বৃষ্টির পানি ও ভারী যানবাহনের কারণে ধানীখোলা সড়ক ধসে পড়েছে, চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ

ত্রিশালে ধানীখোলায় কার্পেটিং সড়ক নদীগর্ভে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:৩০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৫
  • ২৭৭ বার পঠিত হয়েছে

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্পেটিং সড়ক বৃষ্টির কারণে ধসে পড়তে শুরু করেছে। স্থানীয়রা জানান, সড়কটি ক্রমশ অব্যবহযোগ্য হয়ে উঠছে, যা ধীরে ধীরে যান চলাচলের সম্পূর্ণ ব্যাহত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

শিক্ষার্থীসহ হাজারো সাধারণ মানুষ এই সমস্যার কারণে দৈনন্দিন জীবনে চরম অসুবিধার মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় ভ্যানচালক জমসেদ মিয়া বলেন, “সড়ক ধসের কারণে গাড়ি ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। ভাঙা-গড়ার সমস্যার কারণে বেশি ভাড়া নেওয়া সম্ভব হয় না। রাতে চলাফেরায় আমরা বিপদের মুখোমুখি হই, কখন যে গাড়ি নদীতে পড়ে যাবে, তা বোঝা যায় না।”

প্রতি বৃষ্টির দিনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ দেখা যায়। ভারী মাছবাহী গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। কিছু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারলেও, যাত্রীদের মাঝে মাঝে গাড়ি ঠেলতে হয়।

ধানীখোলা ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়িয়া উপজেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই অভ্যন্তরীণ সড়কটি এলাকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন শতাধিক ব্যাটারিচালিত ভ্যান, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও মালবাহী যানবাহন এই রুট ব্যবহার করে। এক বছর আগে সড়কটি নতুনভাবে কার্পেটিং করা হয়েছিল, তবে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় উঁচু এলাকা থেকে বৃষ্টির পানি সরাসরি সড়কের নিচ দিয়ে নদীতে চলে যাচ্ছে, যার ফলে সড়ক ধসে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “অনেকদিন ধরে সড়ক ধসে যাচ্ছে, কিন্তু এখনো কেউ তা মেরামতের উদ্যোগ নেননি।” নিয়মিত যাত্রী শামসুল হক বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বৃষ্টির দিনে চলাচল আরও কষ্টকর হয়। রোগী নিয়ে চলাচলে ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। দ্রুত সড়ক মেরামতের দাবি জানাই।”

উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল্লাহ খন্দকার বলেন, “ইউএনও স্যারের সঙ্গে আমরা ধসে যাওয়া সড়ক পরিদর্শন করেছি। এখানে বৃষ্টির পানি সরানোর জন্য কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। তাই সড়কের নিচ দিয়ে পানি নদীতে চলে যাচ্ছে এবং সড়ক ধসে পড়ছে। দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী জানিয়েছেন, “ধসে যাওয়া সড়কের অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। মেরামতের জন্য এলজিইডিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সড়কটি পুনরায় মেরামত করা হবে।”

স্থানীয়দের মতে, সড়কটি দ্রুত মেরামত না করলে দৈনন্দিন যাতায়াত ও জরুরি সেবা সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেবে।

বৃষ্টির পানি ও ভারী যানবাহনের কারণে ধানীখোলা সড়ক ধসে পড়েছে, চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ

ত্রিশালে ধানীখোলায় কার্পেটিং সড়ক নদীগর্ভে

প্রকাশ: ০১:৩০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৫

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্পেটিং সড়ক বৃষ্টির কারণে ধসে পড়তে শুরু করেছে। স্থানীয়রা জানান, সড়কটি ক্রমশ অব্যবহযোগ্য হয়ে উঠছে, যা ধীরে ধীরে যান চলাচলের সম্পূর্ণ ব্যাহত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

শিক্ষার্থীসহ হাজারো সাধারণ মানুষ এই সমস্যার কারণে দৈনন্দিন জীবনে চরম অসুবিধার মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় ভ্যানচালক জমসেদ মিয়া বলেন, “সড়ক ধসের কারণে গাড়ি ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। ভাঙা-গড়ার সমস্যার কারণে বেশি ভাড়া নেওয়া সম্ভব হয় না। রাতে চলাফেরায় আমরা বিপদের মুখোমুখি হই, কখন যে গাড়ি নদীতে পড়ে যাবে, তা বোঝা যায় না।”

প্রতি বৃষ্টির দিনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ দেখা যায়। ভারী মাছবাহী গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। কিছু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারলেও, যাত্রীদের মাঝে মাঝে গাড়ি ঠেলতে হয়।

ধানীখোলা ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়িয়া উপজেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই অভ্যন্তরীণ সড়কটি এলাকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন শতাধিক ব্যাটারিচালিত ভ্যান, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও মালবাহী যানবাহন এই রুট ব্যবহার করে। এক বছর আগে সড়কটি নতুনভাবে কার্পেটিং করা হয়েছিল, তবে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় উঁচু এলাকা থেকে বৃষ্টির পানি সরাসরি সড়কের নিচ দিয়ে নদীতে চলে যাচ্ছে, যার ফলে সড়ক ধসে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “অনেকদিন ধরে সড়ক ধসে যাচ্ছে, কিন্তু এখনো কেউ তা মেরামতের উদ্যোগ নেননি।” নিয়মিত যাত্রী শামসুল হক বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বৃষ্টির দিনে চলাচল আরও কষ্টকর হয়। রোগী নিয়ে চলাচলে ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। দ্রুত সড়ক মেরামতের দাবি জানাই।”

উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল্লাহ খন্দকার বলেন, “ইউএনও স্যারের সঙ্গে আমরা ধসে যাওয়া সড়ক পরিদর্শন করেছি। এখানে বৃষ্টির পানি সরানোর জন্য কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। তাই সড়কের নিচ দিয়ে পানি নদীতে চলে যাচ্ছে এবং সড়ক ধসে পড়ছে। দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী জানিয়েছেন, “ধসে যাওয়া সড়কের অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। মেরামতের জন্য এলজিইডিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সড়কটি পুনরায় মেরামত করা হবে।”

স্থানীয়দের মতে, সড়কটি দ্রুত মেরামত না করলে দৈনন্দিন যাতায়াত ও জরুরি সেবা সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেবে।