সুন্দরবন: শুঁটকি মৌসুমে আবার দস্যুর ভয়

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত হয়েছে

• কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে বন বিভাগ, এসআরবি ও কোস্ট গার্ড।

• এবার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ৮ কোটি টাকা।

সুন্দরবন: শুঁটকি মৌসুমে আবার দস্যুর ভয়

ফাইল ছবি

মাথায় মহাজনের ঋণ। আতঙ্ক জলদস্যুদের দৌরাত্ম্যের। ঝুঁকি রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও। সঙ্গে ভারতীয় জেলেদের নিয়ে অনুপ্রবেশের শঙ্কা। চতুর্মুখী সংকটের মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুক্রবার সুন্দরবনে শুঁটকি উৎপাদনে যাচ্ছেন হাজারো জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা। আগামী ৫ মাস সুন্দরবনের দুবলার চরসহ বিভিন্ন চরে অস্থায়ী স্থাপনা ও মাচা তৈরি করে চলবে এই শুঁটকি উৎপাদনের মৌসুম। সাগর থেকে মাছ শিকার করে মাচায় শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করবেন জেলেরা।

এরই মধ্যে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে খাদ্য, জ্বালানি, মাছ ধরার জালসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম নিয়ে নৌকা গুছিয়ে নিচ্ছেন জেলেরা। আজ বৃহস্পতিবার থেকে সুন্দরবনের দুবলার চরের উদ্দেশে রওনা হবেন তাঁরা। এবার শুঁটকিপল্লি থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ কোটি টাকা।

এদিকে বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে জেলেদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বন বিভাগ। তাঁদের নৌকাগুলোকে পাশাপাশি রাখা, গভীর সমুদ্রে এবং গহিন বনে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বন বিভাগের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং কোস্ট গার্ড বিশেষ নিরাপত্তায় থাকবে।

মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ মোট জলসীমার আয়তন ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে মাছ আহরণ কার্যক্রম ২০০ মিটার গভীরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রায় ২৩৭টি শিল্প ট্রলার এবং ২৮ হাজার ৫৭৫টি যান্ত্রিক ও প্রচলিত মাছ ধরার নৌযান মাছ আহরণ করে থাকে। বর্তমানে খুলনা জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৪৫ জন। তাঁদের মধ্যে জেলার পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপ, রূপসা, ডুমুরিয়া উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩১ হাজার জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যান। প্রতিবছর এ সংখ্যা বাড়ছে। শুধু পাইকগাছার ১০টি গ্রামে এই সংখ্যা দেড় হাজার।

তবে বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৩ লাখ জেলে বসবাস করেন। তাঁদের অধিকাংশ ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকায় সমুদ্র ও উপকূলবর্তী এলাকায় মাছ আহরণ করেন।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুবলার চরের চারটি শুঁটকিপল্লি থেকে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বৈরী আবহাওয়া এবং দস্যুদের তৎপরতার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। গত মৌসুমে ৫ হাজার ৪৩১ দশমিক ৭ টন শুঁটকি উৎপাদন থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৭ কোটি ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৪৯৩ টাকা।

গতকাল বুধবার খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বিশ্বাস শঙ্কর জানান, তিনিসহ ৪০ জন জেলে পাঁচটি নৌকার বহর নিয়ে সাগরে যাচ্ছেন। তাঁদের কেউ কেউ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত মহাজনের ঋণ নিয়ে বহর সাজিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে সাগরে ভারতীয় জেলেদের আধিক্য এবং বনদস্যুদের দৌরাত্ম্যের কারণে তাঁরা চিন্তিত।

জেলে বরাম সরদার বলেন, ‘এবারের মৌসুমে সাগরে তেমন ইলিশ পাইনি। ভারতীয় জেলেদের কারণে গভীর সমুদ্রেও যেতে পারিনি। কাজেই এবার আশানুরূপ মাছ পাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। তা ছাড়া মাছ ধরা পড়লে তার একটি অংশ বনদস্যুদের দিতে হয়। সব মিলিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।’

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কাটাখালী, হাবিবনগর, নোয়াকাঠি, মাহামুদকাঠি, হেতামপুর, রামনাথপুর, কাঠিপাড়ার জেলেপল্লিগুলো ঘুরে এবং স্থানীয়দের মন্তব্যে গভীর সাগরে মাছ শিকার, নিরাপত্তাসহ নানা সীমাবদ্ধতা উঠে এসেছে।

দুবলার চর ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাগরে দস্যুদের তৎপরতার কারণে এই ব্যবসা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। শুঁটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন দস্যু বাহিনী সংগঠিত হওয়ার খবর শোনা যাচ্ছে। গত মৌসুমে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে দস্যু বাহিনীগুলোকে।

খুলনার বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সাগরে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তায় বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে বনরক্ষী মোতায়েন থাকবে। তবে গভীর সমুদ্রে একা যেতে নিষেধ করা হয়েছে। রাতে একসঙ্গে ১৫-২০টি নৌকা একসঙ্গে থাকার কথাও বলা হয়।

ইমরান আহমেদ আরও বলেন, জেলে ঘর, ডিপো ঘর এবং মাছ শুকানোর মাচা তৈরিতে সুন্দরবনের কোনো বনজ সম্পদ ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজনীয় সব নির্মাণসামগ্রী নিজ নিজ এলাকা থেকে নিয়ে যেতে হবে। ৩০ অক্টোবর থেকে শুঁটকিপল্লিতে ঘর তৈরির কাজ শুরু হওয়ার কথা। একই সঙ্গে সাগরে মাছ আহরণ এবং শুঁটকি তৈরির কার্যক্রমও শুরু হবে।

এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে ছয়টি বনদস্যু বাহিনীর ৭৪ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে। শুঁটকির সবচেয়ে বড় মোকাম দুবলার চরে এসআরবির অস্থায়ী ক্যাম্প রয়েছে। সেখান থেকে ফোর্স কাজ করে।’

কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, আসন্ন শুঁটকি আহরণ মৌসুমকে কেন্দ্র করে মৎস্যজীবীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোন বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে।

চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, খুলনায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ভাঙচুর

চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, খুলনায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ভাঙচুর

খুলনায় চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগরীর স্যার ইকবাল রোডে অবস্থিত সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভাঙচুর করেছেন শিশুটির স্বজনেরা। আজ বুধবার সকালে তাঁরা কেন্দ্রটির কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে ফেলেন।

খুলনায় চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে জামায়াতের উদ্বেগ

খুলনায় চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে জামায়াতের উদ্বেগ

খুলনা অঞ্চলে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, প্রকাশ্যে গুলি ও চাঁদাবাজির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের নেতারা। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দাবি করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নেপথ্যের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি…

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় ওহিদুল ইসলাম বাদল নামের যুবদলের এক নেতাকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার জলমা ইউনিয়নের চক্রাখালী বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

জনপ্রিয় টার্গেট

যশোর কারাগার: সাজা শেষ, তবু ফেরা হচ্ছে না ৪৩ ভারতীয়র

সুন্দরবন: শুঁটকি মৌসুমে আবার দস্যুর ভয়

প্রকাশ: ০১:০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

• কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে বন বিভাগ, এসআরবি ও কোস্ট গার্ড।

• এবার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ৮ কোটি টাকা।

সুন্দরবন: শুঁটকি মৌসুমে আবার দস্যুর ভয়

ফাইল ছবি

মাথায় মহাজনের ঋণ। আতঙ্ক জলদস্যুদের দৌরাত্ম্যের। ঝুঁকি রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও। সঙ্গে ভারতীয় জেলেদের নিয়ে অনুপ্রবেশের শঙ্কা। চতুর্মুখী সংকটের মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুক্রবার সুন্দরবনে শুঁটকি উৎপাদনে যাচ্ছেন হাজারো জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা। আগামী ৫ মাস সুন্দরবনের দুবলার চরসহ বিভিন্ন চরে অস্থায়ী স্থাপনা ও মাচা তৈরি করে চলবে এই শুঁটকি উৎপাদনের মৌসুম। সাগর থেকে মাছ শিকার করে মাচায় শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করবেন জেলেরা।

এরই মধ্যে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে খাদ্য, জ্বালানি, মাছ ধরার জালসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম নিয়ে নৌকা গুছিয়ে নিচ্ছেন জেলেরা। আজ বৃহস্পতিবার থেকে সুন্দরবনের দুবলার চরের উদ্দেশে রওনা হবেন তাঁরা। এবার শুঁটকিপল্লি থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ কোটি টাকা।

এদিকে বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে জেলেদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বন বিভাগ। তাঁদের নৌকাগুলোকে পাশাপাশি রাখা, গভীর সমুদ্রে এবং গহিন বনে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বন বিভাগের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং কোস্ট গার্ড বিশেষ নিরাপত্তায় থাকবে।

মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ মোট জলসীমার আয়তন ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে মাছ আহরণ কার্যক্রম ২০০ মিটার গভীরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রায় ২৩৭টি শিল্প ট্রলার এবং ২৮ হাজার ৫৭৫টি যান্ত্রিক ও প্রচলিত মাছ ধরার নৌযান মাছ আহরণ করে থাকে। বর্তমানে খুলনা জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৪৫ জন। তাঁদের মধ্যে জেলার পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপ, রূপসা, ডুমুরিয়া উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩১ হাজার জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যান। প্রতিবছর এ সংখ্যা বাড়ছে। শুধু পাইকগাছার ১০টি গ্রামে এই সংখ্যা দেড় হাজার।

তবে বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৩ লাখ জেলে বসবাস করেন। তাঁদের অধিকাংশ ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকায় সমুদ্র ও উপকূলবর্তী এলাকায় মাছ আহরণ করেন।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুবলার চরের চারটি শুঁটকিপল্লি থেকে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বৈরী আবহাওয়া এবং দস্যুদের তৎপরতার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। গত মৌসুমে ৫ হাজার ৪৩১ দশমিক ৭ টন শুঁটকি উৎপাদন থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৭ কোটি ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৪৯৩ টাকা।

গতকাল বুধবার খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বিশ্বাস শঙ্কর জানান, তিনিসহ ৪০ জন জেলে পাঁচটি নৌকার বহর নিয়ে সাগরে যাচ্ছেন। তাঁদের কেউ কেউ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত মহাজনের ঋণ নিয়ে বহর সাজিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে সাগরে ভারতীয় জেলেদের আধিক্য এবং বনদস্যুদের দৌরাত্ম্যের কারণে তাঁরা চিন্তিত।

জেলে বরাম সরদার বলেন, ‘এবারের মৌসুমে সাগরে তেমন ইলিশ পাইনি। ভারতীয় জেলেদের কারণে গভীর সমুদ্রেও যেতে পারিনি। কাজেই এবার আশানুরূপ মাছ পাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। তা ছাড়া মাছ ধরা পড়লে তার একটি অংশ বনদস্যুদের দিতে হয়। সব মিলিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।’

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কাটাখালী, হাবিবনগর, নোয়াকাঠি, মাহামুদকাঠি, হেতামপুর, রামনাথপুর, কাঠিপাড়ার জেলেপল্লিগুলো ঘুরে এবং স্থানীয়দের মন্তব্যে গভীর সাগরে মাছ শিকার, নিরাপত্তাসহ নানা সীমাবদ্ধতা উঠে এসেছে।

দুবলার চর ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাগরে দস্যুদের তৎপরতার কারণে এই ব্যবসা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। শুঁটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন দস্যু বাহিনী সংগঠিত হওয়ার খবর শোনা যাচ্ছে। গত মৌসুমে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে দস্যু বাহিনীগুলোকে।

খুলনার বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সাগরে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তায় বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে বনরক্ষী মোতায়েন থাকবে। তবে গভীর সমুদ্রে একা যেতে নিষেধ করা হয়েছে। রাতে একসঙ্গে ১৫-২০টি নৌকা একসঙ্গে থাকার কথাও বলা হয়।

ইমরান আহমেদ আরও বলেন, জেলে ঘর, ডিপো ঘর এবং মাছ শুকানোর মাচা তৈরিতে সুন্দরবনের কোনো বনজ সম্পদ ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজনীয় সব নির্মাণসামগ্রী নিজ নিজ এলাকা থেকে নিয়ে যেতে হবে। ৩০ অক্টোবর থেকে শুঁটকিপল্লিতে ঘর তৈরির কাজ শুরু হওয়ার কথা। একই সঙ্গে সাগরে মাছ আহরণ এবং শুঁটকি তৈরির কার্যক্রমও শুরু হবে।

এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে ছয়টি বনদস্যু বাহিনীর ৭৪ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে। শুঁটকির সবচেয়ে বড় মোকাম দুবলার চরে এসআরবির অস্থায়ী ক্যাম্প রয়েছে। সেখান থেকে ফোর্স কাজ করে।’

কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, আসন্ন শুঁটকি আহরণ মৌসুমকে কেন্দ্র করে মৎস্যজীবীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোন বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে।

চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, খুলনায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ভাঙচুর

চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, খুলনায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ভাঙচুর

খুলনায় চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগরীর স্যার ইকবাল রোডে অবস্থিত সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভাঙচুর করেছেন শিশুটির স্বজনেরা। আজ বুধবার সকালে তাঁরা কেন্দ্রটির কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে ফেলেন।

খুলনায় চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে জামায়াতের উদ্বেগ

খুলনায় চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে জামায়াতের উদ্বেগ

খুলনা অঞ্চলে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, প্রকাশ্যে গুলি ও চাঁদাবাজির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের নেতারা। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দাবি করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নেপথ্যের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি…

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় ওহিদুল ইসলাম বাদল নামের যুবদলের এক নেতাকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার জলমা ইউনিয়নের চক্রাখালী বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।