সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পর্যাপ্ত ঘুম। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের কিছুটা বেশি ঘুমের প্রয়োজন হতে পারে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হরমোনজনিত পরিবর্তন ও শরীরের জৈবিক কার্যক্রম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীর শরীরে বিভিন্ন হরমোনের কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ছন্দের সঙ্গে সম্পর্কিত। পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম সেই ছন্দ ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, রাত গভীর হওয়ার আগেই ঘুমানোর অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারী। এতে মেলাটোনিনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় হরমোন স্বাভাবিকভাবে নিঃসৃত হয়, যা বিপাকক্রিয়া, মানসিক সুস্থতা এবং প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে অনিদ্রা ও ঘুমসংক্রান্ত সমস্যার হার তুলনামূলক বেশি। কর্মক্ষেত্র, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে অনেক নারী পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারেন না। এর প্রভাব সরাসরি শরীরের হরমোনের ভারসাম্যের ওপর পড়ে।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ইনসুলিনের কার্যকারিতায় সমস্যা, ঋতুচক্রের অনিয়ম এবং প্রজননসংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এমনকি ডিম্বস্ফোটনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ঘুমের মান ভালো রাখতে ‘স্লিপ হাইজিন’ মেনে চলা জরুরি। অর্থাৎ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার কমানো এবং আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে শরীরের হরমোনগত ভারসাম্য রক্ষা সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নারীদের পর্যাপ্ত ঘুমকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কারণ ভালো ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করে না, বরং হরমোন, বিপাকক্রিয়া ও প্রজননস্বাস্থ্যের সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দৈনিক টার্গেট 



















