হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে পোস্ট, সাংবাদিককে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ‘অশালীন’ জবাব

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরের ভূঞাপুর প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম বাবুল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। পরে ওই পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিককে ‘বেয়াদব’, ‘ধান্দাবাজ’, ‘ভণ্ড’, ‘ছোটলোক’সহ বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ।

এ ঘটনায় ভূঞাপুর প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা নিন্দা জানিয়েছেন।

সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল তাঁর ফেসবুক পোস্টে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নজর না দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সভা ও মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। পাশাপাশি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে সময় কাটানোর অভিযোগও করেন তিনি।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা চরের মানুষ নিজেদের মেধা, পরিশ্রম আর যোগ্যতা দিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছি। ভূঞাপুরের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের চরের মানুষের। এই বেয়াদব, ছোটলোকগুলো কীভাবে চরের মানুষকে নিয়ে মন্তব্য করার সাহস পায়, আমার জানা নেই। চরের মানুষ হিসেবে আমি গর্বিত।’

একই পোস্টে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে আরও কয়েকটি আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেন এবং তাঁর অনুসারীদের ওই সাংবাদিকের পোস্টে গিয়ে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।

সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অশালীন ভাষায় ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। এটি সরকারি চাকরির আচরণবিধিরও লঙ্ঘন।’

ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা এবং প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কোনো সাংবাদিকের বক্তব্য বা তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তথ্য-প্রমাণসহ তার জবাব দেওয়া। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একজন সাংবাদিককে গালিগালাজ এবং সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। আমরা এর নিন্দা জানাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আবুল মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার কারণে মাঝেমধ্যে তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দিত। পাশাপাশি পরিবারে ছিল চরম অভাব-অনটন। একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও প্রায় পাঁচ বছর ধরে অসুস্থ থাকায় তিনি আর সেই কাজ করতে পারছিলেন না। পরে ধারদেনা করে বাড়ির সামনে একটি ছোট চায়ের দোকান দেন।

সকালে ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা ‘জে.আর পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ভাঙ্গা থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের পাশে থাকা পুকুরে গিয়ে পড়ে এবং ট্রাকটি রাস্তার ওপরেই উল্টে যায়।

পাসপোর্টের আবেদন, তথ্য সংশোধন, ছবি ও বায়োমেট্রিক গ্রহণসহ বিভিন্ন ধাপে গ্রহীতাদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া এবং টাকা দিলে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী দীনেশ ত্রিবেদী

হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে পোস্ট, সাংবাদিককে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ‘অশালীন’ জবাব

প্রকাশ: ০১:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরের ভূঞাপুর প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম বাবুল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। পরে ওই পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিককে ‘বেয়াদব’, ‘ধান্দাবাজ’, ‘ভণ্ড’, ‘ছোটলোক’সহ বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ।

এ ঘটনায় ভূঞাপুর প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা নিন্দা জানিয়েছেন।

সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল তাঁর ফেসবুক পোস্টে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নজর না দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সভা ও মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। পাশাপাশি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে সময় কাটানোর অভিযোগও করেন তিনি।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা চরের মানুষ নিজেদের মেধা, পরিশ্রম আর যোগ্যতা দিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছি। ভূঞাপুরের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের চরের মানুষের। এই বেয়াদব, ছোটলোকগুলো কীভাবে চরের মানুষকে নিয়ে মন্তব্য করার সাহস পায়, আমার জানা নেই। চরের মানুষ হিসেবে আমি গর্বিত।’

একই পোস্টে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে আরও কয়েকটি আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেন এবং তাঁর অনুসারীদের ওই সাংবাদিকের পোস্টে গিয়ে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।

সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অশালীন ভাষায় ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। এটি সরকারি চাকরির আচরণবিধিরও লঙ্ঘন।’

ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা এবং প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কোনো সাংবাদিকের বক্তব্য বা তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তথ্য-প্রমাণসহ তার জবাব দেওয়া। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একজন সাংবাদিককে গালিগালাজ এবং সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। আমরা এর নিন্দা জানাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আবুল মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার কারণে মাঝেমধ্যে তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দিত। পাশাপাশি পরিবারে ছিল চরম অভাব-অনটন। একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও প্রায় পাঁচ বছর ধরে অসুস্থ থাকায় তিনি আর সেই কাজ করতে পারছিলেন না। পরে ধারদেনা করে বাড়ির সামনে একটি ছোট চায়ের দোকান দেন।

সকালে ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা ‘জে.আর পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ভাঙ্গা থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের পাশে থাকা পুকুরে গিয়ে পড়ে এবং ট্রাকটি রাস্তার ওপরেই উল্টে যায়।

পাসপোর্টের আবেদন, তথ্য সংশোধন, ছবি ও বায়োমেট্রিক গ্রহণসহ বিভিন্ন ধাপে গ্রহীতাদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া এবং টাকা দিলে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।