অনলাইনে ‘কবুল’ বললেই বিয়ে নয়

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৬:১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৮৮ বার পঠিত হয়েছে

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সম্পর্ক, যোগাযোগ এমনকি বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ধরনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য বার্তাভিত্তিক মাধ্যমে অনেকেই বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং জবাবে ‘কবুল’ বলার ঘটনাও দেখা যায়। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে-এভাবে কি সত্যিই শরিয়তসম্মত বিয়ে সম্পন্ন হয়?

এই বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার। কেবল লিখিতভাবে প্রস্তাব (ইজাব) ও গ্রহণ (কবুল) করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায় না। বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় চুক্তি, যার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করা অপরিহার্য।

একসঙ্গে উপস্থিতি: মূল শর্ত

বিয়ের আকদ শুদ্ধ হওয়ার জন্য পাত্র-পাত্রীর সরাসরি উপস্থিতি, অথবা তাদের বৈধ প্রতিনিধির মাধ্যমে একই বৈঠকে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হওয়া জরুরি। অনলাইন বার্তা বা চ্যাটের মাধ্যমে এই ‘একই বৈঠক’ নিশ্চিত হয় না। ফলে শুধুমাত্র মেসেজে প্রস্তাব ও ‘কবুল’ আদান-প্রদান করলে তা বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হয় না।

সাক্ষীর উপস্থিতি অপরিহার্য

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, বিয়ের সময় সাক্ষীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। কমপক্ষে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী সাক্ষী থাকতে হবে, যারা সরাসরি ইজাব-কবুল শুনবেন। এই শর্ত পূরণ না হলে, এমনকি সামনাসামনি ‘কবুল’ বললেও বিয়ে শুদ্ধ হবে না।

একাধিক মানুষের উপস্থিতিতেও সাক্ষী পূরণ হতে পারে

এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-সাক্ষী হিসেবে নির্দিষ্ট দু’জনকেই আলাদা করে ঠিক করতে হবে এমন নয়। যদি কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান এমন স্থানে হয় যেখানে অনেক মানুষ উপস্থিত এবং তারা সবাই ইজাব-কবুল শুনতে পান, তাহলে তাদের মধ্য থেকেই সাক্ষীর শর্ত পূরণ হয়ে যায়।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো মসজিদে বিয়ের আকদ অনুষ্ঠিত হলে সেখানে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক ও যোগ্য, তারা প্রত্যক্ষভাবে ইজাব-কবুল শুনলে সাক্ষী হিসেবে গণ্য হতে পারেন।

অভিভাবকের ভূমিকা

হাদিসে উল্লেখ আছে যে, অভিভাবক (ওলি) এবং ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হয় না। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে পরিবার বা অভিভাবকের সম্পৃক্ততাও গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক।

ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে সম্পর্ক গড়ে ওঠা সহজ হলেও বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে শুধুমাত্র অনলাইন কথোপকথনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা শরিয়তসম্মত নয়। বৈধ বিয়ের জন্য নির্ধারিত নিয়ম-একই বৈঠকে ইজাব-কবুল, সাক্ষীর উপস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ-এসব নিশ্চিত করাই জরুরি।

অতএব, শুধু ‘কবুল’ বললেই বিয়ে হয়ে যায়-এমন ধারণা সঠিক নয়। সচেতনতা ও সঠিক জ্ঞানই এ ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি দূর করতে পারে।

অনলাইনে ‘কবুল’ বললেই বিয়ে নয়

প্রকাশ: ০৬:১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সম্পর্ক, যোগাযোগ এমনকি বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ধরনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য বার্তাভিত্তিক মাধ্যমে অনেকেই বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং জবাবে ‘কবুল’ বলার ঘটনাও দেখা যায়। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে-এভাবে কি সত্যিই শরিয়তসম্মত বিয়ে সম্পন্ন হয়?

এই বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার। কেবল লিখিতভাবে প্রস্তাব (ইজাব) ও গ্রহণ (কবুল) করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায় না। বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় চুক্তি, যার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করা অপরিহার্য।

একসঙ্গে উপস্থিতি: মূল শর্ত

বিয়ের আকদ শুদ্ধ হওয়ার জন্য পাত্র-পাত্রীর সরাসরি উপস্থিতি, অথবা তাদের বৈধ প্রতিনিধির মাধ্যমে একই বৈঠকে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হওয়া জরুরি। অনলাইন বার্তা বা চ্যাটের মাধ্যমে এই ‘একই বৈঠক’ নিশ্চিত হয় না। ফলে শুধুমাত্র মেসেজে প্রস্তাব ও ‘কবুল’ আদান-প্রদান করলে তা বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হয় না।

সাক্ষীর উপস্থিতি অপরিহার্য

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, বিয়ের সময় সাক্ষীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। কমপক্ষে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী সাক্ষী থাকতে হবে, যারা সরাসরি ইজাব-কবুল শুনবেন। এই শর্ত পূরণ না হলে, এমনকি সামনাসামনি ‘কবুল’ বললেও বিয়ে শুদ্ধ হবে না।

একাধিক মানুষের উপস্থিতিতেও সাক্ষী পূরণ হতে পারে

এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-সাক্ষী হিসেবে নির্দিষ্ট দু’জনকেই আলাদা করে ঠিক করতে হবে এমন নয়। যদি কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান এমন স্থানে হয় যেখানে অনেক মানুষ উপস্থিত এবং তারা সবাই ইজাব-কবুল শুনতে পান, তাহলে তাদের মধ্য থেকেই সাক্ষীর শর্ত পূরণ হয়ে যায়।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো মসজিদে বিয়ের আকদ অনুষ্ঠিত হলে সেখানে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক ও যোগ্য, তারা প্রত্যক্ষভাবে ইজাব-কবুল শুনলে সাক্ষী হিসেবে গণ্য হতে পারেন।

অভিভাবকের ভূমিকা

হাদিসে উল্লেখ আছে যে, অভিভাবক (ওলি) এবং ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হয় না। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে পরিবার বা অভিভাবকের সম্পৃক্ততাও গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক।

ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে সম্পর্ক গড়ে ওঠা সহজ হলেও বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে শুধুমাত্র অনলাইন কথোপকথনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা শরিয়তসম্মত নয়। বৈধ বিয়ের জন্য নির্ধারিত নিয়ম-একই বৈঠকে ইজাব-কবুল, সাক্ষীর উপস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ-এসব নিশ্চিত করাই জরুরি।

অতএব, শুধু ‘কবুল’ বললেই বিয়ে হয়ে যায়-এমন ধারণা সঠিক নয়। সচেতনতা ও সঠিক জ্ঞানই এ ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি দূর করতে পারে।