গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মিলনায়তনে ‘১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে এসব বিষয় উঠে আসে। দুই দিনের এই সম্মেলনে ব্যাংকিং খাতের সংকট, সংস্কারের চ্যালেঞ্জ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফেরানোর নীতিগত দিকগুলো গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ ঋণ নেওয়ায় মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নীতিগুলোর মধ্যে অধীনতামূলক সম্পর্কের পরিবর্তে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শুধু কঠোর আইন দিয়ে ব্যাংক খাতের সংস্কার সম্ভব নয়। ব্যাংকার ও শিল্পোদ্যোক্তাদের ন্যূনতম নৈতিকতা ও মূল্যবোধ থাকতে হবে। আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সুবিধা বিতরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। দুর্বল ব্যাংক পুনরুদ্ধারে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার প্রয়োজন হতে পারে, তবে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সৎ ও প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে অর্থ পৌঁছানোও জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদ বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ব্যাংক খাতের ওপর আস্থা ফেরাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ১৫টি ব্যাংকের সম্পদের মান পর্যালোচনা (একিউআর) করা হয়েছে। এই কার্যক্রম চলবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনাদায়ি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর আশা করা হচ্ছে। এ জন্য বিশেষ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন ও মানি অ্যাক্ট প্রণয়নের কাজ চলছে। ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এই আলোচনায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি ও কারখানা সম্প্রসারণে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। পিএমআই ৪৮-এ নেমে আসা অর্থনৈতিক সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ৯ দশমিক ৫ শতাংশ নীতি সুদহারও অর্থনীতিতে সংকোচনমূলক নীতির প্রভাব ফেলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতেও একধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে গতি ফেরাতে সরকারি মেগা প্রকল্পগুলো চালুর আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, দেশের অর্থনীতির সিংহভাগ অর্থায়ন আসে বেসরকারি ব্যাংক থেকে। তাই সংস্কারের নীতি এমন হতে হবে, যাতে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা অর্থায়ন পান এবং ব্যাংকের পরিচালন সক্ষমতা বজায় থাকে।

দৈনিক টার্গেট 

























