পাকিস্তানের বহুল আলোচিত লাহোর মোটরওয়ে গণধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে দেশটির উচ্চ আদালত। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর দেওয়া এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মাস্ক পাকিস্তানের বিচারিক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং পশ্চিমা দেশগুলোরও এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, লাহোর হাইকোর্টের দুই বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত আবিদ মালহি ও শাফকাত বাগার করা আপিল খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডসহ অন্যান্য সাজাও বহাল রাখা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে। সন্তানদের সঙ্গে ভ্রমণের সময় লাহোর-শিয়ালকোট মোটরওয়েতে এক ফরাসি নারী ভয়াবহ হামলার শিকার হন। গাড়ি বিকল হয়ে পড়ার সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তার ওপর নৃশংস নির্যাতন চালায়। ঘটনাটি পাকিস্তানজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পরবর্তীতে তদন্তে ডিএনএ নমুনা, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং ভুক্তভোগীর দেওয়া বর্ণনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
আপিল শুনানিতে আসামিপক্ষ নিম্ন আদালতের রায়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুললেও রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তি দেয় যে বিচারিক সিদ্ধান্ত যথাযথ প্রমাণ ও আইনগত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আদালত শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থানকেই গ্রহণ করে।
এর আগে ২০২১ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আদালত দুই আসামিকে ধর্ষণের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পাশাপাশি ডাকাতি, অপহরণ এবং সম্পদ বিনষ্টের অভিযোগেও বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। উচ্চ আদালত সেই সব সাজাও অপরিবর্তিত রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে, বিশেষ করে ইলন মাস্কের প্রকাশ্য সমর্থনের পর।
যদিও দেশটির আইনি কাঠামো অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্তদের জন্য আরও কিছু বিচারিক পদক্ষেপের সুযোগ রয়েছে, তবুও উচ্চ আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত মামলাটিকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছে।
দৈনিক টার্গেট 

























