‘বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের ক্ষমতায় গেলে কী করবেন?’

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১০:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত হয়েছে

মানিক পশারীর মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে সোমবার নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা লেখেন তাসনিম জারা।

পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী মারা যান। এরপর তাঁর পরিবারকে সারা দিন মরদেহ নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়। স্থানীয় জামায়াতের নেতা কর্মীরা মিছিল করে এবং মাইক ও ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে তাঁকে পিরোজপুরে দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে জানান।

তাসনিম জারা লেখেন, মানিক পশারীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে বাড়িতে একটি কবর খোঁড়া হয়েছিল। পরে কিছু মানুষ এসে সেটি ভরাট করে দেন বলে তাঁর মেয়ে সীমু আক্তার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এরপর ফুফুদের নিয়ে নতুন করে কবর খোঁড়েন সীমু। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় কবর খুঁড়তে অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত ব্যক্তির মেয়ে ও বোনদেরই কবর খুঁড়তে হয়।

পোস্টে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা এই নেত্রী আরও লেখেন, শেষ পর্যন্ত মাঝরাতের পর পুলিশ পাহারায় ওই কবরে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। প্রশাসনের লোকজন ছাড়া পরিবারের বাইরের আর কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

তাসনিম জারা বলেন, মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, সেই প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। তবে তা যাচাই করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, জামায়াতের নেতা কর্মীরা সেই প্রশ্নের মীমাংসা করতে চেয়েছেন দাফন ঠেকিয়ে এবং মাইক হাতে নিয়ে।

মৃত ব্যক্তির জানাজার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার প্রচলিত রীতির কথা উল্লেখ করে তাসনিম জারা লেখেন, মৃত্যুর পর মানুষের সব হিসাব-নিকাশ শেষ হয়ে যায়। যা বাকি থাকে, তার বিচার আল্লাহর হাতে। কিন্তু মানিক পশারীর ক্ষেত্রে তাঁর নিজের গ্রামে জানাজা পর্যন্ত হয়নি। গ্রামের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগও পায়নি তাঁর পরিবার।

পোস্টে জামায়াতের নেতা কর্মীদের আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাঁদের বক্তব্য এমন ছিল, যেন দেশের মাটির মালিকানা তাঁদের নামে লেখা এবং একজন মানুষ নিজের পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত হতে পারবেন কি না, সেই অনুমতিও তাঁদের কাছ থেকে নিতে হবে।

তাসনিম জারা আরও লেখেন, একসময় জামায়াত-শিবিরের নেতা কর্মীদের উদ্দেশে ‘রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’—এ ধরনের কথা বলা হতো। এমন বক্তব্য অন্যায়, তা তাঁদের জানার কথা। কিন্তু ক্ষমতা কিছুটা হাতে আসতেই তাঁরা সেই অন্যায় ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

১৯৭১ সালে জামায়াত দল হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, সেই দলের নেতা কর্মীরা এখন ঠিক করে দিতে চাইছেন কে মুক্তিযোদ্ধা, কে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন এবং কার কবর কোথায় হবে।

জামায়াতের ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মানবিক মর্যাদার বক্তব্যের সঙ্গে তাদের এই আচরণের অসংগতি তুলে ধরে তাসনিম জারা প্রশ্ন করেন, ‘বিরোধী দলে থাকতেই যদি একজন মৃত ব্যক্তিকে তাঁর নিজের বসতভিটায় দাফনে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা তাঁদের হাতে গেলে তাঁরা কী করবেন?’

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, সেনা মোতায়েন চায় জামায়াত

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, সেনা মোতায়েন চায় জামায়াত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণের দাবিও জানিয়েছে দলটি…

সীমান্ত দিয়ে টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন—সরকারকে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

সীমান্ত দিয়ে টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন—সরকারকে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে—সরকারের এমন অভিযোগের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করছি। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে, এই টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন? ওপার থেকে অস্ত্র ও মাদক আসে কেন? যে সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঠেকানোর যোগ্যতা নেই

জনপ্রিয় টার্গেট

পুলিশ সদর দপ্তরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন আইজিপির

‘বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের ক্ষমতায় গেলে কী করবেন?’

প্রকাশ: ১০:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

মানিক পশারীর মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে সোমবার নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা লেখেন তাসনিম জারা।

পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী মারা যান। এরপর তাঁর পরিবারকে সারা দিন মরদেহ নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়। স্থানীয় জামায়াতের নেতা কর্মীরা মিছিল করে এবং মাইক ও ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে তাঁকে পিরোজপুরে দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে জানান।

তাসনিম জারা লেখেন, মানিক পশারীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে বাড়িতে একটি কবর খোঁড়া হয়েছিল। পরে কিছু মানুষ এসে সেটি ভরাট করে দেন বলে তাঁর মেয়ে সীমু আক্তার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এরপর ফুফুদের নিয়ে নতুন করে কবর খোঁড়েন সীমু। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় কবর খুঁড়তে অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত ব্যক্তির মেয়ে ও বোনদেরই কবর খুঁড়তে হয়।

পোস্টে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা এই নেত্রী আরও লেখেন, শেষ পর্যন্ত মাঝরাতের পর পুলিশ পাহারায় ওই কবরে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। প্রশাসনের লোকজন ছাড়া পরিবারের বাইরের আর কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

তাসনিম জারা বলেন, মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, সেই প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। তবে তা যাচাই করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, জামায়াতের নেতা কর্মীরা সেই প্রশ্নের মীমাংসা করতে চেয়েছেন দাফন ঠেকিয়ে এবং মাইক হাতে নিয়ে।

মৃত ব্যক্তির জানাজার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার প্রচলিত রীতির কথা উল্লেখ করে তাসনিম জারা লেখেন, মৃত্যুর পর মানুষের সব হিসাব-নিকাশ শেষ হয়ে যায়। যা বাকি থাকে, তার বিচার আল্লাহর হাতে। কিন্তু মানিক পশারীর ক্ষেত্রে তাঁর নিজের গ্রামে জানাজা পর্যন্ত হয়নি। গ্রামের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগও পায়নি তাঁর পরিবার।

পোস্টে জামায়াতের নেতা কর্মীদের আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাঁদের বক্তব্য এমন ছিল, যেন দেশের মাটির মালিকানা তাঁদের নামে লেখা এবং একজন মানুষ নিজের পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত হতে পারবেন কি না, সেই অনুমতিও তাঁদের কাছ থেকে নিতে হবে।

তাসনিম জারা আরও লেখেন, একসময় জামায়াত-শিবিরের নেতা কর্মীদের উদ্দেশে ‘রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’—এ ধরনের কথা বলা হতো। এমন বক্তব্য অন্যায়, তা তাঁদের জানার কথা। কিন্তু ক্ষমতা কিছুটা হাতে আসতেই তাঁরা সেই অন্যায় ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

১৯৭১ সালে জামায়াত দল হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, সেই দলের নেতা কর্মীরা এখন ঠিক করে দিতে চাইছেন কে মুক্তিযোদ্ধা, কে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন এবং কার কবর কোথায় হবে।

জামায়াতের ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মানবিক মর্যাদার বক্তব্যের সঙ্গে তাদের এই আচরণের অসংগতি তুলে ধরে তাসনিম জারা প্রশ্ন করেন, ‘বিরোধী দলে থাকতেই যদি একজন মৃত ব্যক্তিকে তাঁর নিজের বসতভিটায় দাফনে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা তাঁদের হাতে গেলে তাঁরা কী করবেন?’

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, সেনা মোতায়েন চায় জামায়াত

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, সেনা মোতায়েন চায় জামায়াত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণের দাবিও জানিয়েছে দলটি…

সীমান্ত দিয়ে টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন—সরকারকে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

সীমান্ত দিয়ে টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন—সরকারকে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে—সরকারের এমন অভিযোগের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করছি। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে, এই টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন? ওপার থেকে অস্ত্র ও মাদক আসে কেন? যে সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঠেকানোর যোগ্যতা নেই