আটোয়ারী উপজেলার তোরেয়ার লাউচাষি আবদুল কাদের গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, ১০০ টাকা অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে লাউ বাজারে নিয়ে বিক্রি করেছেন মাত্র ১২০ টাকা। তাঁর হাতে থাকল মাত্র ২০ টাকা। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এমনটা জানলে লাউ বাজারে আনতাম না।’
শুধু কাদের নন, পঞ্চগড়ের সব লাউচাষির এখন একই অবস্থা। বাজারে দাম না পেয়ে অনেকে লাউ খেত থেকে তুলছেন না, কেউ আবার বন্ধ করে দিয়েছেন পরিচর্যাও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন উপজেলায় লাউয়ের ভালো ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ অবিশ্বাস্য দরপতন হয়েছে। এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে চারটি লাউ! প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে উৎপাদিত লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৫ হাজার টাকায়। অথচ আগের কয়েক বছর একই জমির লাউ বিক্রি করে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন কৃষকেরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় লাউচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে ৩ থেকে ৫ হাজার লাউ উৎপাদিত হয়। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ উৎপাদন খরচ পড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে এ সবজির দাম না থাকায় উৎপাদন খরচের সামান্য অংশও উঠছে না।
মির্জাপুর ইউনিয়নের লাউচাষি দুলাল জানান, ভালো ফলন
হলেও এবার বাজারে দাম নেই। এক টাকায় চারটি লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে পুঁজি হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
লাউচাষি আবাস আলী বলেন, পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও যদি উৎপাদন খরচ না ওঠে, তাহলে কৃষক কীভাবে সংসার চালাব? কৃষকদের বাঁচাতে উদ্যোগ
এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।

দৈনিক টার্গেট 


























