আজ বুধবার দুপুরে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সায়্যেদুল মোফাচ্ছালিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান ও জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান। তাঁরা উপজেলা পরিষদের সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর আনোয়ার হোসেনের (খোকন) সম্পৃক্ততা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করবেন।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো প্রকল্পের কাজ না করেই এবং কিছু প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে কাগজপত্রে শতভাগ বাস্তবায়ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সিএ খোকন ও হোসেনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সহকারী হিসেবে পরিচিত হেলাল মিয়ার বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্যদের অনেকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন, প্রকল্পের নাম, বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁদের বিস্তারিত না জানিয়েই কাগজপত্রে সভাপতি দেখানো হয়েছে। তৎকালীন ইউএনওর প্রকল্পের কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে আগাম স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক নেওয়া হয়। পরে তাঁদের অজান্তে প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প ঘুরে কাজের বাস্তব অবস্থা ও নথিপত্রের মধ্যে অসংগতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের পেছনে সিসি ঢালাইয়ের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও কাজের সঙ্গে বরাদ্দের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্যের কার্যালয়ের টয়লেট সংস্কারে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের কথা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, টয়লেটটির অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। একই কার্যালয়ের আসবাব কেনার জন্য বরাদ্দ করা ৩ লাখ টাকার মধ্যে একটি টেবিল ও চেয়ার কিনতে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। আগের আসবাব ও এসিরও কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের টয়লেট সংস্কার ও যাতায়াতের রাস্তা সিসিকরণ প্রকল্পের কাজ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, টয়লেটটি জরাজীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন এবং রাস্তার সিসি ঢালাই প্রয়োজনের তুলনায় কম। ঘোড়াবান্ধা এলাকার হজরত আয়শা সিদ্দিকা (রা.) মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের জন্য বরাদ্দ করা ৩ লাখ টাকা কোন কাজে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা পরিষদের শিউলি ভবন সংস্কারকাজের মান ও ব্যয়ও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিজের মৎস্য প্রকল্পের পুকুর বিভাজনে বেলা সাইডিং নির্মাণের কাজে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করেছেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, একটি চক্র প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন ও বাস্তবায়নে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তে যাচাই করা হবে।
সদ্য বিদায়ী উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি ৮৫ শতাংশ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিল দিয়েছি। দাপ্তরিক কাজ ও সভায় ব্যস্ত থাকায় বাকি কাজগুলো পরিদর্শন করতে পারিনি।’ অভিযোগ ওঠা প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন এবং অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি। সংসদ সদস্যের কার্যালয়ে আগের চেয়ার-টেবিল, আসবাব ও এসির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পূর্বের ফার্নিচার এবং এসির কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।’
ইউএনও আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দৈনিক টার্গেট 






















