হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: চিকিৎসক সংকট, নেই অস্ত্রোপচারকক্ষ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:২৫:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত হয়েছে

মেঘনাপারের উপজেলাটির প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে অন্তত ৬০০ রোগী চিকিৎসা নেয়। ৩১টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫২ জন রোগী অভ্যন্তরীণ বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে অনুমোদিত ১৩১ পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৭৫ জন, খালি রয়েছে ৫৬টি পদ। ২০ জন চিকিৎসকের মধ্যে আছেন ১১ জন। ২০ জনের মধ্যে তিনজন কনসালট্যান্ট থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে একজনও নেই। নার্সের ৩০টি পদের মধ্যে কর্মরত ২৬ জন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বড় সংকট হলো অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকা। হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার (অস্ত্রোপচারকক্ষ) না থাকায় কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার হয় না। শুধু স্বাভাবিক প্রসব হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে প্রসূতিকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়।

হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগ থাকলেও নেই এক্স-রে মেশিন। আলট্রাসনোগ্রামের ব্যবস্থাও নেই। সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ানও নেই। ফলে সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও রোগীদের হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে একতলা ভবনে ৩১ শয্যা রোগীতে পূর্ণ। আরও অনেক রোগী ও তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বজনেরা হাসপাতালের বারান্দায় থাকছেন। এক কক্ষে ছয়জন চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

রোগী সেলিনা বেগমের স্বামী মনজুর মিয়া বলেন, ‘বেড খালি না থাকায় মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।’ আরেক রোগী মহসিন মিয়া বলেন, ‘ছোটখাটো অপারেশনের জন্যও জেলা সদরে যেতে হয়।’

২০১৯ সালে ৩১ শয্যার এই হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মেয়াদ ছয় দফা বাড়ানোর পরও কাজ শেষ হয়নি। পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন ঠিকাদারকে কাজের আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদন্নবী মাছুম বলেন, ৫০ শয্যায় উন্নীত করার অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত হবে। উন্নয়নকাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় চিকিৎসকদের কক্ষেও রোগীদের রাখতে হচ্ছে।

কক্সবাজার শহর থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে এগোলে ১২ কিলোমিটার দূরে হিমছড়ি সৈকত। সড়কের এক পাশে সমুদ্রের বিশাল নীল জলরাশি, অন্য পাশে ছোট ছোট সবুজ পাহাড়ের সারি। মেরিন ড্রাইভের পাশ ঘেঁষে সবুজ গাছগাছালির মধ্যে লাল রঙের দেয়াল এবং লাল টালির ছাদের নিচে ছোট ছোট ভবন নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি রিসোর্ট।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মেয়ের শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে খুন হয়েছেন আব্দুর রহমান (৬৮) নামের এক বৃদ্ধ। আজ বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গল্লাসাঙ্গন গ্রামের ছাতুরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রহমান বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা আরেঙ্গাবাদ গ্রামের হাজী ইসরাক আলীর ছেলে।

জনপ্রিয় টার্গেট

হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: চিকিৎসক সংকট, নেই অস্ত্রোপচারকক্ষ

প্রকাশ: ০২:২৫:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মেঘনাপারের উপজেলাটির প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে অন্তত ৬০০ রোগী চিকিৎসা নেয়। ৩১টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫২ জন রোগী অভ্যন্তরীণ বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে অনুমোদিত ১৩১ পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৭৫ জন, খালি রয়েছে ৫৬টি পদ। ২০ জন চিকিৎসকের মধ্যে আছেন ১১ জন। ২০ জনের মধ্যে তিনজন কনসালট্যান্ট থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে একজনও নেই। নার্সের ৩০টি পদের মধ্যে কর্মরত ২৬ জন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বড় সংকট হলো অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকা। হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার (অস্ত্রোপচারকক্ষ) না থাকায় কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার হয় না। শুধু স্বাভাবিক প্রসব হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে প্রসূতিকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়।

হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগ থাকলেও নেই এক্স-রে মেশিন। আলট্রাসনোগ্রামের ব্যবস্থাও নেই। সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ানও নেই। ফলে সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও রোগীদের হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে একতলা ভবনে ৩১ শয্যা রোগীতে পূর্ণ। আরও অনেক রোগী ও তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বজনেরা হাসপাতালের বারান্দায় থাকছেন। এক কক্ষে ছয়জন চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

রোগী সেলিনা বেগমের স্বামী মনজুর মিয়া বলেন, ‘বেড খালি না থাকায় মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।’ আরেক রোগী মহসিন মিয়া বলেন, ‘ছোটখাটো অপারেশনের জন্যও জেলা সদরে যেতে হয়।’

২০১৯ সালে ৩১ শয্যার এই হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মেয়াদ ছয় দফা বাড়ানোর পরও কাজ শেষ হয়নি। পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন ঠিকাদারকে কাজের আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদন্নবী মাছুম বলেন, ৫০ শয্যায় উন্নীত করার অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত হবে। উন্নয়নকাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় চিকিৎসকদের কক্ষেও রোগীদের রাখতে হচ্ছে।

কক্সবাজার শহর থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে এগোলে ১২ কিলোমিটার দূরে হিমছড়ি সৈকত। সড়কের এক পাশে সমুদ্রের বিশাল নীল জলরাশি, অন্য পাশে ছোট ছোট সবুজ পাহাড়ের সারি। মেরিন ড্রাইভের পাশ ঘেঁষে সবুজ গাছগাছালির মধ্যে লাল রঙের দেয়াল এবং লাল টালির ছাদের নিচে ছোট ছোট ভবন নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি রিসোর্ট।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মেয়ের শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে খুন হয়েছেন আব্দুর রহমান (৬৮) নামের এক বৃদ্ধ। আজ বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গল্লাসাঙ্গন গ্রামের ছাতুরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রহমান বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা আরেঙ্গাবাদ গ্রামের হাজী ইসরাক আলীর ছেলে।