বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট আমানতের ৬০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং ঋণের ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশই ঢাকা বিভাগে কেন্দ্রীভূত। চট্টগ্রাম বিভাগকে হিসাবে নিলে দুই বিভাগে দেশের মোট আমানতের ৮১ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং ঋণের প্রায় ৮৭ শতাংশ রয়েছে। এর বিপরীতে, ময়মনসিংহে মোট আমানতের মাত্র ১ দশমিক ৭১ শতাংশ জমা রয়েছে। আর সিলেটে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দেশের মোট ঋণের মাত্র ১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান ব্যাংকিং কার্যক্রমে অঞ্চলভেদে বৈষম্যের চিত্রই তুলে ধরে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জুন প্রান্তিকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই জমা রয়েছে ১৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা, যা দেশের মোট আমানতের ৬০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এ বিভাগে আমানত বেড়েছে ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আবার ঢাকা বিভাগের মোট আমানতের ৫৪ দশমিক ৯৮ শতাংশই এসেছে শহরাঞ্চল থেকে।
অন্যদিকে, একই সময়ে ব্যাংক খাতে মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ৮ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে বিতরণ করা হয়েছে ১২ লাখ ২৭ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। মোট ঋণের ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশই এ বিভাগে কেন্দ্রীভূত। অর্থাৎ দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্যাংকঋণ যাচ্ছে ঢাকা বিভাগে। অন্য অঞ্চলগুলোতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ এর তুলনায় অনেক কম।
আমানত ও ঋণ এ দুই ক্ষেত্রেই ঢাকার পর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। জুন শেষে এ বিভাগে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা, যা দেশের মোট আমানতের ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। একই সময়ে ঋণের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৪৬ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ১৪ শতাংশ। দুই বিভাগ মিলিয়ে দেশের মোট আমানতের ৮১ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং ঋণের ৮৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ কেন্দ্রীভূত।
বাকি বিভাগগুলোর চিত্র বেশ হতাশাজনক। খুলনা বিভাগে আমানতের পরিমাণ ৯৯ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা এবং ঋণের স্থিতি ৬৭ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। রাজশাহী বিভাগে আমানত ৯৪ হাজার ৩৭৫ কোটি এবং ঋণ ৬৬ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। সিলেট বিভাগে আমানত রয়েছে ৮৮ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা। তবে সেখানে ঋণের স্থিতি মাত্র ১৮ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা, যা দেশের মোট ঋণের ১ দশমিক ০৩ শতাংশ। অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগে আমানতের পরিমাণ সবচেয়ে কম, মোট আমানতের প্রায় ১ দশমিক ৭১ শতাংশ।
জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক হওয়ায় দেশে ভারসাম্যহীন উন্নয়ন তৈরি হচ্ছে। কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগের আশায় মানুষ এ দুই অঞ্চলে ছুটছে। এতে ঢাকায় জনসংখ্যার চাপ ও অচলাবস্থা বাড়ছে, অন্যদিকে অন্যান্য অঞ্চলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না।

দৈনিক টার্গেট 























