প্রকল্প শেষে সংকটে আরবান স্বাস্থ্যকর্মীরা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:২৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ৩৪০ বার পঠিত হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

দেশব্যাপী পরিচালিত আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার (ইউপিএইচসি) প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর্মরত হাজারো স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অভিযোগ, প্রকল্প-পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করেই কয়েকটি বাস্তবায়নকারী এনজিও একের পর এক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার ফলে তারা অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও মানসিক চাপে পড়েছেন।

ভুক্তভোগী কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাসের বেতন বকেয়া থাকায় অনেকেই পরিবার নিয়ে কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। একই সময়ে নতুন নিয়োগপত্র বা সুস্পষ্ট নীতিমালা ছাড়াই বিভিন্ন জেলায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মতামতও নেওয়া হচ্ছে না।

একাধিক কর্মী অভিযোগ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশ না হলেও কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের পদত্যাগপত্র জমা দিতে মৌখিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা কর্মীদের সরিয়ে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কর্মীদের প্রশ্ন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের নিয়োগ বা বদলির ভিত্তি কী তা তাদের জানানো হচ্ছে না।

স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি অংশের দাবি, কয়েকটি এনজিও কর্মীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের আয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাসিক চার লাখ টাকার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে বেতন কর্তনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এমন চাপ অব্যাহত থাকলে রোগীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বোঝা সৃষ্টি হতে পারে এবং সেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

এছাড়া সরকার স্বাস্থ্যসেবায় ভর্তুকিনির্ভর কার্যক্রম জোরদারের কথা বললেও কিছু বাস্তবায়নকারী সংস্থা ৫০-৫০ ব্যয় মডেল চালুর প্রস্তাব দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কর্মীরা। তাদের মতে, এমন ব্যবস্থা কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।

কয়েকজন কর্মী জানান, কিছু এনজিও প্রধান তাদের বলেছেন যে ভবিষ্যতে পুরো আরবান স্বাস্থ্য কার্যক্রম এনজিওগুলোর অধীনেই পরিচালিত হবে। তবে এ বিষয়ে সরকারি কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো প্রকাশ না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

শ্রম ও প্রশাসনিক বিধিমালা অনুযায়ী চাকরিসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, বদলি এবং বেতন পরিশোধ নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞদের মতে, যদি কোনো কর্মীকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, বিতর্কিত বদলি ও ছাঁটাই কার্যক্রম স্থগিত, পদত্যাগে চাপ বন্ধ এবং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিও ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রকল্প শেষে সংকটে আরবান স্বাস্থ্যকর্মীরা

প্রকাশ: ০৫:২৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

দেশব্যাপী পরিচালিত আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার (ইউপিএইচসি) প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর্মরত হাজারো স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অভিযোগ, প্রকল্প-পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করেই কয়েকটি বাস্তবায়নকারী এনজিও একের পর এক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার ফলে তারা অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও মানসিক চাপে পড়েছেন।

ভুক্তভোগী কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাসের বেতন বকেয়া থাকায় অনেকেই পরিবার নিয়ে কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। একই সময়ে নতুন নিয়োগপত্র বা সুস্পষ্ট নীতিমালা ছাড়াই বিভিন্ন জেলায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মতামতও নেওয়া হচ্ছে না।

একাধিক কর্মী অভিযোগ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশ না হলেও কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের পদত্যাগপত্র জমা দিতে মৌখিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা কর্মীদের সরিয়ে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কর্মীদের প্রশ্ন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের নিয়োগ বা বদলির ভিত্তি কী তা তাদের জানানো হচ্ছে না।

স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি অংশের দাবি, কয়েকটি এনজিও কর্মীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের আয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাসিক চার লাখ টাকার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে বেতন কর্তনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এমন চাপ অব্যাহত থাকলে রোগীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বোঝা সৃষ্টি হতে পারে এবং সেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

এছাড়া সরকার স্বাস্থ্যসেবায় ভর্তুকিনির্ভর কার্যক্রম জোরদারের কথা বললেও কিছু বাস্তবায়নকারী সংস্থা ৫০-৫০ ব্যয় মডেল চালুর প্রস্তাব দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কর্মীরা। তাদের মতে, এমন ব্যবস্থা কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।

কয়েকজন কর্মী জানান, কিছু এনজিও প্রধান তাদের বলেছেন যে ভবিষ্যতে পুরো আরবান স্বাস্থ্য কার্যক্রম এনজিওগুলোর অধীনেই পরিচালিত হবে। তবে এ বিষয়ে সরকারি কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো প্রকাশ না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

শ্রম ও প্রশাসনিক বিধিমালা অনুযায়ী চাকরিসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, বদলি এবং বেতন পরিশোধ নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞদের মতে, যদি কোনো কর্মীকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, বিতর্কিত বদলি ও ছাঁটাই কার্যক্রম স্থগিত, পদত্যাগে চাপ বন্ধ এবং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিও ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।