চা বিক্রেতার মেয়ের ডাক্তার হওয়ার লড়াই

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:৩১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ২৪৫ বার পঠিত হয়েছে

মাহমুদা খাতুন

রাজশাহীর তানোর উপজেলার একটি সাধারণ পরিবারের মেয়ে মাহমুদা খাতুন। বাবার ছোট্ট চায়ের দোকানের আয় আর সংসারের নিত্য অভাব-অনটনের মধ্যেই বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের জোরে এবার মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন এই শিক্ষার্থী। তবে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে তার পরিবারে অর্থাভাবে থমকে যেতে পারে ভবিষ্যতের সেই স্বপ্নযাত্রা।

তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদা। তার বাবা মাসুদ রানা স্থানীয়ভাবে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দৈনিক সীমিত আয়ে কোনো রকমে সংসার চলে তাদের। পরিবারের আরেক সদস্য ছোট বোন মিম খাতুন, যিনি বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল মাহমুদার। সেই আগ্রহই তাকে একের পর এক সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। ২০২৩ সালে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে সবার নজর কাড়েন তিনি। পরবর্তীতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে জামালপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।

কিন্তু মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পরই সামনে আসে কঠিন বাস্তবতা। বই কেনা, শিক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ, হোস্টেল ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণ উপকরণের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি। ভর্তি ফি পরিশোধের জন্যও ধার-দেনার আশ্রয় নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহমুদার বাবা।

মাসুদ রানা বলেন, মেয়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন। নিজের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। তবে মেডিকেল শিক্ষার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। সংসার চালানোর পর অতিরিক্ত অর্থ জোগাড় করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে মাহমুদার মা সায়েরা বিবি বলেন, তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পদ নেই। সামান্য জায়গার ওপর নির্মিত একটি সাধারণ বাড়িতেই বসবাস করেন তারা। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বর্তমানে মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে। মাহমুদা হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় বই ও শিক্ষাসামগ্রী না থাকায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। তারপরও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যেতে চান না তিনি।

মাহমুদা বলেন, চিকিৎসক হয়ে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। অর্থসংকটের কারণে সেই স্বপ্ন যেন মাঝপথে থেমে না যায়, সেটিই এখন তার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত মাহমুদা। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। তারা মনে করেন, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান জানান, বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র পেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি এমন মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

একজন চা বিক্রেতার মেয়ের মেডিকেল কলেজে পৌঁছানোর গল্প নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। এখন অপেক্ষা সমাজ ও রাষ্ট্রের সহযোগিতায় মাহমুদা তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন কি না।

চা বিক্রেতার মেয়ের ডাক্তার হওয়ার লড়াই

প্রকাশ: ১১:৩১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

রাজশাহীর তানোর উপজেলার একটি সাধারণ পরিবারের মেয়ে মাহমুদা খাতুন। বাবার ছোট্ট চায়ের দোকানের আয় আর সংসারের নিত্য অভাব-অনটনের মধ্যেই বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের জোরে এবার মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন এই শিক্ষার্থী। তবে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে তার পরিবারে অর্থাভাবে থমকে যেতে পারে ভবিষ্যতের সেই স্বপ্নযাত্রা।

তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদা। তার বাবা মাসুদ রানা স্থানীয়ভাবে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দৈনিক সীমিত আয়ে কোনো রকমে সংসার চলে তাদের। পরিবারের আরেক সদস্য ছোট বোন মিম খাতুন, যিনি বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল মাহমুদার। সেই আগ্রহই তাকে একের পর এক সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। ২০২৩ সালে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে সবার নজর কাড়েন তিনি। পরবর্তীতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে জামালপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।

কিন্তু মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পরই সামনে আসে কঠিন বাস্তবতা। বই কেনা, শিক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ, হোস্টেল ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণ উপকরণের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি। ভর্তি ফি পরিশোধের জন্যও ধার-দেনার আশ্রয় নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহমুদার বাবা।

মাসুদ রানা বলেন, মেয়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন। নিজের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। তবে মেডিকেল শিক্ষার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। সংসার চালানোর পর অতিরিক্ত অর্থ জোগাড় করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে মাহমুদার মা সায়েরা বিবি বলেন, তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পদ নেই। সামান্য জায়গার ওপর নির্মিত একটি সাধারণ বাড়িতেই বসবাস করেন তারা। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বর্তমানে মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে। মাহমুদা হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় বই ও শিক্ষাসামগ্রী না থাকায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। তারপরও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যেতে চান না তিনি।

মাহমুদা বলেন, চিকিৎসক হয়ে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। অর্থসংকটের কারণে সেই স্বপ্ন যেন মাঝপথে থেমে না যায়, সেটিই এখন তার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত মাহমুদা। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। তারা মনে করেন, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান জানান, বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র পেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি এমন মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

একজন চা বিক্রেতার মেয়ের মেডিকেল কলেজে পৌঁছানোর গল্প নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। এখন অপেক্ষা সমাজ ও রাষ্ট্রের সহযোগিতায় মাহমুদা তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন কি না।