• লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাচ্ছেন পর্যটকরা।
• প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যটক এসেছেন, বলছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

দৈনিক টার্গেট • লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাচ্ছেন পর্যটকরা।
• প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যটক এসেছেন, বলছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে মৌলভীবাজারে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে। পূজার ছুটির পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছেন।
পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। এখানকার উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রগুলো হচ্ছে—কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, কমলগঞ্জে মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, চা-কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি, ডিনস্টন সিমেট্রি, হামহাম জলপ্রপাত, মণিপুরী পল্লী, হাকালুকি হাওর, মনু ব্যারাজ, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, ব্যক্তি মালিকানার সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা।
গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, টিকিট কেটে পর্যটকেরা মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করছেন। বনের চারপাশ খোলা থাকায় অনেক পর্যটক টিকিট ছাড়াও প্রবেশ করেছেন। পর্যটকেরা ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছ, রাস্তা ও রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। তবে লোকসমাগম বেশি হওয়ায় বনের নীরবতা বজায় থাকছে না।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে আসা লিপন আহমেদ বলেন, ‘আমরা চার বন্ধু এই উদ্যানে প্রথমবারের মতো ঘুরতে এসেছি। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ মনোমুগ্ধকর। তবে অতিরিক্ত পর্যটকের কারণে বনের নীরবতা অনুভব করা সম্ভব হচ্ছে না।’
খুলনা থেকে আসা রতন পাল বলেন, ‘বিভিন্ন ছুটিতে আমি পরিবার নিয়ে মৌলভীবাজার ঘুরতে আসি। এখানে একসঙ্গে অনেক পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়। বিশেষ করে এই সময়ে সবুজ চা-বাগান পর্যটকদের অনেক আকৃষ্ট করে।’
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা আবিদ চৌধুরী বলেন, ‘এক বছর পর আবার মৌলভীবাজারে এসেছি। এখানে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যি অসাধারণ। তবে এখানে একটি পর্যটনকেন্দ্র থেকে অন্য পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যবস্থা খুবই নাজুক।’
চট্টগ্রামের ইয়াসমিন জাহান বলেন, ‘পূজার ছুটিতে বাচ্চাকে নিয়ে দুদিনে জন্য আমরা ঘুরতে এসেছি। বিশেষ করে এই অঞ্চলে এলে একসঙ্গে অনেক কিছু দেখা যায়। চা-বাগান, লাউয়াছড়া, হাওর, জলপ্রপাতসহ বেশ কিছু জায়গা একদিনেই ঘুরে দেখা যায়। এখানে পর্যটনের অপর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পর্যটন ঘিরে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি।’
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ প্রাইভেট কার নিয়ে আবার কেউ দলবেঁধে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে শ্রীমঙ্গল শহরে যানজটের কারণে পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহার ৫ মাস পর পূজার এই ছুটিতে জেলায় আবার পর্যটকের আগমন ঘটেছে। জেলায় অন্তত ১০ হাজার পরিবার পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন ব্যবসা ভালো না হলে এসব পরিবারের মানুষকে কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করতে হয়।
টুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটক এসেছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আমরা সব সময় কাজ করছি।’

মৌলভীবাজার শহরে ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। যানজট নিরসন এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং রোধে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় ফুটপাত দখল করায় একটি প্রতিষ্ঠানকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শ্রীমঙ্গলে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জায়ান (৩) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা একই পরিবারের আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকার গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জায়ান (৩) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত জায়ান মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট এলাকার আব্দুল মুহিত দীপুর ছেলে।