দৈনন্দিন জীবনে সাক্ষাৎকালে পরস্পরের মাঝে সালাম বিনিময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিস শরিফে সালামের যে গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরা হয়েছে, তা থেকে এর গভীরতা উপলব্ধি করা যায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা ইমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না; আর যতক্ষণ না তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা গড়ে উঠবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা প্রকৃত ইমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসতে পারবে? (তা হচ্ছে) তোমরা নিজেদের মাঝে সালামের প্রচার ও প্রসার ঘটাও।’ (রিয়াজুস সালেহিন: ৮৫২)
সালামের একটি সুন্দর সুন্নত হলো ঘরে প্রবেশ করে স্বজনদের সালাম দেওয়া। সালাম হলো মূলত একে অপরের জন্য আল্লাহর নিকট শান্তি ও নিরাপত্তার প্রার্থনা। অথচ আমরা প্রায়ই দিনে অগণিত চেনা-অচেনা মানুষকে সালাম দিলেও নিজ ঘরের লোকজনকে সালাম দিতে গিয়ে লজ্জা বা সংকোচ বোধ করি। অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ হলো—বাইরে থেকে এসে ঘরে প্রবেশ করে নিজ স্বজনদের সালাম দেওয়া।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘এবং যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে, তখন তোমরা তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এ হবে আল্লাহর নিকট হতে বরকতময় ও পবিত্র অভিবাদন।’ (সুরা নুর: ৬১)
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন—একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, ‘হে বৎস! তোমার বাড়িতে যখন তুমি প্রবেশ করবে, তখন (বাসা বা পরিবারের সবাইকে) সালাম দাও। তাহলে তা তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য বরকতময় হবে।’ (রিয়াজুস সালেহিন: ৮৬৬)

দৈনিক টার্গেট 




























