রুনা লায়লা ও বাপ্পা মজুমদারের প্রথম দ্বৈত গজল ‘অনায়াসে’ আসছে ১৬ মে
বাংলা সংগীতের দুই ভিন্ন প্রজন্মের দুই জনপ্রিয় তারকা-রুনা লায়লা ও বাপ্পা মজুমদার প্রথমবারের মতো একসঙ্গে গাইতে যাচ্ছেন একটি বিশেষ গান, যা তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ‘বাংলা গজল’ ঘরানায়। এই অনন্য কোলাবরেশনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সংগীতাঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল।
গানটির শিরোনাম ‘অনায়াসে’। এর কথা লিখেছেন সৈয়দ গালিব হাসান। শুরুতে এটি একক কণ্ঠে রুনা লায়লার গাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে বাপ্পা মজুমদারের সুর ও সংগীতায়োজন শুনে তিনি গানটিকে দ্বৈত কণ্ঠে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় বিষয়টি প্রকাশ করেন রুনা লায়লা। তিনি জানান, বাপ্পা মজুমদারের সংগীত পরিচালনা তাকে এতটাই অনুপ্রাণিত করেছে যে, গানটি একসঙ্গে গাওয়াই বেশি উপযুক্ত মনে হয়েছে। তার ভাষায়, “বাপ্পা খুবই প্রতিভাবান একজন সুরকার ও সংগীতশিল্পী। তার কাজ আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাই আমরা দু’জন মিলে গানটি রেকর্ড করেছি।”
প্রায় এক বছর আগে ঢাকার বনানীতে বাপ্পা মজুমদারের স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন পর এই গানটি প্রকাশের সিদ্ধান্তে ভক্তদের মধ্যে ইতোমধ্যেই বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে বাপ্পা মজুমদার এই অভিজ্ঞতাকে নিজের জন্য অত্যন্ত বিশেষ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রুনা লায়লার মতো কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করা তার জীবনের একটি স্বপ্ন পূরণের মতো। তার মতে, এই কাজটি তার সংগীত জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
বাংলা ভাষায় গজল ঘরানার গান খুব বেশি দেখা যায় না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দুই প্রজন্মের দুই শক্তিশালী কণ্ঠের এই নতুন প্রয়াসকে একটি পরীক্ষামূলক এবং ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংগীতপ্রেমীদের ধারণা, এই গানটি বাংলা সংগীতের ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
গানটি আগামী ১৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এর আগে শিল্পীরা ভক্ত ও শ্রোতাদের কাছে দোয়া ও শুভকামনা চেয়েছেন, যেন তাদের এই নতুন প্রয়াস সফল হয় এবং শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, ‘অনায়াসে’ শুধু একটি গান নয়, বরং দুই ভিন্ন প্রজন্মের শিল্পীর সৃজনশীল মিলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাংলা সংগীত জগতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
