কোর্ট ম্যারেজের পর নিজেকে বিবাহিত মনে করার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি

কোর্ট ম্যারেজে কি ইসলামে বিয়ে হয়?

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:০৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত হয়েছে

বর্তমান সময়ে দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কোর্ট ম্যারেজ বা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করার প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে পারিবারিক অমত, ভালোবাসার সম্পর্ক কিংবা দ্রুত আইনগত সুরক্ষা পাওয়ার আশায় অনেকেই আদালতে গিয়ে হলফনামা (এফিডেভিট) সম্পাদন করেন এবং এটিকেই বিয়ে হিসেবে ধরে নেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো-আদালতে গিয়ে শুধু এফিডেভিটে স্বাক্ষর করলেই কি ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়? নাকি ইসলামে বিয়ের জন্য আরও কিছু অপরিহার্য শর্ত রয়েছে? এ বিষয়ে ইসলামি বিধান কী বলছে, তা নিয়ে আজকের এই বিস্তারিত প্রতিবেদন।

কোর্ট ম্যারেজ বলতে আসলে কী বোঝায়?

বাংলাদেশে প্রচলিত ভাষায় কোর্ট ম্যারেজ বলতে সাধারণত আদালতের মাধ্যমে একজন আইনজীবীর উপস্থিতিতে একটি হলফনামা বা এফিডেভিট সম্পাদন করাকে বোঝানো হয়। এতে ছেলে ও মেয়ে নিজেদের সম্মতিতে বিয়ে করার ঘোষণা দেন এবং একটি আইনগত নথিতে স্বাক্ষর করেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই হলফনামা নিজেই ইসলামী বিয়ের অনুষ্ঠান নয়। এটি মূলত একটি আইনগত ঘোষণাপত্র, যা কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

শুধু এফিডেভিটে স্বাক্ষর করলেই কি ইসলামে বিয়ে হয়?

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী শুধু কাগজে স্বাক্ষর করা বা এফিডেভিট সম্পাদন করা বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

বিয়ের মূল ভিত্তি হলো বর ও কনের মধ্যে স্পষ্টভাবে ইজাব ও কবুল- অর্থাৎ একজনের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব এবং অন্যজনের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা। উভয় পক্ষ যদি কথা বলার সক্ষম হন, তাহলে মুখে এই সম্মতি প্রকাশ করাই শরিয়াহর বিধান।

অর্থাৎ কেবল লিখিত সম্মতি বা স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইসলামী বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এমনটি বলা যাবে না।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ বিয়ের প্রধান শর্ত কী?

শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য কয়েকটি মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হয়।

বৈধ বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত

বর ও কনের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি থাকতে হবে।

ইজাব ও কবুল স্পষ্টভাবে সম্পন্ন হতে হবে।

অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে।

বিয়ে শরিয়াহসম্মত নিয়মে কাজি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হতে হবে।

এই শর্তগুলো পূরণ হলে বিয়ে আদালতে হোক বা অন্য যেকোনো স্থানে- তা ইসলামী দৃষ্টিতে বৈধ হতে পারে।

তাহলে কোর্ট ম্যারেজ কি ইসলামে বৈধ?

কোর্ট ম্যারেজ বলেই সেটি অবৈধ এমন নয়।

যদি আদালতে বা অন্য কোথাও বিয়ের সময় ইসলামের নির্ধারিত শর্তগুলো যথাযথভাবে পূরণ করা হয়, তাহলে সেই বিয়ে শরিয়াহসম্মত হিসেবে গণ্য হতে পারে।

অর্থাৎ স্থান নয়, বরং বিয়ের পদ্ধতি ও শর্ত পূরণ হওয়াই এখানে মূল বিষয়।

সাক্ষী ছাড়া শুধু ছেলে-মেয়ের সম্মতিতে কি বিয়ে হবে?

এর উত্তর হলো না।

শুধু ছেলে ও মেয়ের পারস্পরিক সম্মতি বা একটি কাগজে স্বাক্ষর করলেই ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয় না। বিয়ের সময় প্রয়োজনীয় সাক্ষীর উপস্থিতি এবং ইজাব-কবুলের শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক।

সাক্ষী ছাড়া সম্পাদিত বিয়েকে শরিয়াহ বৈধ বিয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

এফিডেভিট করার পর কী করা উচিত?

অনেকেই আগে আদালতে হলফনামা করেন, পরে জানতে পারেন যে শরিয়াহর নিয়মে বিয়ে সম্পন্ন হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে যদি-

ইজাব-কবুল মুখে সম্পন্ন না হয়ে থাকে,

অথবা প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত না থাকেন,

তাহলে কেবল সেই এফিডেভিটের ভিত্তিতে বিয়ে হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

গণমাধ্যম আজ মুক্ত ও স্বাধীন: তথ্যমন্ত্রী

কোর্ট ম্যারেজের পর নিজেকে বিবাহিত মনে করার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি

কোর্ট ম্যারেজে কি ইসলামে বিয়ে হয়?

প্রকাশ: ০১:০৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্তমান সময়ে দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কোর্ট ম্যারেজ বা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করার প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে পারিবারিক অমত, ভালোবাসার সম্পর্ক কিংবা দ্রুত আইনগত সুরক্ষা পাওয়ার আশায় অনেকেই আদালতে গিয়ে হলফনামা (এফিডেভিট) সম্পাদন করেন এবং এটিকেই বিয়ে হিসেবে ধরে নেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো-আদালতে গিয়ে শুধু এফিডেভিটে স্বাক্ষর করলেই কি ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়? নাকি ইসলামে বিয়ের জন্য আরও কিছু অপরিহার্য শর্ত রয়েছে? এ বিষয়ে ইসলামি বিধান কী বলছে, তা নিয়ে আজকের এই বিস্তারিত প্রতিবেদন।

কোর্ট ম্যারেজ বলতে আসলে কী বোঝায়?

বাংলাদেশে প্রচলিত ভাষায় কোর্ট ম্যারেজ বলতে সাধারণত আদালতের মাধ্যমে একজন আইনজীবীর উপস্থিতিতে একটি হলফনামা বা এফিডেভিট সম্পাদন করাকে বোঝানো হয়। এতে ছেলে ও মেয়ে নিজেদের সম্মতিতে বিয়ে করার ঘোষণা দেন এবং একটি আইনগত নথিতে স্বাক্ষর করেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই হলফনামা নিজেই ইসলামী বিয়ের অনুষ্ঠান নয়। এটি মূলত একটি আইনগত ঘোষণাপত্র, যা কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

শুধু এফিডেভিটে স্বাক্ষর করলেই কি ইসলামে বিয়ে হয়?

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী শুধু কাগজে স্বাক্ষর করা বা এফিডেভিট সম্পাদন করা বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

বিয়ের মূল ভিত্তি হলো বর ও কনের মধ্যে স্পষ্টভাবে ইজাব ও কবুল- অর্থাৎ একজনের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব এবং অন্যজনের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা। উভয় পক্ষ যদি কথা বলার সক্ষম হন, তাহলে মুখে এই সম্মতি প্রকাশ করাই শরিয়াহর বিধান।

অর্থাৎ কেবল লিখিত সম্মতি বা স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইসলামী বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এমনটি বলা যাবে না।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ বিয়ের প্রধান শর্ত কী?

শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য কয়েকটি মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হয়।

বৈধ বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত

বর ও কনের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি থাকতে হবে।

ইজাব ও কবুল স্পষ্টভাবে সম্পন্ন হতে হবে।

অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে।

বিয়ে শরিয়াহসম্মত নিয়মে কাজি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হতে হবে।

এই শর্তগুলো পূরণ হলে বিয়ে আদালতে হোক বা অন্য যেকোনো স্থানে- তা ইসলামী দৃষ্টিতে বৈধ হতে পারে।

তাহলে কোর্ট ম্যারেজ কি ইসলামে বৈধ?

কোর্ট ম্যারেজ বলেই সেটি অবৈধ এমন নয়।

যদি আদালতে বা অন্য কোথাও বিয়ের সময় ইসলামের নির্ধারিত শর্তগুলো যথাযথভাবে পূরণ করা হয়, তাহলে সেই বিয়ে শরিয়াহসম্মত হিসেবে গণ্য হতে পারে।

অর্থাৎ স্থান নয়, বরং বিয়ের পদ্ধতি ও শর্ত পূরণ হওয়াই এখানে মূল বিষয়।

সাক্ষী ছাড়া শুধু ছেলে-মেয়ের সম্মতিতে কি বিয়ে হবে?

এর উত্তর হলো না।

শুধু ছেলে ও মেয়ের পারস্পরিক সম্মতি বা একটি কাগজে স্বাক্ষর করলেই ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয় না। বিয়ের সময় প্রয়োজনীয় সাক্ষীর উপস্থিতি এবং ইজাব-কবুলের শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক।

সাক্ষী ছাড়া সম্পাদিত বিয়েকে শরিয়াহ বৈধ বিয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

এফিডেভিট করার পর কী করা উচিত?

অনেকেই আগে আদালতে হলফনামা করেন, পরে জানতে পারেন যে শরিয়াহর নিয়মে বিয়ে সম্পন্ন হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে যদি-

ইজাব-কবুল মুখে সম্পন্ন না হয়ে থাকে,

অথবা প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত না থাকেন,

তাহলে কেবল সেই এফিডেভিটের ভিত্তিতে বিয়ে হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।