যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ইস্যুতে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

রাজনীতি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ ওই চুক্তির বিষয়ে জনগণ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি।

শুক্রবার রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদের ভূমিকা, স্থানীয় সরকার, প্রশাসনিক নিয়োগ, জ্বালানি সংকট এবং তিস্তা ইস্যু নিয়েও কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদ হওয়া উচিত দেশের উন্নয়ন, জনগণের অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল কেন্দ্র। সেখানে জনগণের সমস্যা, কর্মসংস্থান, শিল্পোন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। অতীতে সংসদে যে ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন বক্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ দেখা গেছে, সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় সংসদ পরিচালিত হয়। তাই সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব হলো মানুষের সমস্যা ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামনে আনা। সরকার কোনো ভালো উদ্যোগ নিলে তা সমর্থন করার পাশাপাশি ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক সংকট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা চেয়েছিল। পরে সরকার আলোচনা করতে বাধ্য হয় এবং একটি কমিটি গঠন করা হয়। এর পরপরই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, সংকটের পেছনে কৃত্রিম প্রভাব ছিল কি না, সে প্রশ্নও জনমনে রয়েছে।

স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলায় প্রশাসক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় লোক বসানো হচ্ছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে এমন সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিস্তা ও উত্তরাঞ্চলের নদী সংকটের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। পদ্মা ব্যারাজের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও তিস্তার স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের ওপর হামলা বা বৈষম্যের সুযোগ নেই। সকলের সমঅধিকার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হওয়া উচিত।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল হালিম এবং মাহবুবার রহমান বেলালসহ দলীয় নেতারা। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান-এর নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।