দৌলতপুরে পদ্মায় পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাপ আতঙ্কে বানভাসিরা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১০:১৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৮ বার পঠিত হয়েছে

এদিকে রান্নার জায়গা ও চলাচলের পথ তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিষধর সাপের উপদ্রব। ঘরবাড়ি ও বসতভিটার আশপাশে সাপের আনাগোনায় আতঙ্কে দিন কাটছে বানভাসি মানুষের।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় গত এক সপ্তাহে পদ্মা নদীতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ সেন্টিমিটার করে পানি বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে পদ্মায় পানি দ্রুত বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে গত দুই-তিন দিনে তাঁর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭ টির নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। স্কুলগুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পানি ওঠার পর থেকে বিষধর সাপের উপদ্রবও বেড়েছে। ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, তাঁর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের চারপাশে এখন পানি। সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক বাড়ির ভেতরে পানি না ঢুকলেও বসতভিটা পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে। পানির দুর্ভোগের পাশাপাশি সাপের আতঙ্কেও মানুষ দিশেহারা।

এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আবাদি জমিও তলিয়ে গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বানভাসি মানুষের তালিকা তৈরি করে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’

এদিকে দুর্গত এলাকার প্লাবিত মানুষের দাবি, জীবন রক্ষায় অবিলম্বে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বানের পানিতে বিষধর সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সাপের কামড়ের চিকিৎসায় জরুরি অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা এবং ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে উপদ্রুত অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দ্রুতগতির কাঁচা মরিচবোঝাই শ্যালো ইঞ্জিনচালিত আলগামনের ধাক্কায় জহুরুল ইসলাম (৪৫) নামের এক সরবরাহকর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের চামনাই এলাকায় কুষ্টিয়া-প্রাগপুর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে…

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের কুচিয়ামোড়া সেতুর ঢালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুজন আহত হন। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

জনপ্রিয় টার্গেট

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৯ অক্টোবর ২০২৬

দৌলতপুরে পদ্মায় পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাপ আতঙ্কে বানভাসিরা

প্রকাশ: ১০:১৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এদিকে রান্নার জায়গা ও চলাচলের পথ তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিষধর সাপের উপদ্রব। ঘরবাড়ি ও বসতভিটার আশপাশে সাপের আনাগোনায় আতঙ্কে দিন কাটছে বানভাসি মানুষের।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় গত এক সপ্তাহে পদ্মা নদীতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ সেন্টিমিটার করে পানি বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে পদ্মায় পানি দ্রুত বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে গত দুই-তিন দিনে তাঁর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭ টির নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। স্কুলগুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পানি ওঠার পর থেকে বিষধর সাপের উপদ্রবও বেড়েছে। ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, তাঁর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের চারপাশে এখন পানি। সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক বাড়ির ভেতরে পানি না ঢুকলেও বসতভিটা পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে। পানির দুর্ভোগের পাশাপাশি সাপের আতঙ্কেও মানুষ দিশেহারা।

এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আবাদি জমিও তলিয়ে গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বানভাসি মানুষের তালিকা তৈরি করে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’

এদিকে দুর্গত এলাকার প্লাবিত মানুষের দাবি, জীবন রক্ষায় অবিলম্বে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বানের পানিতে বিষধর সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সাপের কামড়ের চিকিৎসায় জরুরি অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা এবং ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে উপদ্রুত অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দ্রুতগতির কাঁচা মরিচবোঝাই শ্যালো ইঞ্জিনচালিত আলগামনের ধাক্কায় জহুরুল ইসলাম (৪৫) নামের এক সরবরাহকর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের চামনাই এলাকায় কুষ্টিয়া-প্রাগপুর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে…

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের কুচিয়ামোড়া সেতুর ঢালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুজন আহত হন। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।