ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ‘তালাশ টিম’-এর সম্প্রচারিত একটি প্রতিবেদনকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্যান্সার গবেষক ও গণস্বাস্থ্য হোমিওর চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বায়তুল ভিউ টাওয়ারের গণস্বাস্থ্য হোমিও কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সম্প্রচারিত প্রতিবেদন, কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
ডা. এস এম সরওয়ারের দাবি, গত ১৪ আগস্ট ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ‘তালাশ টিম’-এর ৩০৯তম পর্বে তাকে এবং তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ জন চিকিৎসককে জড়িয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯ আগস্ট পূর্বের প্রতিবেদনের ভিডিও ফুটেজ ও একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ ব্যবহার করে বিষয়টি আবারও সম্প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. সরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল বোর্ড থেকে তার নামে জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশ তিনি প্রথমে তালাশ টিমের প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নোটিশটির মূল কপি তিনি ২০ আগস্ট বিকেলে হবিগঞ্জে হাতে পান। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নোটিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে কীভাবে প্রকাশ পেল এ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি জানান, নোটিশের জবাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. সরওয়ার আরও বলেন, ১৯ আগস্ট সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের কাছে তার পক্ষ থেকে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল বোর্ড, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদলিপির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ মহল কাজ করছে। তবে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব আইন অনুযায়ী দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. সরওয়ার ১১ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত তার আগের সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। সেখানে কয়েকটি গণমাধ্যম ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ দাবি, হয়রানি এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছিলেন বলে জানান তিনি। তার দাবি, কথিত দাবিকৃত অর্থ না দেওয়ার পর থেকেই তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তালাশ টিমের প্রতিবেদনের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডা. সরওয়ার। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট তিনি সংবাদ সম্মেলন করার কয়েক দিনের মধ্যেই ১৪ আগস্ট তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন সম্প্রচার করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে এত অল্প সময়ে কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিবেদনে কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, মাতুয়াইল ও মিরপুরের কয়েকজন রোগীর বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্যের ইতিবাচক অংশ বাদ দিয়ে নেতিবাচক বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিল না।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. সরওয়ার বলেন, কোনো ব্যক্তিকে প্রতারক, ভণ্ড বা দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করার আগে অভিযোগের সত্যতা আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কারও বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করা হলে তা ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ও সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা সরেজমিনে তার চেম্বার ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে নিজেদের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সত্য তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরুন।
সংবাদ সম্মেলনে গণস্বাস্থ্যের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিঠুন চৌধুরীও বক্তব্য দেন। তিনি তালাশ টিমের প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, গণমাধ্যমের অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনি আরও দাবি করেন, তালাশ টিম ও সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা থাকার কথা তারা জানেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি।
অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন জনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও কথিত চাঁদাবাজির অভিযোগের তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ডা. এস এম সরওয়ার প্রশাসন ও সাংবাদিকদের প্রতি নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি যাচাই করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য, অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে থাকা সব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরা হোক।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে ডা. এস এম সরওয়ার ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছেন, সেগুলো তাদের বক্তব্য ও দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য, নথিপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়া বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দৈনিক টার্গেট 






















