বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনায় হাসনাত

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:১৭:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত হয়েছে

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ছয় মাসের সময়সীমা দেওয়ার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। সংকট নিরসনে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এনসিপির পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ইতোমধ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে।

হাসনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সংকট মোকাবিলায় মোট ১৫টি প্রস্তাব দিয়েছেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে পাঁচটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে, ছয়টি ৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এবং চারটি দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

আগে দেওয়া পরিকল্পনা বিবেচনার আহ্বান

হাসনাত বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলোতে সমস্যার কারণ এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথ আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার মতো বিষয়ও এতে রয়েছে বলে জানান তিনি।

তার দাবি, এসব প্রস্তাব বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পাশাপাশি সেমিনার ও আলোচনাতেও এসেছে। এরপরও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচিত না হওয়ায় তিনি প্রশ্ন তোলেন।

সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে বড় একটি টিম থাকার কথা উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, এতজন নীতিনির্ধারকের মধ্যেও নাগরিক সমাজ কিংবা বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি।

সরকারের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির এই নেতা। তার অভিযোগ, প্রশাসনে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও কাজের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাসনাতের দাবি, এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি সংগ্রহ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিতে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়েও যথেষ্ট প্রস্তুতি নেই।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতে ভর্তুকি কমানো হলেও ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়টি বহাল রাখার সমালোচনাও করেন তিনি।

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত বলেন, ওই ঘটনার পেছনে রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটি অবহেলা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি দ্রুত কার্যকরের দাবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ দিতে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন হাসনাত।

তিনি বলেন, ডলার সংকট ও বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই নীতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

হাসনাতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নীতিটি বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারিত হবে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) বিষয়টি অবহিত করা হবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডেও দেওয়া যাবে।

তার দাবি, এই ব্যবস্থায় সরকারের কোষাগার থেকে সরাসরি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না। নীতিটি বাস্তবায়নের জন্য মূলত চুক্তির কাঠামো ও বিদ্যুৎ সঞ্চালনের হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করাই বাকি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষ সংসদীয় অধিবেশনের আহ্বান

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং সমাধানের পথ খুঁজতে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আয়োজনের বিরোধী দলের দাবির প্রতিও সরকারের ইতিবাচক সাড়া দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন হাসনাত।

তার মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতের সংকট নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদীয় পর্যায়ে সরাসরি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংকটের কারণ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি।

ছয় মাসের সময়সীমা নিয়ে কঠোর বার্তা

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ছয় মাসের সময়সীমাকে নিজেরা গ্রহণ করেছেন জানিয়ে হাসনাত বলেন, এই সময়ের মধ্যে সংকট মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান তারা।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সমাধানের প্রস্তাব আগেই দেওয়া হয়েছে। এখন সেগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। ছয় মাস পর দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না, জনগণ সেটির হিসাব চাইবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের কাছে বিরোধী দলের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার চেয়ে নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ এমন মতও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা।

সবশেষে হাসনাতের বক্তব্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা বিরোধী দলের কাছে রয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরকারের হাতে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন মূল বিষয়।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনায় হাসনাত

প্রকাশ: ০১:১৭:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ছয় মাসের সময়সীমা দেওয়ার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। সংকট নিরসনে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এনসিপির পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ইতোমধ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে।

হাসনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সংকট মোকাবিলায় মোট ১৫টি প্রস্তাব দিয়েছেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে পাঁচটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে, ছয়টি ৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এবং চারটি দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

আগে দেওয়া পরিকল্পনা বিবেচনার আহ্বান

হাসনাত বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলোতে সমস্যার কারণ এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথ আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার মতো বিষয়ও এতে রয়েছে বলে জানান তিনি।

তার দাবি, এসব প্রস্তাব বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পাশাপাশি সেমিনার ও আলোচনাতেও এসেছে। এরপরও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচিত না হওয়ায় তিনি প্রশ্ন তোলেন।

সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে বড় একটি টিম থাকার কথা উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, এতজন নীতিনির্ধারকের মধ্যেও নাগরিক সমাজ কিংবা বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি।

সরকারের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির এই নেতা। তার অভিযোগ, প্রশাসনে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও কাজের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাসনাতের দাবি, এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি সংগ্রহ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিতে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়েও যথেষ্ট প্রস্তুতি নেই।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতে ভর্তুকি কমানো হলেও ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়টি বহাল রাখার সমালোচনাও করেন তিনি।

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত বলেন, ওই ঘটনার পেছনে রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটি অবহেলা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি দ্রুত কার্যকরের দাবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ দিতে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন হাসনাত।

তিনি বলেন, ডলার সংকট ও বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই নীতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

হাসনাতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নীতিটি বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারিত হবে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) বিষয়টি অবহিত করা হবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডেও দেওয়া যাবে।

তার দাবি, এই ব্যবস্থায় সরকারের কোষাগার থেকে সরাসরি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না। নীতিটি বাস্তবায়নের জন্য মূলত চুক্তির কাঠামো ও বিদ্যুৎ সঞ্চালনের হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করাই বাকি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষ সংসদীয় অধিবেশনের আহ্বান

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং সমাধানের পথ খুঁজতে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আয়োজনের বিরোধী দলের দাবির প্রতিও সরকারের ইতিবাচক সাড়া দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন হাসনাত।

তার মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতের সংকট নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদীয় পর্যায়ে সরাসরি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংকটের কারণ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি।

ছয় মাসের সময়সীমা নিয়ে কঠোর বার্তা

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ছয় মাসের সময়সীমাকে নিজেরা গ্রহণ করেছেন জানিয়ে হাসনাত বলেন, এই সময়ের মধ্যে সংকট মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান তারা।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সমাধানের প্রস্তাব আগেই দেওয়া হয়েছে। এখন সেগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। ছয় মাস পর দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না, জনগণ সেটির হিসাব চাইবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের কাছে বিরোধী দলের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার চেয়ে নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ এমন মতও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা।

সবশেষে হাসনাতের বক্তব্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা বিরোধী দলের কাছে রয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরকারের হাতে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন মূল বিষয়।