ভারতের দিকে কড়া হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে ভারত, নদীর পানি বণ্টন, গণভোট এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে আয়োজিত এ সমাবেশে তিনি প্রতিবেশী ভারতের প্রতি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, বাংলাদেশকে দুর্বল ভেবে কোনো ধরনের চাপ বা হুমকি দেওয়া উচিত হবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক চায়। তবে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের দিকে “লাল চোখ” দেখানোর প্রবণতা থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপস করবে না।
সমাবেশে তিনি দেশের নদী সংকট ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিস্তর কথা বলেন। ফারাক্কা বাঁধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্প সময়ের জন্য চালুর অনুমতি দেওয়া হলেও দীর্ঘ কয়েক দশকেও সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। এর ফলে পদ্মা ও তিস্তা নদীকেন্দ্রিক বিশাল এলাকা শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্যতা এবং বর্ষায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের ঘোষিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এটি যেন কেবল রাজনৈতিক ঘোষণা হয়ে না থাকে, বরং বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের উপকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনাও দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। তার দাবি, দেশের ১৫৪টি অভিন্ন নদীর অধিকাংশই এখন মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে, তাই নদী পুনরুদ্ধার ছাড়া খাল খনন কর্মসূচি কার্যকর ফল দেবে না।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ক্ষমতাসীনদের পাশাপাশি বিএনপিরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, অতীতে যেভাবে স্বৈরাচারী আচরণ করা হয়েছিল, এখন একই ধরনের পথে হাঁটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করলে কোনো রাজনৈতিক শক্তিই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে না।
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণের রায় অমান্য করা মানে জনগণকে অসম্মান করা। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নিজেদের ভুল স্বীকার করে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া। অন্যথায় জনগণই এর জবাব দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ সময় জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের নিয়ে কটাক্ষেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন সফল হওয়ার পেছনে তরুণদের বড় ভূমিকা ছিল। তাই তাদের অবদানকে খাটো করা রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার পরিচয়।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, পানির ন্যায্য হিস্যা এবং জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
