সব কৃত্রিম স্থান আবার বেআইনি বা অপ্রিয় নয়। যেমন ভ্যারোনা ও জুলিয়েটের বারান্দা। শেক্সপিয়ারের কাল্পনিক চরিত্র জুলিয়েট ক্যাপিউলেটের স্মরণে ইতালির ভ্যারোনা শহরে একটি ঐতিহাসিক ব্যালকনি স্থাপন করা হয়েছে। এই বারান্দাটির কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। শেক্সপিয়ার কখনো ভেরোনা শহরে যাননি। এটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক হলেও ইতালির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রেমপত্র টাঙানো এবং সৌভাগ্যের আশায় জুলিয়েটের মূর্তিতে স্পর্শ করার জন্য প্রতিদিন হাজারো রোমান্টিক পর্যটক এখানে ভিড় জমান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত কুখ্যাত ‘ডেথ রেলওয়ে’ বাস্তবেই নির্মিত হয়েছিল। তবে ১৯৫৭ সালের বিখ্যাত চলচ্চিত্রের কারণে পর্যটকেরা যখন ‘কাওয়াই নদী’ খুঁজতে আসেন, তখন থাই সরকার ‘মে ক্লং’ নদীর অংশটির নাম বদলে ‘কাওয়াই ইয়াই’ রেখে দেয়। স্থানটি ভুল হলেও ক্যানচানাবুরির এই এলাকাটির ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক গুরুত্ব এখনো অতুলনীয়।
পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের সীমান্ত অতিক্রমের ঐতিহাসিক স্থান চেকপয়েন্ট চার্লি। জায়গাটি সত্য হলেও, বর্তমানে সেখানে থাকা বুথ, বালুর বস্তা এবং সেনার পোশাকে থাকা অভিনেতারা সম্পূর্ণ নতুনভাবে কৃত্রিমভাবে তৈরি। মূল স্মৃতিচিহ্নের স্মারক বদলে এটি এখন ক্যাফে, স্যুভেনির শপ এবং ছবি তোলার জায়গায় পরিণত হয়েছে। এদিকে জার্মানির ড্রেসডেনে ১৭৪৩ সালের ঐতিহাসিক চালচিত্রের মতো দেখতে ফ্রাউয়েনকির্চে গির্জা। ১৯৪৫ সালে মিত্রবাহিনীর বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে যায় এই গির্জা। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপ হয়ে থাকার পর ২০০৫ সালে এটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়। ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে কৃত্রিম হলেও জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ ও মানবাধিকার আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবে স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: সিএনএন, দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড

দৈনিক টার্গেট 


























