যাবে না।

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাসে এসে নামতে হবে দিনাজপুরের কালীতলা বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে লোকাল বাস, অটোরিকশা বা ইজিবাইকে চড়ে সরাসরি পৌঁছানো যাবে কান্তজিউ মন্দিরে। আর ট্রেনে এলে দিনাজপুর স্টেশনে নামার পর অটো বা ইজিবাইক রিজার্ভ করেও সরাসরি চলে যাওয়া যাবে মন্দির চত্বরে। উত্তরবঙ্গে যেকোনো ছুটিতে পরিবারসহ ঘুরে আসতে পারেন ঐতিহাসিক এই প্রাঙ্গণ।

বিমানে ভ্রমণকালে যা মনে রাখবেন

বিমানে ভ্রমণকালে যা মনে রাখবেন

আকাশপথে যাতায়াতের সময় সহযাত্রী ও ক্রুদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা জরুরি। যখন আপনি সিটবেল্ট-বাঁধা যাত্রীদের সঙ্গে মিলিয়ে ভ্রমণ করছেন, তখন শিষ্টাচারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কোনো পরিবেশ হতে পারে না।

প্রাচ্যের মুক্তা মালয়েশিয়ার পেনাং

প্রাচ্যের মুক্তা মালয়েশিয়ার পেনাং

আগামী বছর কোথায় যেতে পারেন—এই প্রশ্নের উত্তর সহজ করার জন্যই ভ্রমণ ম্যাগাজিনগুলো নানা সময়ে বিভিন্ন তালিকা প্রকাশ করে। তেমনই ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক প্রকাশ করেছে, আগামী বছর ভ্রমণের জন্য উল্লেখযোগ্য গন্তব্যগুলো কোথায় হতে পারে। সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার কয়েকটি জায়গা।

সমুদ্রের বুকে দক্ষিণ কোরিয়ার এক বেগুনি দ্বীপ

সমুদ্রের বুকে দক্ষিণ কোরিয়ার এক বেগুনি দ্বীপ

কল্পনা করুন এমন এক দ্বীপের কথা, যেখানে বিশাল সমুদ্রের নীল পানির ওপর দিয়ে প্রসারিত কাঠের দীর্ঘ সেতু। সেখানে ঘরবাড়ির ছাদ, রাজপথ, টেলিফোন বুথ, সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে রাস্তার বেঞ্চ পর্যন্ত সবকিছুই রাঙানো বেগুনি রঙের নানা মায়াবী শেডে। কোনো ফ্যান্টাসি সিনেমা বা রূপকথার বইয়ের পাতা থেকে যেন বাস্তব জগতে

জনপ্রিয় টার্গেট

টেরাকোটার রূপকথা কান্তজিউ মন্দির

প্রকাশ: ০৯:৩৯:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আমরা শহর থেকে অনেকটা ভেতরে দুই ধারে গাছপালাবেষ্টিত সরু রাস্তা পার হয়ে কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গণে এসে উপস্থিত হলাম। নিজেদের ভেতরে অদ্ভুত একটা প্রশান্তি অনুভব করলাম। কান্তনগর নামে পরিচিতি এই এলাকার কোল ঘেঁষে বয়ে গেছে নদী, গাছপালা, সাঁওতাল আর শহুরে মানুষের মিশ্রণে এখানে গড়ে উঠেছে ভিন্নমাত্রার পরিবেশ। কথা হচ্ছিল ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি মলয় সাহার সঙ্গে। তিনি বললেন, মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু করেন মহারাজ প্রাণনাথ রায়, ১৭০৪ সালে; যদিও নির্মাণকাজ শেষ করেন তাঁর পোষ্য পুত্র রামনাথ রায়। টানা ৪৮ বছর কাজ করে চলার পর ১৭৫২ সালে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। শুরুতে মন্দিরের চূড়ার উচ্চতা ছিল ৭০ ফুট। ১৭৫২ সালে মন্দিরটি উৎসর্গ করা হয়। ১৮৯৭ সালে মন্দিরটি ভূমিকম্পের কবলে পড়লে এর চূড়াগুলো ভেঙে যায়। মহারাজা গিরিজানাথ পরে এর ব্যাপক সংস্কার করেন।

পাথরের ভিত্তির ওপর ৫০ ফুট উচ্চতার বর্গাকার এই মন্দিরের নিচতলায় ২১টি, দ্বিতীয় তলায় ২৭টি এবং তৃতীয় তলায় তিনটি দরজা-খিলান রয়েছে। তবে কান্তজিউ মন্দিরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর গায়ে থাকা অপরূপ টেরাকোটার কাজ। পুরো মন্দিরে ১৫ হাজারের মতো পোড়ামাটির ফলক রয়েছে, যেগুলোর একটির সঙ্গে অন্যটির মিল নেই। রামায়ণ, মহাভারত, পৌরাণিক কাহিনি এবং মধ্যযুগের বাংলার সামাজিক জীবনের নানা চিত্র এসব ফলকে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চার দেয়ালের এই টেরাকোটাশিল্প দেখে মনে হয়, এটি যেন চার খণ্ডে শিল্পখচিত এক পৌরাণিক মহাকাব্য। স্থাপত্যশৈলী ও শিল্পচাতুর্যের এমন নয়নাভিরাম নিদর্শন বাংলাদেশে দ্বিতীয়টি নেই।

সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি—চারটি শাস্ত্রীয় যুগের পৌরাণিক কাহিনিগুলো মন্দিরের চার দেয়ালে চিত্রায়িত। তাই বৈদিক চিত্রকাহিনি-সংবলিত টেরাকোটায় আচ্ছাদিত মন্দিরটি দেখলে মনে হবে, এ যেন চার খণ্ডে শিল্পখচিত এক পৌরাণিক মহাকাব্যের দৃশ্যমান উপস্থাপনা। এই মন্দিরের টেরাকোটা আপনাকে কখনো নিয়ে যাবে মধ্যযুগীয় বাংলায়, আবার কখনো উপস্থাপন করবে পৌরাণিক কাহিনি।

একটা স্থাপত্য আপনার ভেতরে কতখানি প্রভাব ফেলতে পারে, তা কান্তজিউ মন্দিরে না গেলে ধারণা করা যাবে না। স্থাপত্যরীতি, গঠনবিন্যাস, শিল্পচাতুর্য মন্দিরটির সামগ্রিক দৃশ্যকে মাধুর্যমণ্ডিত করে তুলেছে। কোনো ছুটিতে যদি উত্তরবঙ্গে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে কান্তজিউ মন্দিরটা দেখে ফেলুন। যতটা সময় আপনি এই মন্দিরে কাটাবেন, তা নিতান্ত বৃথা যাবে না।

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাসে এসে নামতে হবে দিনাজপুরের কালীতলা বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে লোকাল বাস, অটোরিকশা বা ইজিবাইকে চড়ে সরাসরি পৌঁছানো যাবে কান্তজিউ মন্দিরে। আর ট্রেনে এলে দিনাজপুর স্টেশনে নামার পর অটো বা ইজিবাইক রিজার্ভ করেও সরাসরি চলে যাওয়া যাবে মন্দির চত্বরে। উত্তরবঙ্গে যেকোনো ছুটিতে পরিবারসহ ঘুরে আসতে পারেন ঐতিহাসিক এই প্রাঙ্গণ।

বিমানে ভ্রমণকালে যা মনে রাখবেন

বিমানে ভ্রমণকালে যা মনে রাখবেন

আকাশপথে যাতায়াতের সময় সহযাত্রী ও ক্রুদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা জরুরি। যখন আপনি সিটবেল্ট-বাঁধা যাত্রীদের সঙ্গে মিলিয়ে ভ্রমণ করছেন, তখন শিষ্টাচারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কোনো পরিবেশ হতে পারে না।

প্রাচ্যের মুক্তা মালয়েশিয়ার পেনাং

প্রাচ্যের মুক্তা মালয়েশিয়ার পেনাং

আগামী বছর কোথায় যেতে পারেন—এই প্রশ্নের উত্তর সহজ করার জন্যই ভ্রমণ ম্যাগাজিনগুলো নানা সময়ে বিভিন্ন তালিকা প্রকাশ করে। তেমনই ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক প্রকাশ করেছে, আগামী বছর ভ্রমণের জন্য উল্লেখযোগ্য গন্তব্যগুলো কোথায় হতে পারে। সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার কয়েকটি জায়গা।

সমুদ্রের বুকে দক্ষিণ কোরিয়ার এক বেগুনি দ্বীপ

সমুদ্রের বুকে দক্ষিণ কোরিয়ার এক বেগুনি দ্বীপ

কল্পনা করুন এমন এক দ্বীপের কথা, যেখানে বিশাল সমুদ্রের নীল পানির ওপর দিয়ে প্রসারিত কাঠের দীর্ঘ সেতু। সেখানে ঘরবাড়ির ছাদ, রাজপথ, টেলিফোন বুথ, সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে রাস্তার বেঞ্চ পর্যন্ত সবকিছুই রাঙানো বেগুনি রঙের নানা মায়াবী শেডে। কোনো ফ্যান্টাসি সিনেমা বা রূপকথার বইয়ের পাতা থেকে যেন বাস্তব জগতে