নারীর আত্মরক্ষা, নিরাপত্তা ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৩৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

ইসলামে মানুষের জীবন ও মর্যাদার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে কেউ একটি প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।’ (সুরা মায়িদাহ: ৩২)। এই আয়াত থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের এবং অপরের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত মহৎ ও সওয়াবের কাজ।

ইসলামের সোনালি ইতিহাসেও নারীদের আত্মরক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। খন্দকের যুদ্ধের সময় নারী সাহাবি হজরত সাফিয়্যা বিনতে আবদুল মুত্তালিব (রা.) এক অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। যুদ্ধপরিস্থিতিতে যখন পুরুষ সাহাবিরা ব্যস্ত ছিলেন, তখন নারীদের তাঁবুর আশপাশে এক শত্রু গোয়েন্দাগিরি করছিল। সাহসিকতার প্রতীক সাফিয়্যা (রা.) একটুও না ঘাবড়ে লাঠির আঘাতে শত্রুকে পরাস্ত করে তাঁবুর নারী ও শিশুদের রক্ষা করেছিলেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুর্বল মুমিনের চেয়ে শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় ও উত্তম।’ (সহিহ মুসলিম)। এই হাদিসের শিক্ষা শুধু পুরুষের জন্য নয়—নারীর জন্যও। একজন মুমিনকে ইমানের পাশাপাশি মানসিকভাবে দৃঢ় ও শারীরিকভাবে সক্ষম হতে হয়, যাতে বিপদের মুহূর্তে সে নিজের সুরক্ষা নিজে করতে পারে।

ইসলাম কখনো নারীদের চার দেয়ালে বন্দী বা অসহায় থাকার শিক্ষা দেয় না; বরং শালীনতা বজায় রেখে সমাজে আত্মমর্যাদার সঙ্গে চলার পথ দেখায়। একজন নারী যখন নিজের সুরক্ষায় স্বাবলম্বী হন, তখন অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমে যায় এবং সমাজে নারীর চলাফেরা আরও নিরাপদ ও সুনিশ্চিত হয়ে ওঠে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কালো জাদু, বদ নজর কিংবা হিংসুক মানুষের অনিষ্ট থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে ইসলামে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর দিকনির্দেশনা রয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব আমল বর্ণনা করা হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও যেকোনো অনিষ্ট থেকে বাঁচতে সর্বদা মহান আল্লাহর দরবারে আশ্রয়…

২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষার কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য আরও ২৫০ জন সহকারী নেগরান (সহকারী পরিদর্শক) ও ৫৫ জন মুমতাহিন (পরীক্ষক) নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি ’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’।

মানবজীবনে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামে সৎ, বৈধ ও হালাল উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে ইমানদারগণ! আমি তোমাদের যেসব পবিত্র বস্তু রিজিক হিসেবে দিয়েছি, তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো—যদ

জনপ্রিয় টার্গেট

নারীর আত্মরক্ষা, নিরাপত্তা ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রকাশ: ০৭:৩৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ইসলামে মানুষের জীবন ও মর্যাদার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে কেউ একটি প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।’ (সুরা মায়িদাহ: ৩২)। এই আয়াত থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের এবং অপরের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত মহৎ ও সওয়াবের কাজ।

ইসলামের সোনালি ইতিহাসেও নারীদের আত্মরক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। খন্দকের যুদ্ধের সময় নারী সাহাবি হজরত সাফিয়্যা বিনতে আবদুল মুত্তালিব (রা.) এক অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। যুদ্ধপরিস্থিতিতে যখন পুরুষ সাহাবিরা ব্যস্ত ছিলেন, তখন নারীদের তাঁবুর আশপাশে এক শত্রু গোয়েন্দাগিরি করছিল। সাহসিকতার প্রতীক সাফিয়্যা (রা.) একটুও না ঘাবড়ে লাঠির আঘাতে শত্রুকে পরাস্ত করে তাঁবুর নারী ও শিশুদের রক্ষা করেছিলেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুর্বল মুমিনের চেয়ে শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় ও উত্তম।’ (সহিহ মুসলিম)। এই হাদিসের শিক্ষা শুধু পুরুষের জন্য নয়—নারীর জন্যও। একজন মুমিনকে ইমানের পাশাপাশি মানসিকভাবে দৃঢ় ও শারীরিকভাবে সক্ষম হতে হয়, যাতে বিপদের মুহূর্তে সে নিজের সুরক্ষা নিজে করতে পারে।

ইসলাম কখনো নারীদের চার দেয়ালে বন্দী বা অসহায় থাকার শিক্ষা দেয় না; বরং শালীনতা বজায় রেখে সমাজে আত্মমর্যাদার সঙ্গে চলার পথ দেখায়। একজন নারী যখন নিজের সুরক্ষায় স্বাবলম্বী হন, তখন অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমে যায় এবং সমাজে নারীর চলাফেরা আরও নিরাপদ ও সুনিশ্চিত হয়ে ওঠে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কালো জাদু, বদ নজর কিংবা হিংসুক মানুষের অনিষ্ট থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে ইসলামে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর দিকনির্দেশনা রয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব আমল বর্ণনা করা হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও যেকোনো অনিষ্ট থেকে বাঁচতে সর্বদা মহান আল্লাহর দরবারে আশ্রয়…

২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষার কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য আরও ২৫০ জন সহকারী নেগরান (সহকারী পরিদর্শক) ও ৫৫ জন মুমতাহিন (পরীক্ষক) নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি ’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’।

মানবজীবনে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামে সৎ, বৈধ ও হালাল উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে ইমানদারগণ! আমি তোমাদের যেসব পবিত্র বস্তু রিজিক হিসেবে দিয়েছি, তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো—যদ