উঠেছে ‘সহজ’-এর বিরুদ্ধেও অভিযোগ—৮ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব কম জমা দেওয়া এবং সিস্টেম অকার্যকর থাকার জরিমানা বাবদ ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা না দেওয়া।
সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে কয়েক বছর আগে সরকার রেলওয়েতে অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট কাটার ব্যবস্থা করে। এরপরেও মানুষ অনলাইনে টিকিট পেত না। আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট পাওয়া যেত না। অনলাইনে সেটা চলে গেলে নতুন এক সংকটের সৃষ্টি হয়।
এ ধরনের অপরাধ, কারসাজি ও রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে সর্বাগ্রে অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ডের ওপর রেলওয়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বেসরকারি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’-এর কর্মীদের শুধু কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। টিকিট বিক্রি, আসন ব্লক করা বা কোটা সমন্বয়ের মতো কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতায় তাদের প্রবেশাধিকার অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে। প্রতিটি অ্যাডমিন অ্যাকাউন্টের গতিবিধি ট্র্যাক করার জন্য একটি কার্যকর ও স্বচ্ছ অডিট লগ বা অ্যাকটিভিটি লগ সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে টিকিট ব্লক করা বা কোটা পরিবর্তনের মতো যেকোনো পদক্ষেপ কার দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়।
এ ছাড়া অডিটে উঠে আসা কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি রাজস্ব ঘাটতি পুনরুদ্ধারে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। সহজকে বাদ দিয়ে দক্ষ লোক নিয়োগের মাধ্যমে রেলওয়ের নিজস্ব আইটি বিভাগ চালু করা গেলে এ ধরনের অপরাধ যেমন প্রতিরোধ করা যাবে, তেমনি রেলওয়ে আর্থিকভাবে আয় করতে পারবে। শুধু পদচ্যুত বা জরিমানা করলেই হবে না, এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে সহজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো ও স্বচ্ছতা আনা; কিন্তু সঠিক জবাবদিহি না থাকলে প্রযুক্তি যে দুর্নীতি ও বৈষম্যের নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, এই অডিট প্রতিবেদন তারই প্রমাণ। যাত্রী অধিকার রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রুখতে দ্রুততম সময়ে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করে টিকিটিং ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা জরুরি দরকার।
দৈনিক টার্গেট 





















