জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে পূরণ হলো। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ প্রতীক তালিকায় যুক্ত হয়েছে ‘শাপলা কলি’ যা দলটির রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠছে

‘শাপলা কলি’ যুক্ত হলো নির্বাচনী প্রতীকে, এনসিপির দীর্ঘ দাবির অবসান

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৮৯ বার পঠিত হয়েছে

শাপলা কলি

দীর্ঘদিনের জটিলতা শেষে অবশেষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নতুন প্রতীকের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ‘শাপলা কলি’। বৃহস্পতিবার কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। এতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য হালনাগাদ প্রতীক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বেশ কিছু পুরোনো প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি নতুন প্রতীক যুক্ত করা হয়েছে।

এই নতুন সংযোজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র দীর্ঘদিনের দাবির সফল পরিসমাপ্তি ঘটল। দলটি তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ দাবি করে আসছিল, যা এতদিন ইসির তালিকায় না থাকায় অনুমোদন পায়নি।

ইসির পূর্ববর্তী অবস্থান ও নতুন পরিবর্তন

গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতীক তালিকায় মোট ১১৫টি প্রতীক সংরক্ষিত ছিল। সেই তালিকায় ‘শাপলা’ বা ‘শাপলা কলি’ ছিল না। ফলে তখন ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন—তালিকাভুক্ত না থাকায় ওই প্রতীক কোনো দলকে দেওয়া সম্ভব নয়।
তবে সর্বশেষ পর্যালোচনায় ইসি তালিকায় পরিবর্তন এনে ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করেছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে এবং নির্বাচনী পরিবেশ বিবেচনা করে তালিকা সংশোধন করা হয়েছে।

এনসিপির প্রতিক্রিয়া

গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র ও তরুণ নেতৃত্বের উদ্যোগে গঠিত এনসিপি কয়েক মাস আগে ইসির মূল্যায়নে নিবন্ধনযোগ্য দল হিসেবে বিবেচিত হয়। নিবন্ধনের পর থেকেই দলটির নেতারা ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
দলের উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সম্প্রতি বলেছিলেন, “আইনগত কোনো বাধা না থাকায় আমরা আমাদের প্রতীক আদায় করবই।” তাদের এই অবস্থানের পর কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, ‘শাপলা কলি’ প্রতীক যুক্ত হওয়া শুধু একটি প্রতীক পরিবর্তন নয়—এটি নবগঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রতীক মানে শুধু পরিচয়ের চিহ্ন নয়, বরং ভোটারদের কাছে একটি দলীয় মানসিক সংযোগও তৈরি করে।
এই প্রতীক যুক্ত হওয়ার ফলে এনসিপি এখন আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে পারবে।

ইসির নতুন সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে, প্রতীকের তালিকা সময় ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে পরিবর্তনশীল হতে পারে। ‘শাপলা কলি’ যুক্ত হওয়ায় এনসিপির প্রতীক সংকটের সমাধান ঘটেছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রতীককে ঘিরে দলটি কেমন জনসমর্থন তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন প্রতীক কতটা আলোড়ন সৃষ্টি করে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে পূরণ হলো। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ প্রতীক তালিকায় যুক্ত হয়েছে ‘শাপলা কলি’ যা দলটির রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠছে

‘শাপলা কলি’ যুক্ত হলো নির্বাচনী প্রতীকে, এনসিপির দীর্ঘ দাবির অবসান

প্রকাশ: ০৫:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

দীর্ঘদিনের জটিলতা শেষে অবশেষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নতুন প্রতীকের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ‘শাপলা কলি’। বৃহস্পতিবার কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। এতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য হালনাগাদ প্রতীক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বেশ কিছু পুরোনো প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি নতুন প্রতীক যুক্ত করা হয়েছে।

এই নতুন সংযোজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র দীর্ঘদিনের দাবির সফল পরিসমাপ্তি ঘটল। দলটি তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ দাবি করে আসছিল, যা এতদিন ইসির তালিকায় না থাকায় অনুমোদন পায়নি।

ইসির পূর্ববর্তী অবস্থান ও নতুন পরিবর্তন

গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতীক তালিকায় মোট ১১৫টি প্রতীক সংরক্ষিত ছিল। সেই তালিকায় ‘শাপলা’ বা ‘শাপলা কলি’ ছিল না। ফলে তখন ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন—তালিকাভুক্ত না থাকায় ওই প্রতীক কোনো দলকে দেওয়া সম্ভব নয়।
তবে সর্বশেষ পর্যালোচনায় ইসি তালিকায় পরিবর্তন এনে ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করেছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে এবং নির্বাচনী পরিবেশ বিবেচনা করে তালিকা সংশোধন করা হয়েছে।

এনসিপির প্রতিক্রিয়া

গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র ও তরুণ নেতৃত্বের উদ্যোগে গঠিত এনসিপি কয়েক মাস আগে ইসির মূল্যায়নে নিবন্ধনযোগ্য দল হিসেবে বিবেচিত হয়। নিবন্ধনের পর থেকেই দলটির নেতারা ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
দলের উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সম্প্রতি বলেছিলেন, “আইনগত কোনো বাধা না থাকায় আমরা আমাদের প্রতীক আদায় করবই।” তাদের এই অবস্থানের পর কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, ‘শাপলা কলি’ প্রতীক যুক্ত হওয়া শুধু একটি প্রতীক পরিবর্তন নয়—এটি নবগঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রতীক মানে শুধু পরিচয়ের চিহ্ন নয়, বরং ভোটারদের কাছে একটি দলীয় মানসিক সংযোগও তৈরি করে।
এই প্রতীক যুক্ত হওয়ার ফলে এনসিপি এখন আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে পারবে।

ইসির নতুন সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে, প্রতীকের তালিকা সময় ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে পরিবর্তনশীল হতে পারে। ‘শাপলা কলি’ যুক্ত হওয়ায় এনসিপির প্রতীক সংকটের সমাধান ঘটেছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রতীককে ঘিরে দলটি কেমন জনসমর্থন তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন প্রতীক কতটা আলোড়ন সৃষ্টি করে।