এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইসলামে কোন কাজটি সবচেয়ে উত্তম?’ তিনি বললেন, ‘তুমি মানুষদের খাবার খাওয়াবে এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেবে।’ (সহিহ বুখারি: ১২)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে মানুষকে খাবার খাওয়ায়।’ (মুসনাদে
তবে খাবার খাওয়ানোর মূল উদ্দেশ্য হতে হবে কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি। লোকদেখানো সুনাম কিংবা মানুষের কাছ থেকে প্রতিদানের আশায় খাদ্যদান করা অনুচিত। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তারা বলে, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদের খাদ্য দান করি। আমরা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা কামনা করি না।’ (সুরা দাহর: ৯)
একইভাবে কাউকে খাওয়ানোর পর খোঁটা দেওয়া বা অপমান করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান-সদকা নষ্ট কোরো না, যেভাবে লোকদেখানো দানকারী নিজের সম্পদ ব্যয় করে।’ (সুরা বাকারা: ২৬৪)
ক্ষুধার্তের পাশে দাঁড়াতে বিপুল অর্থকড়ির প্রয়োজন নেই; সামান্য সামর্থ্য ও খাঁটি আন্তরিকতাই যথেষ্ট। সামান্য খাবার দিয়ে হলেও একজন মানুষের কষ্ট লাঘব করা বিপুল সওয়াবের মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অথবা ক্ষুধার দিনে খাদ্য দান করা—এতিম আত্মীয়কে কিংবা ধূলিধূসরিত অভাবগ্রস্তকে।’ (সুরা বালাদ: ১৪-১৬)
দুনিয়ার ধন-সম্পদ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করা অর্থ আখিরাতে বান্দার জন্য সঞ্চিত থাকে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া করো, আসমানের অধিবাসী আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (জামে
চেনা-অচেনা নির্বিশেষে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিয়ে মানবকল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের প্রত্যেকের ইমানি দায়িত্ব।

দৈনিক টার্গেট 




























