পোর্ট হিউরনের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন জিহাদি সদস্যকে মার্কিন সিনেটর হওয়া থেকে ঠেকাতে।’ তিনি আরও দাবি করেন, এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে সিনেটে প্রবেশের পূর্বে তাঁকেই একমাত্র মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই এলাকায় ট্রাম্প ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
এল-সায়েদ জয়ী হলে তিনি হবেন মার্কিন সিনেট ইতিহাসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম সদস্য। ট্রাম্পের এই ধরনের বক্তব্যের পর মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিড্সে আয়োজিত এক সভায় এল-সায়েদ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এসব অভিযোগকে ‘ভণ্ডামি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। এল-সায়েদ বলেন, ‘আমার নামের প্রথম অংশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, অথচ সৌদি ও কাতারিদের একই নাম থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের জামাতার সংস্থায় তাদের বিনিয়োগ বা ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে প্রাইভেট জেট প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর কোনো আপত্তি দেখা যায় না।’
অপরদিকে, এই আসনের রিপাবলিকান প্রার্থী সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি মাইক রজার্স ট্রাম্পের ৯ / ১১ সংক্রান্ত মন্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কোনো জবাব না দিলেও এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জানান, তিনি এল-সায়েদকে সন্ত্রাসী মনে করেন না। তবে প্রমাণ ছাড়াই তিনি অভিযোগ করেন, এল-সায়েদের সাথে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা’ ঘেঁষা গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন পাচ্ছেন।
রজার্সের এই অভিযোগকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে নিজের দেশপ্রেম ও আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার কড়া প্রতিবাদ জানান মিশিগানে জন্ম নেওয়া এল-সায়েদ।
এর আগে শনিবার ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচারণায় নেমে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই আক্রমণের নিন্দা জানান। ওবামা বলেন, ‘প্রতিপক্ষরা এল-সায়েদকে অন্যদের তুলনায় “কম আমেরিকান” হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টা করছে, যা অতীতে তাঁর ক্ষেত্রেও (কেনিয়ায় জন্ম সংক্রান্ত ভুয়া দাবি) করা হয়েছিল।’
উল্লেখ্য, মিশিগানের এই সিনেট আসনটি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে মার্কিন সিনেট (৫৩-৪৭) এবং প্রতিনিধি পরিষদে (২১৮-২১৪) রিপাবলিকানদের সূক্ষ্ম সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, যা পরিবর্তন করতে ডেমোক্র্যাটদের মাত্র কয়েকটি আসনে জয়ের প্রয়োজন।

দৈনিক টার্গেট 

























