প্রশাসনের সামনে সব হলেও দেখার কেউ নেই

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:১৩:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

তবে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এসব স্থাপনা কীভাবে এত দিন পরিচালিত হচ্ছে, আর তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো কেন ব্যবস্থা নেয়নি।

গতকাল শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিমিষেই পাকা পিলারের ভিতে দাঁড়ানো তিনতলা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি রিসোর্টটি পুড়ে যায়। এতে রিসোর্টটির ছয়টি কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা পর্যটক আটকা পড়ে। এদের মধ্যে ছয়জন বের হতে পারলেও ১০ জন পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়।

কাঠের তৈরি স্থাপনাটিতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, ফায়ার অ্যালার্ম ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা ছিল না বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, চলতি বছরের জুন মাসে পরিদর্শনের পর রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও প্রয়োজনীয় ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি চালু ছিল।

টুপটুপ রিসোর্টের পরিবেশগত ছাড়পত্রও নেই বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ জমির উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে এপ্রিল মাসে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশ না মানায় ১৩ মে তাদের ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকায় হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এসব স্থাপনা নির্মাণে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক), ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেই।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, সরকার ১৯৯৯ সালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন সৈকত এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকা ঘোষণা করেছে। কিন্তু ইসিএ আইন না মেনে এসব এলাকায় রাতারাতি রিসোর্টসহ নানা স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।

অন্যদিকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিধিনিষেধ আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। সেখানে পরিবেশ ধ্বংস করে শতাধিক রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি পরিবেশের ক্ষতি করে নির্মাণকাজ, প্রাকৃতিক পাথর সংগ্রহ ও ব্যবহারসহ নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন একাধিক অভিযান চালিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে দক্ষিণ সৈকতে একটি ইকো রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

এ ছাড়া মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে দুই-তিন বছর ধরে রাতারাতি ইকো রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এসব রিসোর্টেরও কোনো অনুমতি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় ১৪৫টি অনুমোদনবিহীন রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন স্থাপনা চিহ্নিত করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এসব স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘ইকো রিসোর্ট’ নাম ব্যবহার করলেই কোনো স্থাপনা পরিবেশবান্ধব বা বৈধ হয়ে যায় না। জমির অবস্থান, প্রকল্পের ধরন ও আয়তন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। একটি পাকা স্থাপনার নির্মাণে যেসব অনুমতি প্রয়োজন তা ইকো রিসোর্ট করতে প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতিভুক্ত ৬৮টি হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান। তিনি বলেন, সম্প্রতি রাতারাতি বেশ কয়েকটি রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এগুলো সমিতিভুক্ত নয়। এসব স্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় আছে।

দুর্ঘটনা ঘটার পরে রিসোর্টের বৈধতা নেই বলে প্রশাসন যেভাবে দায় এড়াতে চায় তা দায়িত্বশীলতা নয় বলে মনে করেন কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, এত মানুষের প্রাণহানির পর প্রশাসন জেগে উঠেছে। এটা সত্যি দুঃখজনক।

টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের নিহত ছয়জনের স্বজন আমিনুল ইসলাম। তিনি আজ রোববার কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নাকি প্রতিষ্ঠান চালানো হচ্ছিল। তা দুর্ঘটনার আগে কেন বন্ধ করল না প্রশাসন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহান বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন না নিয়ে গড়ে তোলা স্থাপনার বিরুদ্ধে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে রিসোর্টগুলো দ্রুত যাচাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: টয়লেটে জড়াজড়ি করে পড়ে ছিল দম্পতি ও দুই শিশুর দগ্ধ লাশ

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: টয়লেটে জড়াজড়ি করে পড়ে ছিল দম্পতি ও দুই শিশুর দগ্ধ লাশ

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে যশোরের মনিরামপুরের একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন মনিরামপুর হাসপাতাল মোড়সংলগ্ন মোহনপুর এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও…

রিসোর্টে আগুন: মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

রিসোর্টে আগুন: মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে ডিএনএ পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া মরদেহ, নিখোঁজ ব্যক্তি ও পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি নিয়ে যেন কোনো বিভ্রান্তি না থাকে, সে জন্য ডিএনএ পরীক্ষ

কক্সবাজারে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন আশিক

কক্সবাজারে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন আশিক

সকালে ঘুম থেকে উঠে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল আশিকুল ইসলাম (৩৫) ও তাঁর স্বজনদের। কিন্তু আশিক ও দুই স্বজন বেঁচে ফিরলেও তাঁদের ছয়জন সফরসঙ্গী পুড়ে অঙ্গার হয়ে ফিরছেন। তিন দিন আগে ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীর পশ্চিম নন্দীপাড়া থেকে আশিকুল ইসলাম স্ত্রী ও স্বজনদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।

জনপ্রিয় টার্গেট

প্রশাসনের সামনে সব হলেও দেখার কেউ নেই

প্রকাশ: ১২:১৩:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

তবে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এসব স্থাপনা কীভাবে এত দিন পরিচালিত হচ্ছে, আর তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো কেন ব্যবস্থা নেয়নি।

গতকাল শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিমিষেই পাকা পিলারের ভিতে দাঁড়ানো তিনতলা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি রিসোর্টটি পুড়ে যায়। এতে রিসোর্টটির ছয়টি কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা পর্যটক আটকা পড়ে। এদের মধ্যে ছয়জন বের হতে পারলেও ১০ জন পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়।

কাঠের তৈরি স্থাপনাটিতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, ফায়ার অ্যালার্ম ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা ছিল না বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, চলতি বছরের জুন মাসে পরিদর্শনের পর রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও প্রয়োজনীয় ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি চালু ছিল।

টুপটুপ রিসোর্টের পরিবেশগত ছাড়পত্রও নেই বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ জমির উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে এপ্রিল মাসে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশ না মানায় ১৩ মে তাদের ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকায় হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এসব স্থাপনা নির্মাণে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক), ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেই।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, সরকার ১৯৯৯ সালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন সৈকত এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকা ঘোষণা করেছে। কিন্তু ইসিএ আইন না মেনে এসব এলাকায় রাতারাতি রিসোর্টসহ নানা স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।

অন্যদিকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিধিনিষেধ আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। সেখানে পরিবেশ ধ্বংস করে শতাধিক রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি পরিবেশের ক্ষতি করে নির্মাণকাজ, প্রাকৃতিক পাথর সংগ্রহ ও ব্যবহারসহ নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন একাধিক অভিযান চালিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে দক্ষিণ সৈকতে একটি ইকো রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

এ ছাড়া মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে দুই-তিন বছর ধরে রাতারাতি ইকো রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এসব রিসোর্টেরও কোনো অনুমতি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় ১৪৫টি অনুমোদনবিহীন রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন স্থাপনা চিহ্নিত করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এসব স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘ইকো রিসোর্ট’ নাম ব্যবহার করলেই কোনো স্থাপনা পরিবেশবান্ধব বা বৈধ হয়ে যায় না। জমির অবস্থান, প্রকল্পের ধরন ও আয়তন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। একটি পাকা স্থাপনার নির্মাণে যেসব অনুমতি প্রয়োজন তা ইকো রিসোর্ট করতে প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতিভুক্ত ৬৮টি হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান। তিনি বলেন, সম্প্রতি রাতারাতি বেশ কয়েকটি রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এগুলো সমিতিভুক্ত নয়। এসব স্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় আছে।

দুর্ঘটনা ঘটার পরে রিসোর্টের বৈধতা নেই বলে প্রশাসন যেভাবে দায় এড়াতে চায় তা দায়িত্বশীলতা নয় বলে মনে করেন কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, এত মানুষের প্রাণহানির পর প্রশাসন জেগে উঠেছে। এটা সত্যি দুঃখজনক।

টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের নিহত ছয়জনের স্বজন আমিনুল ইসলাম। তিনি আজ রোববার কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নাকি প্রতিষ্ঠান চালানো হচ্ছিল। তা দুর্ঘটনার আগে কেন বন্ধ করল না প্রশাসন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহান বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন না নিয়ে গড়ে তোলা স্থাপনার বিরুদ্ধে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে রিসোর্টগুলো দ্রুত যাচাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: টয়লেটে জড়াজড়ি করে পড়ে ছিল দম্পতি ও দুই শিশুর দগ্ধ লাশ

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: টয়লেটে জড়াজড়ি করে পড়ে ছিল দম্পতি ও দুই শিশুর দগ্ধ লাশ

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে যশোরের মনিরামপুরের একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন মনিরামপুর হাসপাতাল মোড়সংলগ্ন মোহনপুর এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও…

রিসোর্টে আগুন: মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

রিসোর্টে আগুন: মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে ডিএনএ পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া মরদেহ, নিখোঁজ ব্যক্তি ও পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি নিয়ে যেন কোনো বিভ্রান্তি না থাকে, সে জন্য ডিএনএ পরীক্ষ

কক্সবাজারে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন আশিক

কক্সবাজারে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন আশিক

সকালে ঘুম থেকে উঠে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল আশিকুল ইসলাম (৩৫) ও তাঁর স্বজনদের। কিন্তু আশিক ও দুই স্বজন বেঁচে ফিরলেও তাঁদের ছয়জন সফরসঙ্গী পুড়ে অঙ্গার হয়ে ফিরছেন। তিন দিন আগে ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীর পশ্চিম নন্দীপাড়া থেকে আশিকুল ইসলাম স্ত্রী ও স্বজনদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।