রাজনৈতিক সংস্কার প্রশ্নে আবারও রাজপথমুখী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, কেবল আলোচনা বা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় নয়-গণচাপ সৃষ্টি ছাড়া সরকারের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আদায় সম্ভব নয়। তাই এবার সুসংগঠিত গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই শহিদ পরিবার’ ও ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সঙ্গে সংলাপের উদ্দেশ্যে এ আয়োজন করে এগারো দলীয় জোট।
সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঐক্য অটুট থাকলেও সংস্কারের পথ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তার ভাষায়, “দেশকে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের দিকে নিতে হলে মৌলিক সংস্কার জরুরি, কিন্তু বর্তমান সরকারই সে পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, শুরুতে সংসদের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধানের আশা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের বিকল্প নেই বলেও মত দেন। “পরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে এবার রাজপথে নামতে হবে। আগের মতো আংশিক সাফল্য নয়—পূর্ণ বাস্তবায়নই লক্ষ্য,” যোগ করেন তিনি।
সংস্কারকে দলীয় এজেন্ডা নয়, বরং রাষ্ট্র রক্ষার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি সব নাগরিকের যৌথ দাবি। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও সামনে থেকে দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। কঠিন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে নেতাকর্মীরাই প্রথম সারিতে থেকে ঝুঁকি নেবেন।
এ সময় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে শহিদ পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, বিভিন্ন সময় এসব আবেগঘন বিষয়কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশ প্রত্যাশিত অগ্রগতির পরিবর্তে পিছিয়ে যাচ্ছে। অতীতের গণআন্দোলনের সুফল ভোগ করেও সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি পূর্বঘোষিত বিভিন্ন রাজনৈতিক রূপরেখা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগও তোলেন।
অনুষ্ঠানে এগারো দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। সভা থেকে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়।
দৈনিক টার্গেট 























