সিরিয়ায় উপকূলীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসাদপন্থির মৃত্যুদণ্ড

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পঠিত হয়েছে

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের জাস্টিস প্যালেসে অবস্থিত সামরিক ফৌজদারি আদালত এই রায় দেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সি (সানা)।

আল-জাজিরা জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন আল-ওয়াদ্দাহ ইসমাইল ও মাহের আলী। গৃহযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত উসকে দেওয়া এবং সরকারি বাহিনীকে আক্রমণের উদ্দেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। একই মামলায় মাহের ওসমান নামের আরেক আসামিকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

পৃথক রায়ে নতুন সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৮২ তম ডিভিশনের সদস্য মোহাম্মদ বাকুরকে ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যার দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর নির্যাতনের দায়ে আম্মার আবদুল আলকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে আবদুল রউফ বাকরজান ও মোহাম্মদ জারজুরিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

২০২৫ সালের মার্চে সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে কয়েক দিনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অন্তত ১ হাজার ৪২৬ জন নিহত হন। তাঁদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক এবং আলাউই সম্প্রদায়ের সদস্য। লাতাকিয়া, তারতুস ও হামা প্রদেশে সংঘটিত এসব ঘটনায় সাবেক আসাদ সরকারের অনুগত সশস্ত্র যোদ্ধা এবং নতুন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী—উভয় পক্ষের সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ওঠে।

সরকারি তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার সময় ২৩৮ জন সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আসাদপন্থী যোদ্ধাদের হামলায় নিহত হন। এরপর সরকারি বাহিনীর প্রায় দুই লাখ সদস্য ও সামরিক সহায়তাকারী ওই অঞ্চলে প্রবেশ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগ ওঠে।

তদন্ত কমিটি হত্যা, পরিকল্পিত হত্যা, লুটপাট, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক আচরণের মতো গুরুতর লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। এসব ঘটনায় ২৯৮ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের শেষ দিকে আসাদ সরকারের পতনের পর সাবেক সরকারের অনুগত সেনা ও মিলিশিয়া সদস্যদের একটি অংশ পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেয়। সেখান থেকেই ২০২৫ সালের মার্চে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়।

এই বিচারকে সিরিয়ায় নতুন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সহিংসতার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর একই ঘটনায় চার আসামির মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়; অপর আসামি খালাস পান।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না হলেও এই ভোটে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। ভোটাররা হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ বা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সদস্য নির্বাচন করবেন এবং ঠিক করবেন, আইন প্রণয়নকারী দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। প্রে

হামাসের প্রয়াত নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের কাছে ট্যাংক, রাইফেল ও রকেটের ছবি এঁকে চিঠি লিখেছিল তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলে ইব্রাহিম সিনওয়ার। চিঠিতে ইহুদিদের হত্যার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল ইব্রাহিম।

পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুল ভবন ধসে অন্তত ৩৩ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ভবনের ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত চাপ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিকে এ প্রাণহানির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয় টার্গেট

চট্টগ্রামে সাংবাদিককে জিম্মি করে ৭০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

সিরিয়ায় উপকূলীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসাদপন্থির মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ১২:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের জাস্টিস প্যালেসে অবস্থিত সামরিক ফৌজদারি আদালত এই রায় দেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সি (সানা)।

আল-জাজিরা জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন আল-ওয়াদ্দাহ ইসমাইল ও মাহের আলী। গৃহযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত উসকে দেওয়া এবং সরকারি বাহিনীকে আক্রমণের উদ্দেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। একই মামলায় মাহের ওসমান নামের আরেক আসামিকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

পৃথক রায়ে নতুন সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৮২ তম ডিভিশনের সদস্য মোহাম্মদ বাকুরকে ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যার দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর নির্যাতনের দায়ে আম্মার আবদুল আলকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে আবদুল রউফ বাকরজান ও মোহাম্মদ জারজুরিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

২০২৫ সালের মার্চে সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে কয়েক দিনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অন্তত ১ হাজার ৪২৬ জন নিহত হন। তাঁদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক এবং আলাউই সম্প্রদায়ের সদস্য। লাতাকিয়া, তারতুস ও হামা প্রদেশে সংঘটিত এসব ঘটনায় সাবেক আসাদ সরকারের অনুগত সশস্ত্র যোদ্ধা এবং নতুন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী—উভয় পক্ষের সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ওঠে।

সরকারি তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার সময় ২৩৮ জন সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আসাদপন্থী যোদ্ধাদের হামলায় নিহত হন। এরপর সরকারি বাহিনীর প্রায় দুই লাখ সদস্য ও সামরিক সহায়তাকারী ওই অঞ্চলে প্রবেশ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগ ওঠে।

তদন্ত কমিটি হত্যা, পরিকল্পিত হত্যা, লুটপাট, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক আচরণের মতো গুরুতর লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। এসব ঘটনায় ২৯৮ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের শেষ দিকে আসাদ সরকারের পতনের পর সাবেক সরকারের অনুগত সেনা ও মিলিশিয়া সদস্যদের একটি অংশ পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেয়। সেখান থেকেই ২০২৫ সালের মার্চে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়।

এই বিচারকে সিরিয়ায় নতুন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সহিংসতার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর একই ঘটনায় চার আসামির মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়; অপর আসামি খালাস পান।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না হলেও এই ভোটে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। ভোটাররা হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ বা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সদস্য নির্বাচন করবেন এবং ঠিক করবেন, আইন প্রণয়নকারী দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। প্রে

হামাসের প্রয়াত নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের কাছে ট্যাংক, রাইফেল ও রকেটের ছবি এঁকে চিঠি লিখেছিল তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলে ইব্রাহিম সিনওয়ার। চিঠিতে ইহুদিদের হত্যার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল ইব্রাহিম।

পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুল ভবন ধসে অন্তত ৩৩ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ভবনের ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত চাপ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিকে এ প্রাণহানির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।