এদিকে, ঘটনার পর আহতদের পক্ষের লোকজন মো. মহসিন নামে আরেক যুবদল কর্মীকে মারধর করে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেলিশহর ইউনিয়নের পূর্ব রতনপুর মৌলভী বাজার এলাকার যুবদল কর্মী মো. মহসিন ও তাঁর সহযোগী আবু তাহের দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গতকাল রাতে ওয়ার্ড যুবদলের কর্মী সৈয়দ নূরকে টর্চলাইট দিয়ে অতর্কিত আঘাত করেন মহসিন। বাধা দিতে গেলে মহসিনের সহযোগী আবু তাহের সৈয়দ আমিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় ক্ষুব্ধ লোকজন মহসিনকে ধরে মারধর করে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
যুবদল কর্মী সৈয়দ নূর জানান, মহসিন ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। এতে বাধা দেওয়ায় গতকাল রাতে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
ঘটনার পর গুরুতর আহত সৈয়দ আমিন রাত ১২টার পর হাতে স্যালাইন লাগানো অবস্থায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পটিয়া থানায় যান। তিনি জানান, হামলার বিচার চাইতে এবং নিজের শারীরিক অবস্থা ও আঘাতের চিহ্ন দেখাতে মধ্যরাতে থানার ওসির কাছে এসেছেন তিনি।
কেলিশহর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আলম মেম্বার জানান, মহসিনের মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্থানীয় লোকজন তাঁকে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছেন। গতকালের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে মহসিনকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাটিও মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।
পটিয়া উপজেলা যুবদলের সংগঠক মো. সাখাওয়াত জানান, সৈয়দ নূর ও সৈয়দ আমিন দুজনই যুবদলের কর্মী। মাদক কারবারিরা তাঁদের দুজনকে গুরুতর জখম করেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে মহসিনের পরিবারের দাবি, পূর্বশত্রুতার জের ধরে মহসিনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের কোনো মামলা নেই।
পটিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আল-আমিন জানান, গতকাল রাতে মাদক উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশ কেলিশহরের পূর্ব রতনপুর মৌলভী বাজার এলাকায় যায়, তবে সেখানে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জেনেছেন। মারধরের শিকার মহসিনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে মাদকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছেন এবং দুই পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মহসিনের কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দৈনিক টার্গেট 


















